লালমোহন উত্তর বাজার মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন || নেপথ্যে কি আড়াইকোটি টাকা!

লালমোহন উত্তর বাজার মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন || নেপথ্যে কি আড়াইকোটি টাকা!

লালমোহন নিউজ || লালমোহন উত্তর বাজার বাইতুর রেদওয়ান জামে মসজিদের কার্যনির্বাহী কমিটির অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থ লোপাটের কথিত আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক  কাল্পনিক মুসল্লির অভিযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মসজিদ কমিটি।

বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় মিথ্যা, বানোয়াট অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন  উত্তর বাজার বাইতুর রেদওয়ান জামে মসজিদের সভাপতি এড. আমিনুল ইসলাম ফিরোজ। এসময় সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য, ইমাম, মুয়াজ্জিনও উপস্থিত ছিলেন। রবিবার ৩ মে দুপুর ২ টায় লালমোহন প্রেসক্লাবে তারা এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

জানা গেছে, লালমোহন উত্তর বাজার বাইতুর রেদওয়ান জামে মসজিদের বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে কমিটির বাইরে একটি মহলের মধ্যে প্রলোভন সৃস্টি হয়। ওই টাকা তছরুপ করতে বর্তমান কমিটিকে নানাভাবে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তারা। অর্থ কেলেংকারীর কোন প্রমাণ না থাকলেও নির্মিত দান বাক্সের অতিরিক্ত ইট কর্তৃপক্ষের কাউকে না জানিয়ে নিজের বাসার কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া, রমজানের ইফতার নিয়ে যাওয়া, বিভিন্ন বাজার থেকে আসা দান বাক্সের টাকা আত্বসাত করা, মুয়াজ্জিন দিয়ে বাসায় কাজ করানো ইত্যাদি ক্ষুদ্র অভিযোগ এনে কমিটিকে বিতর্কিত করার চেস্টা করা হয়। বর্তমান কমিটি আসার পর প্রতিমাসে আয় ব্যয়ের হিসাব ফেসবুকে প্রকাশ করে আসছেন। গত মার্চ মাসে খরচ বাদ দিয়ে মসজিদের আয় জমা রয়েছে ২ কোটি, ৭২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৯৯১ টাকা। এপ্রিল মাসে দান বাক্স থেকে টাকা জমা হয়েছে মোট ৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ৪৯৭ টাকা। এসব টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা হয় নিয়মিত। 

সভাপতি আমিনুল ইসলাম ফিরোজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মসজিদের সকল উন্নয়নের কাজ মসজিদ কমিটির সাধারণ সভা ডেকে স্ব স্ব উপকমিটিকে দায়িত্ব অর্পন করে রেজুলেশনের মাধ্যমে পাস করে কাজ করা হয়। আমাদের মসজিদের কমিটির বিরুদ্ধে দায়িত্ব দখলের যে অভিযোগ এসেছে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। মাননীয় স্পিকার মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট বর্তমান কমিটিকে যাচাই বাচাই করে অনুমোদন দেন। তবে মসজিদের কাজে যে সকল অর্থ ব্যয় করা হয় মসজিদ কমিটি রেজুলেশন করে ওই সকল টাকায় মালামাল ক্রয় করেন। 

মসজিদ কমিটির সভাপতি জানান, মসজিদের খরচের ব্যাপারে কমিটির সদস্যদের রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং যথাযথ ভাউচার গ্রহণ করা হয়। এখানে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সবকিছু করা হয়। কোন সদস্য ইচ্ছা করলেই মনমতো কিছু করতে পারে না। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর মসজিদের টাকা জমার পরিমান বেড়েছে। সমজিদের সব টাকা আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। এখানে বিন্দুমাত্র অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন মতিন, কামাল ইঞ্জিনিয়ার, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, শাহাবুদ্দিন শেখ, কোষাধ্যক্ষ সিরাজ মেলেটারী, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বাইতুর রেদোয়ান জামে মসজিদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যবৃন্দ।