‘অপারেশনের নামে হাত-পা কেটে পৈশাচিক আনন্দ পেতেন মিল্টন’

‘অপারেশনের নামে হাত-পা কেটে পৈশাচিক আনন্দ পেতেন মিল্টন’
ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বরেছেন, চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের আশ্রিত গরিব-অসহায় মানুষগুলোর যখন অপারেশনের প্রয়োজন হতো, তখন নিজ হাতে ব্লেড দিয়ে তাদের আঙুল কেটে ফেলতো প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাদকাসক্ত মিল্টন। ব্লেড, ছুরি দিয়ে কাটাছেঁড়ার কারণে অসহায় মানুষগুলো অমানবিক কষ্ট পেতেন, আর্তনাদ করতেন। এসব দেখে পৈশাচিক আনন্দ পেতেন তিনি। 

রোববার রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় করা মামলায় তিনদিনের রিমান্ড শেষে মিল্টন সমাদ্দারকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত লোমহর্ষক তথ্য সম্পর্কে জানান ডিবি প্রধান।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, মিল্টন সমাদ্দারকে জিজ্ঞাসাবাদে ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে। মিল্টনের অপারেশন থিয়েটারে কয়েকটা ছুরি ও ব্লেড পাওয়া গেছে। এখানে তিনি নিজেই অপারেশন করতেন। বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে যাদের শরীরের কোনো অংশ পঁচে যেত অংশগুলো তিনি ছুরি ও ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলতেন। এমন বেশ কয়েকজন বৃদ্ধের তিনি হাত, পা ও আঙ্গুল কেটে ফেলেন। সে সময় তাদের কান্না, যন্ত্রণা ও রক্ত দেখে মিল্টন পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করতেন। তিনি কখনোই অসুস্থদের কোনো হাসপাতালে নিতেন না।

তিনি বলেন, মিল্টনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের এখনো ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আছে। তিনি মূলূত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আশ্রমের মানুষদের কবর ও বৃদ্ধ, বাকপ্রতিবন্ধী, অসহায় মানুষদের আশ্রয়ের কথা বলে টাকা সংগ্রহ করতেন। কবর দেওয়ার সংখ্যা যতো বেশি টাকা সংগ্রহ ততো বেশি হতো।

ডিবি প্রধান বলেন, তার আশ্রমে ৯০০ লোক মারা গেছে বলে নিজেই প্রচার করতেন। মানুষগুলো মারা গেছেন। জানাজা হলো না, রাতের অন্ধকারে কবর দেওয়া হলো, আত্মীয়-স্বজনকে জানানো হলো না, মিথ্যেভাবে সিল স্বাক্ষর দিয়ে নিজেই ডেথ সার্টিফিকেট দিলেন, পরেও স্বজনদের জানালেন না, এসবই আমাদের তদন্তে আসবে।

‘৯০০ প্রাণ নিভে যাবার প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মিল্টন জানায় মিথ্যা এসব বলে মানুষের সহানুভূতি নিয়ে টাকা সংগহ করতো। তিনি নাকি ১০০ জন মানুষকে কবর দিয়েছেন। তবে ১০০ কবরের তথ্য জানতে চাইলেও সেটা ডিবিকে সঠিকভাবে প্রমাণ করতে পারেননি।’

হারুন অর রশীদ আরো বলেন, মিল্টন সমাদ্দার একজন মাদকাসক্ত ও সাইকোপ্যাথ মানুষ। মিল্টন টর্চার সেলে মানুষজনদের পিটিয়ে নিস্তেজ করতেন। তিনি কীভাবে মানবতার ফেরিওয়ালা হলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা মিল্টনের বিরুদ্ধে আরো সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করবো।

এদিকে, দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় করা সিটি কর্পোরেশনের মৃত সনদ জাল কারার অভিযোগের মামলায় রিমান্ড শেষে মিল্টন সমাদ্দারকে  ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। 

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শান্তা আক্তারের আদালত মিল্টন সমাদ্দারকে আরো ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন।

গত ২৫ এপ্রিল গণমাধ্যমে মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ উঠে আসে। এতে বলা হয়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ১৬টির বেশি নম্বর এবং তিনটি ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা জমা হয়। এর বাইরে অনেকেই তার প্রতিষ্ঠানে সরাসরি অনুদান দেন। সেই অর্থের অপব্যবহার করেন তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মৃত্যুসনদ জাল করা, মানবপাচার, শিশু ও বৃদ্ধদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করার অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ।

লালমোহননিউজ/ -এইচপি