LalmohanNews24.Com | logo

১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সিরিয়ার কান্না থামছেই না

সিরিয়ার কান্না থামছেই না

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটে দেশটি। তার ওপর এখন দেশটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে কলেরার প্রাদুর্ভাব। সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট ও কলেরায় ধুঁকছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় এখন পর্যন্ত ২৪ হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন কলেরা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৮০ জন মারা গেছেন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, কৌশলগত অচলাবস্থা সত্ত্বেও সিরিয়াজুড়ে সংঘাত ‘খুব সক্রিয়’ রয়েছে। এ বিষয়টিই দেশটির সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালুর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর আলেপ্পো প্রদেশের আফরিনে সশস্ত্রবিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, উত্তর-পশ্চিমে সরকারপন্থি বাহিনীর বিমান হামলা, উত্তর-পূর্বে সহিংসতা, দক্ষিণ-পশ্চিমে নিরাপত্তার ঘটনা, দামেস্ক ও আলেপ্পোর বিমানবন্দরে ইসরায়েলের বিমান হামলার ঘটনার ইঙ্গিত দেন গেইর পেডারসেন।

পেডারসেন বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ার মুদ্রা ‘পাউন্ড’ ব্যাপক মূল্য নিম্নগামী।  যার ফলে দেশটিতে খাদ্য ও জ্বালানির দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিরিয়ায় চলমান অর্থনৈতিক সংকট দেশটির ‘বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য সবচেয়ে খারাপ হবে। এটি মোকাবিলায় জরুরিভাবে অতিরিক্ত তহবিল প্রয়োজন।

জাতিসংঘের মানবিক দফতরের কার্যক্রম পরিচালনা বিভাগের পরিচালক রিনা গিলানি নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, সিরিয়ার বিবদমান সম্প্রদায়গুলো নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে আটকা পড়েছে। আর এ পরিস্থিতি কার্যত অনেককে ‘বাঁচার সংগ্রামের’ মুখে ফেলেছে।

তিনি আরো বলেন, সিরিয়ার তীব্র পানির ঘাটতির কারণে কলেরার প্রাদুর্ভাব আরো খারাপ হয়েছে। অনেক জায়গায় অনাবৃষ্টিতে মারাত্মক খরা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ইউফ্রেটিস নদীতে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পানির অবকাঠামোর কারণে সংকট আরো জটিল হয়েছে।

গিলানি বলেন, চলমান এ সংকট আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের সমন্বয়ে কলেরা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় তিন মাসের পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য ৫০ লাখ মানুষকে পানি, স্যানিটেশন ও চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবায় সহায়তা করতে ৩৪.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

তার ভাষায়, জাতিসংঘ প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরবরাহ করবে। তবে এরপরও আরো অনেক কিছু প্রয়োজন।

এদিকে, পানির ঘাটতির প্রভাবে সিরিয়ায় ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবারই সিরিয়ায় সবচেয়ে কম উৎপাদন হয়েছে গম। এর ফলে কৃষকদের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদবিরোধী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী ব্যবস্থার নেয়ায় দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। সেটিই পরে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। ১১ বছর ধরেই সেই গৃহযুদ্ধ চলছে। এক দশকের সংঘাতে কমপক্ষে তিন লাখ ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠীই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন অন্তত ৬০ লাখ সিরীয় মানুষ।

লালমোহননিউজ/ -এইচপি

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

  • সম্পাদক ও প্রকাশক:

    মোঃ জসিম জনি

    মোবাইল: 01712740138
  • নির্বাহী সম্পাদক: হাসান পিন্টু
  • মোবাইলঃ০১৭৯০৩৬৯৮০৫
  • বার্তা সম্পাদক: মো. মনজুর রহমান