LalmohanNews24.Com | logo

২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

১৮৫ ‘লাশের স্বজন’ ওরা

১৮৫ ‘লাশের স্বজন’ ওরা

ওরা ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হলেও উদ্যমে ঘাটতি নেই কোন। মহামারী করোনায় কেড়ে নেয়া জীবনগুলোই ওদের কাছে বড় আপন। রক্তের বাধঁন না থকলেও ওরা পরম যত্নে আবার কখনও চোখের জলে বিদায় জানায় করেনায় মৃত মানুষগুলোকে। এ কারণেই মানুষ ওদের নাম দিয়েছে ‘ওরা লাশের স্বজন’।

করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জে মৃত্যুর মিছিল যত দীর্ঘ হচ্ছে, ওদের দ্বায়িত্বও যেন ততটাই শক্তি যোগাচ্ছে। রমজান মাসে রোযা রেখেই দিন কিংবা গভীর রাতেও চলে ওদের দাফন কার্যক্রম। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের ‘টিম খোরশেদ’ এর সদস্যরা হয়ে উঠেছে চরম নিদান কালের পরম বন্ধু।

জানা গেছে, চলতি মাসে করোনার ভয়াল থাবায় আবারো লন্ডভন্ড হচ্ছে বহু পরিবার। বিশেষ করে গত ১৫দিনে নারায়ণগঞ্জে গড়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে টিম খোরশোদের সদস্যরাই প্রতিদিন দাফন করছেন ৩টি অথবা কোন দিন ৪টি মরদেহ। শুধু কবরস্থই নয়, মৃত সনাতনী ধর্মালম্বীদের সৎকারও করছেন এই টিমের সদস্যরা।

টিম খোরশেদের অন্যতম সমন্বয়ক আলী সাবাব টিপু জানান, বুধবার (১৪ এপ্রিল) প্রথম রমজানের সারাদিনে মোট ৪টি করোনায় মারা যাওয়া মরদেহ দাফন করেছি আমরা। এছাড়া চলতি সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩টি করে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ দাফন করেছেন টিম খোরশেদের সদস্যরা। এ কাজ করতে গিয়ে টিমের ৪ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে ও কাউন্সিলর খোরশেদের বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।  টিমের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় এই দাফন কার্যক্রমে শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলর খোরশেদের একমাত্র ছেলে ১৭বছর বয়সী নকিব খন্দকারও যোগ দিয়েছে। এছাড়াও আমাদের ফ্রি অক্সিজেন সাপোর্ট কার্যক্রমও চালু রয়েছে। আজকে পর্যন্ত আমরা মোট ৩০০ রোগীকে ফ্রি অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়েছি।

এদিকে কথা হয় কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের সাথে। তিনি আবেগ্লাপুত হয়ে জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম খান শমরিতা হাসপাতালে করোনায় মারা যান। রাতে তার লাশ দাফন করে বিশ্রামও নিতে পারিনি। বৃহস্পতিবার ভোরে খবর পেলাম তার স্ত্রী মিসেস সাগরিকাও করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুপুরে তার লাশটিও দাফন করেছি। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই দম্পতির ২সন্তান থাকেন বিদেশে আর এক সন্তান পুরো পরিবার করোনায় আক্রান্ত। এর চেয়ে মর্মান্তিক আর কি হতে পারে। গত ১বছরে ১৮৫টি লাশের দাফন-সৎকার করেছি। অথচ মানুষকে আর কি করে সচেতন করা যায়, সেটির কৌশল বা ভাষা আমাদের জ্ঞানে নেই। মহামারী করোনায় যারা মারা যাচ্ছেন তারা কি পরিমাণ কষ্ট ভোগ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন তা দেখে আমরা নিজেরাই শিউরে উঠলেও হাজারো মানুষ এখনও করোনাকে সামান্য রোগ হিসেবে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, অনেক পরিবারের মানুষরা আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে রেখে তার আর কোনও খবরই নিচ্ছে না। এমন ব্যক্তিদের পাশে আমাদের টিমের মেম্বাররা রয়েছেন এবং তাদের সেবা করছেন। এছাড়া মরদেহ দাফন/সৎকার, নিয়মিত প্লাজমা ডোনেশন, আক্রান্তদের টেলি মেডিসিন সেবা প্রদান এবং এমনও পরিবার আছে যাদের সবাই আক্রান্ত তাদের আহ্বানে তাদের বাজার এবং চিকিৎসার ওষুধ আমাদের টিমের সদস্যরা গিয়ে সরবরাহ করে আসছেন। কষ্ট লাগে যখন দেখি লকডাউনে এখনো মানুষ বের হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হবে। তখন আর কিছু করার থাকবে না।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি