LalmohanNews24.Com | logo

১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

লালমোহন লঞ্চঘাট বন্ধ নয় চালু করুন…

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : এপ্রিল ০৮, ২০১৮, ২২:০৮

লালমোহন লঞ্চঘাট বন্ধ নয় চালু করুন…

মো: জসিম জনিঃ লালমোহন লঞ্চঘাটটি বন্ধ হয়ে যাবে, কিছুদিন ধরে এমন সংবাদ সবার মুখে মুখে। এই ঘাট বন্ধ করে বেড়ির মাথায় ঘাট স্থানান্তর করা হবে। আরো আগে এক নেতার মুখে শুনেছিলাম, লালমোহন লঞ্চঘাট একসময় থাকবেনা। একদিন না একদিন নাজিরপুর ঘাটই হবে মূল ঘাট। ওই নেতার কথাই মনে হয় সত্যি হতেই যাচ্ছে। এতে ওই নেতাও বেশ খুশি। নেতার পরিচয় না হয় নাই দিলাম। কিন্তু নাজিরপুর ঘাটকে মূল ঘাট করার সকল পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়ে গেছে বহু আগেই।

নির্মাণাধীন ফরাগঞ্জ-বদরপুর সংযোগ ব্রিজ।

সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে। ঘাটে বিআইডব্লিউটিএ থেকে পন্টুনও দেয়া হয় বহু আগে। হচ্ছে ঘাট ইজারা। রিক্সা, অটো, টেম্পু, মোটরসাইকেল সব রমরমা চলছে। শুধু যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি পকেট কাটবে এই যা। তাতে কিছু আসবে যাবে না। কিন্তু আমাদের লালমোহন পুরাতন ঘাটটির বয়স কত?
আমার জন্মেরও আগের। না বাপ দাদাদের সময়ের হয়তো। ছোটবেলায় এই ঘাটে দেখেছি দুলদুল, রাজলক্ষ্মী, পাতারহাট লঞ্চ। আরো ছিল মনে নেই। পরে দেখেছি সালাউদ্দিন, কোকোকে। এসব লঞ্চ আকারে ছোট হলেও আমাদের ঢাকায় যাতায়াতের মাধ্যম ছিল এই ঘাটটিই। সমস্ত লালমোহন উপজেলার কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর মালামাল আনারও সহজ মাধ্যম ছিল এই ঘাটটি। এমনকি চরফ্যাশন উপজেলারও সব ব্যবসায়ীদের মালামাল এই ঘাট দিয়েই আনা হতো।

বর্তমানে আধুনিক উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগে সেসব এখন কেবলই স্মৃতি হয়ে থাকবে সকলের মনে। কিন্তু আমরা উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় শেকরকে ভুলি কিভাবে? আমরা যোগাযোগে উন্নত ব্যবস্থা চাই, তাই বলে আমাদের ঐতিহ্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে নয়। যে ঘাটে মিশে আছে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ, শত শ্রমিকের গায়ের গাম, লালমোহনবাসীর সুখ দুখের স্মৃতি। সেই ঘাটকে কেন এতো বছর অবহেলিত রাখা হলো?

এই ঘাটে কেন যুগ যুগ পেরিয়ে গেলেও বিআইডব্লিউটিএ থেকে একটি পন্টুনের ব্যবস্থা করা গেল না। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠা পাওয়া নাজিরপুর ঘাট এবং প্রয়োজনহীনভাবে গড়ে ওঠা কচুয়াখালী ঘাট, গজারিয়া খালগোড়া ঘাট ও পাঙ্গাসিয়া ঘাটে সিরিয়াল দিয়ে ৪টি পন্টুন দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। লালমোহন ঘাটে কেন পন্টুন দেওয়া হলো না। কেন কোন জনপ্রতিনিধিরা তা আনতে পারলো না এ প্রশ্ন মনে হয় সবার।
পন্টুন না থাকায় লালমোহন ঘাটের দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র কোন তদারকি নেই। খালে পানি নেই, নাব্যতা সংকটে তাদের করারও কিছু নেই। লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এই অজুহাতে তাই ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ঘাটটি বাঁচানো জরুরী।

দুই ইউনিয়নের যোগাযোগের জন্য ফরাজগঞ্জ বেড়ির মাথা দিয়ে খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিজটিকেই এখন লালমোহনের লঞ্চঘাট বন্ধের মূল কারণ বলে মনে করা হয়। ব্রিজটি কেন নিচু করে ডিজাইন করা হলো তার উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে লালমোহন লঞ্চ ঘাট বন্ধ করে বেড়ির মাথায় ঘাট স্থানান্তর করাটাও বেশি সুখকর হবে না। সেখানে ঘাট নেওয়া মানে নাজিরপুর ঘাটকেই আরো শক্তিশালী করা হবে।

তাই মাননীয় এম.পি মহোদয়ের কাছে প্রাণের দাবী লালমোহনের ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাটটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে বন্ধ হওয়া থেকে বাঁচান।

লেখকঃ

প্রকাশক ও সম্পাদক,

লালমোহননিউজ টোয়ান্টিফোর ডটকম

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি