সাদা-নীলের শুভ্রতায় লালমোহনে এসএসসি ’৯৩ ও ’৯৯ ব্যাচের প্রাণবন্ত ঈদ মিলনমেলা
মোঃ জসিম জনি ।।
সাদা আর নীলের শুভ্রতায় মোড়ানো প্রশান্ত আবহে লালমোহন যেন ফিরে গিয়েছিলো পুরোনো দিনের সেই সোনালি স্মৃতিতে। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্ব, স্কুলজীবনের হাসি-কান্না আর একসাথে কাটানো অগণিত মুহূর্ত যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল এসএসসি ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ ব্যাচের ঈদ মিলনমেলার আয়োজনে। ভালোবাসা, আন্তরিকতা আর বন্ধনের উষ্ণতায় ভরপুর এই আয়োজন হয়ে উঠেছিলো অনন্য মিলনমেলা, যেখানে অতীত আর বর্তমান মিলেমিশে তৈরি করেছিলো আবেগঘন এক পরিবেশ।
এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের বন্ধুরা এবারের আয়োজনকে দিয়েছেন এক ভিন্নমাত্রা। নিয়মিত পুনর্মিলনীর ধারাবাহিকতায় এবারই প্রথম তারা আয়োজন করেন একটি ফ্যামিলি গেটটুগেদার। ২২ মার্চ, ঈদের পরদিন, লালমোহনের বিএফজি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দিনব্যাপী এ আয়োজন যেন হয়ে ওঠে আনন্দের এক রঙিন উৎসব। শুধু বন্ধুরাই নন, তাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানেরাও অংশ নেন এই মিলনমেলায়, ফলে অনুষ্ঠানটি পায় আরও প্রাণবন্ত ও পারিবারিক রূপ।
শিশুদের হাসি, পরিবারের সদস্যদের উচ্ছ্বাস আর বন্ধুদের প্রাণখোলা আড্ডায় মুখর ছিল পুরো আয়োজন। নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র্যাফেল ড্র এবং মজার মজার ইভেন্টে অংশ নিয়ে সবাই উপভোগ করেন এক অনাবিল আনন্দঘন সময়। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার, যা আনন্দকে করে তোলে আরও স্মরণীয়। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পাওয়ার অনুভূতি, স্মৃতিচারণ আর প্রাণখোলা হাসিতে দিনটি যেন মুহূর্তেই কেটে যায়।
অপরদিকে, এসএসসি ১৯৯৩ ব্যাচের আয়োজনে ২৩ মার্চ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে বসে এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলার। আয়োজনে ছিল শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য আর হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা আবেগের এক চমৎকার মিশেল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল এবং পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ছাদেক মিয়া জান্টু।
আনুষ্ঠানিকতার শুরুতেই ছিল পরিচয় পর্ব, যেখানে দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া বন্ধুরা নিজেদের বর্তমান জীবনের গল্প ভাগাভাগি করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্যে উঠে আসে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী পরিকল্পনার কথা। স্মৃতিচারণ পর্বে ভেসে ওঠে স্কুলজীবনের দুষ্টুমি, শিক্ষক-শিক্ষিকার কথা, আর সেই নির্ভেজাল বন্ধুত্বের দিনগুলো—যা উপস্থিত সবাইকে মুহূর্তেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।
শেষে ভোজনপর্ব, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং র্যাফেল ড্র, যা পুরো আয়োজনকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য। দিনব্যাপী এ মিলনমেলায় লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা ১৯৯৩ সালের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন, যা এই আয়োজনকে দেয় এক বৃহত্তর মিলনক্ষেত্রের রূপ।
সবকিছু মিলিয়ে, এসএসসি ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ ব্যাচের এই ঈদ মিলনমেলা ছিল শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়-এটি ছিল স্মৃতি রোমন্থন, সম্পর্কের পুনর্জাগরণ এবং বন্ধুত্বের অটুট বন্ধনের এক জীবন্ত উদাহরণ। সময় যতই পেরিয়ে যাক, এমন আয়োজনই প্রমাণ করে—সত্যিকারের বন্ধুত্ব কখনো পুরোনো হয় না; বরং সময়ের সাথে সাথে তা আরও গভীর, আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। উচ্ছ্বাস আর আবেগে ভরা এই মিলনমেলা যেন সবার মনে গেঁথে দিলো এক অমলিন স্মৃতি। সময়ের ব্যবধান যতই দীর্ঘ হোক, হৃদয়ের টান যে কখনো কমে না-তারই জীবন্ত প্রমাণ হয়ে রইলো এই আয়োজন।