LalmohanNews24.Com | logo

৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

১৫ ও ২১ আগস্ট মাওলানা আপনি কোথায় ছিলেন?

১৫ ও ২১ আগস্ট মাওলানা আপনি কোথায় ছিলেন?

আল-আমিন এম তাওহীদ, ভোলা।।
সময়টি ছিলো গভীর রাত চিৎকার করেও কাদঁতে পারেনি। বৃষ্টি যেমন পরে তেমন গুলি ঝড়ে। ১৫আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর স্ব-পরিবারকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা এদেশের একটি বিরল ঘটনা। যা আজও ইতিহাস জেগে আছে। অবুঝ শিশু গর্ভবতী মা তাদেরকেও ছাড় দেয়া হয়নি। রক্তে রঞ্জিত ছিলো বঙ্গবন্ধুর বাসভবনটি। হত্যার পরে নিরবে পরেছিলো নিথর দেহ। এমনকি কেউ কাদঁবে মানুষ ছিলো না। সবই গুলিতে চলে গেছে না ফেরার দেশে। তখন কি সেই ভয়াবহ হত্যাকান্ডের বিচার এদেশের মাটিতে হয়েছিলো?। তখন এদেশের মানবাধিকার, মাওলানা আপনি ,বিচার বিভাগ,মানবাধিকার কোথায় ছিলেন?। শুধু হত্যা করেই খ্যান্ত হয়নি। বর্তমান কোন ব্যক্তির মা-বাবা স্ব-পরিবারকে এভাবে হত্যা করা হলে, এদেশের মানুষ তা কখনো মেনে নিবেনা। কিন্তু তখন তো এদেশের মাটিতে কত সংগঠন,কত বিচার বিভাগ ছিলো, কতগুণী জ্ঞানী লোক ছিলো কেউ তো বিচারের বাণী নিয়ে কাদেঁনি এবং মরতেও দেখিনি। এঘটনার পর এদেশে নতুন সরকার আসছে, বিচার বিভাগ আসছে, মানবাধিকার আসছে, মাওলানা আপনিও ছিলেন, কত সামাজিক সংগঠন ছিলো তারা এ হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য কোথাও মানববন্ধন,হরতাল, অবরোধ, মিছিল,মিটিং, রাজপথ আটক, জীবনের বদলে জীবন দেয়া তো দেখতে পাইনি?। শুধু এটাই নয়, কারো মা-বাবা পরিবার পরিজন কেউ মারা গেলে কোন সন্তানের কি মা-বাবার লাশটি দেখতে মনে চায় না? তৎকালীন এঘটনার সময় বর্তমান সরকার শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা বিদেশে পড়া-লেখা করার কারনে বাংলাদেশে ছিলো না, যার কারনে প্রানে বেচে যায় এ দুই বোন। যখনি শুনেছে মা-বাবা ও পরিবারের কেউ বেচেঁ নেই, যারা বেচে রয়েছেন তাদের মনে আর কলিজায় কি বলেছিলো? মনে হয় তাদের কলিজা ভেঙ্গে চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়েছিলো। তবুও একবার হলেও মা-বাবা ও পরিবারের স্বজনের লাশ গুলো জানাজা, ও মাটি দিয়ে আসি। তখন এদেরকে বাংলাদেশের মাটিতে আসতে দেয়া হয়নি। মা-বাবা পরিবার পরিজনের বিদায় নিথর দেহ চোখের আড়াঁলেও দেখতে দেয়া হয়নি। আমরা মানুষ তখন এতোটা নিষ্ঠুর ছিলাম যে কারো পিতা মাতা পরিবারের লাশ দেখতে দেইনি। এটা কোন ধরনের বিবেক বলা হয়? আর কোন ধরনের নিষ্ঠুরতা বলা হয়?। মাওলানা সাহেব তখন আপনি কতদিন কেদেঁছিলেন মোনাজাতে? তখন এদেশের মানুষের বিবেক কোথায় হারিয়ে গিয়াছিলো? আর এখন বিবেক আর কান্না, বিচার জেগে উঠেছে প্রতি প্রহরে প্রহরে?। যে ব্যক্তির উছিলায় ফিরে পেয়েছিলাম স্বাধীন পতাকা আর সেই ব্যক্তির পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা আমরা বাঙ্গালী জাতি হয়ে খুব লজ্জিত। যে ব্যক্তির কারনে মাটিতে পা রাখতে পারছি উচ্চস্বরে কথা বলতে পারছি, হাটতে পারছি, চলতে পারছি সেই ব্যক্তির পরিবারসহ হত্যা করেছি এটা আমাদের কেমন চরিত্র আর কেমন বিবেক? ১৯৭৫ সালের ইতিহাস আরো অনেক আছে যা বলে শেষ করা যাবেনা।


এরপরে ২০০৪ সাল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা:- বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। মিছিল মিটিং সভা-সমাবেশ করতে পারবে কারো বাধাঁ নেই। শেখ হাসিনার সমাবেশে বোমা নিক্ষেপ করা হলো। একটি লক্ষ্য ছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। মানুষের জম্ম আর মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার হাতে। যখন মানুষের জন্ম হয়েছে মৃত্যু নিশ্চিত তবে এ মৃত্যু নিশ্চিত করার দায়িত্ব একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। আমরা সারাবছর কাউকে হত্যা করার চেষ্টা করি, আর আল্লাহ যদি না চায় কারো ক্ষমতা নেই। আমাদের নিয়ত আর চরিত্রটা একটু হিসাব করি এবার- আমি ভালো হলে এজগত ভালো, আমার জনপ্রিয়তা থাকলে বোমা মেরে মানুষকে হত্যা করে ভোট আর সমর্থন আদায় করা যায় না। ২০০৪ সালে ২১ শে আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় বোমা হামলা করে প্রায় ২৪ জনের উপরেও হত্যা করা হয়েছে এবং প্রায় শতাধিক মানুষ মানুষ পঙ্গু হয়েছিলো। সেই পঙ্গু ব্যক্তিরা আজও নিরবে কাদেঁ এবং লড়াই করে বেচে আছে। থামেনা আজও সেই হামলার বুক ভরা ব্যাথা আর যন্ত্রণা। ব্যাথায় ব্যাথায় রাতের আধাঁরে আজও চিৎকার দিয়ে উঠে। এসকল ব্যক্তিরা কি অপরাধ করেছিলো যে বোমা মেরে হত্যা করা?। এরা তো খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। একজন অপরজনকে ভালোবাসে বিধায় জনসভায় গেছে এজন্য তাদেরকে বোমা মেরে জীবনের তরে পঙ্গু করে দিবেন?। আর এ পাপের বিচার সৃষ্টিকর্তা করবে না বুজলেন কিভাবে? যখন ২১ শে আগস্ট বোমা মেরে এতোগুলো মানুষকে হত্যা আর পঙ্গু করা হয়েছিলো। তখন এদেশের বিচার, মানবাধিকার, গুনী-জ্ঞানী ব্যক্তিরা কতদিন বিচার চেয়েছিলেন? আর কতবার হত্যার জন্য মানববন্ধন হয়েছিলো? আর আপনি মাওলানা মোনাজাতে কতবার কেদেঁছিলেন? আজ বেগম খালেদা জিয়া জেলহাজতে আপনি মোনজাতে কাদঁতে কাদঁতে মারা গেছেন। আর তখন এদুটি হামলায় কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিলো তখন কোন ব্যক্তিকে মোনাজাতে কাদঁতে কাদঁতে মারা যেতে শুনলাম না তখন আপনার বিবেক কোথায় লুকিয়ে ছিলো? এখন এদেশ অভিনয় আর নাটকে ভরপুর। সব সময় আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করা উচিৎ কোনটা সঠিক আর সঠিক না। যে ইতিহাস এদেশের মাটিতে ছিলো সেই হিসাবে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার কিছু করেনি বলে মনে করি। এখন পযর্ন্ত আওয়ামীলীগ সরকার কোন সভা-সমাবেশে বোমা হামলা চালিয়ে মানুষকে হত্যা করেনি কিন্তু বিএনপি সরকার আমলে এদেশের মাটিতে তা হয়েছিলো। আপনারা অপরাধ করবেন আর বিচার আজ এবং কাল হবে না কিভাবে বুজলেন? একটি কথা সকলের মনে রাখা উচিৎ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, জোড়-জুলুম অত্যাচার রাহাজানী, হয়রানি বেশিদিন টিকে থাকেনা। আজ অথবা কাল ধ্বংশ হতেই হবে। এদেশের মাটিতে যে যেমন কর্ম করছে, সে তেমন ফল ভোগ করেছিলো। হাতে ক্ষমতা পেয়ে স্টিম রোলার চালালে তার জবাব একদিন দিতে হবে।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি