LalmohanNews24.Com | logo

২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

লালমোহন থানার ওসি হুমায়ুন কবীরের বদলীর খবরে ভেতরে ও বাইরে স্বস্তি

লালমোহন থানার ওসি হুমায়ুন কবীরের বদলীর খবরে ভেতরে ও বাইরে স্বস্তি

মোঃ জসিম জনি ॥
লালমোহন থানার ওসি হুমায়ুন কবীরের বদলীর খবরে বিভিন্ন মহলে খুশির বন্যা বইছে। থানার পুলিশ, দাড়গা থেকে শুরু করে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এমনকি সাধারণ মানুষরাও খুশি এমন সংবাদে। ওসি হুমায়ুনের নাম শুনলেই সব মহলেই যেন একটা ধীক্কার চলে আসে। ‘মীর জাফর’ নাম নিয়ে আজো যেমন কাউকে তিরষ্কার করা হয়, তেমনি ওসি হুমায়ুন নামটিও এখন তিরষ্কারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে লালমোহনে। শুধু লালমোহন নয়, এর আগে তজুমদ্দিন উপজেলা থেকে ক্লোজ হওয়ার আগে সেখানেও সাধারণ মানুষকে শান্তি দেয়নি ওসি হুমায়ুন। তার কর্মক্ষেত্র থানার এসআই, এএসআই এমনকি কনস্টেবলদেরও নিজের খামখেয়ালী নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য করা হত। কেউ তার নির্দেশ মানতে না চাইলে তাকে বদলী করে দিতেন ওসি হুমায়ুন। যার কারণে তার বদলীর আদেশে খুশি হয় থানার অনেকেই। বুধবার তার বদলীর আদেশের খবর শুনে সামাজিক যোগোযাগ মাধ্যমেও চলছে তীর্যক সমালোচনা।

লালমোহন থানায় এমন ওসি এযাবৎকালে কেউ দেখেনি বলেও পথে ঘাটে চলতে থাকে আলোচনা। একই সাথে আগের ওসিদের প্রসংসাও চলে। ওসির বদলীর খবরে বুধবার রাত থেকেই ফেসবুকে ঝড় ওঠে। মোঃ ফরিদ নামে এক ব্যবসায়ীকে ওসি ডেকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে তিনি তার ফেসবুকে লিখেছন। এনামুল হক রিপন নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন ‘তারেক জিয়ার মতো লালমোহন থানার ঘাটলায় হাওয়া ভবন তৈরি করেছে ওসি।’ মোঃ ইউসুফ লিখেছেন, ‘লালমোহনের বহুল আলোচিত ওসি হুমায়ুনের বদলীতে লালমোহনের মানুষের স্বস্তি ফিরেছে।’ মোঃ ইকবাল হোসেন নামে একজন লিখেছেন, ‘কপাল পুড়লো যেই থানাতে গিয়েছে সেখানকার জনগণের।’ সাংবাদিক হাসান পিন্টু লিখেছেন ‘লালমোহন থানার ওসির বদলীতে লালমোহনের সর্বস্তরে যে আনন্দ বিরাজ করছে তাতে বুঝাই যাচ্ছে ওসি এ এলাকার মানুষের মনে তার জন্য কোনো ভালোবাসার জন্ম দিতে পারেনি। যা দিয়েছেন তার সবটুকুই ঘৃনা!!! এটা আসলেই একজন অফিসারের শেষ সময়ের জন্য খুবই লজ্জাজনক।’ সবচেয়ে আকর্ষণীয় মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আরশাদ মামুন। তিনি সংবাদ স্টাইলে লিখেছেন, ‘লালমোহন থানার ওসি আর নেই : গভীর শোক’। এরপর লিখেছেন ‘লালমোহন থানার বিতর্কিত ওসি হুমায়ুন কবীর আর নেই। বদলী জণিত কারণে এ স্থান থেকে চলে যাওয়ায় শোকাহত ভুক্তভোগীরা।’ এমইউ মাহিম লিখেছেন ‘লালমোহনের বহুল আলোচিত, সমালোচিত নিরপরাধ মানুষদের অহেতুক থানায় এনে নির্যাতনকারী ওসি হুমায়ুন কবীর লালমোহন হতে বদলী হয়ে যাচ্ছেন। আমার পরিবারকেও অহেতুক হয়রানি করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেন ওসি হুমায়ুন কবীর। আমার টাকা আপনাকে একদিন দিতে হবে ওসি সাহেব।’ এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে দুর্ব্যবহার ও ধরে এনে নির্যাতন করে অর্থ আদায়সহ নানান হয়রানী করার অভিযোগ করেন অনেকেই।


তজুমদ্দিন থানার ওসি থাকাকালে এক পরিবারকে মিথ্যা মামলায় হয়রানী করার অভিযোগে ক্লোজ হয়ে ভোলা পুলিশ লাইনে যায় ওসি হুমায়ুন কবীর। সেখান থেকে লালমোহন থানায় আসার পর সবসময় নিজেকে দেশের শ্রেষ্ঠ ১০ জন ওসির মধ্যে একজন দাবী করে কথা বলতো। আগে যেসব ওসি দায়ীত্ব পালন করেছিল তাদের তুচ্চ করে কথা বলতেন তিনি। ঘুষ, দুর্ণীতি, সাধারণ মানুষকে হয়রানীসহ থানার গাছ কেটে ফার্ণিচার তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত ওসি হুমায়ন কবীরকে বরগুনা পুলিশ লাইনে বদলী করা হয়েছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। গত ২ বছরে লালমোহন থানায় যোগদানের পর সাধারণ মানুষকে অযথা ধরে এনে বিভিন্ন মামলার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায়সহ নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন অনেকেই। লালমোহন থানার প্রায় ৩/৪ লক্ষ টাকার গাছ বিনা টেন্ডারে কেটে ফার্নিচার তৈরি করে নিজের বাড়ি ও আত্মীয়দের বাড়িতে পাঠিয়েছেন বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তৈরিকৃত অনেক ফার্ণিচার তিনি এর আগে কয়েক দফায় নিজের বাড়িতে ও আত্মীয়দের বাড়িতে পাঠিয়েছেন। বুধবার বদলীর আদেশ শুনে ট্রাক ভরে বাকী ফার্ণিচার তিনি রাতেই পার করে দেন। তিনি যে দোকানে এসব ফার্ণিচার বানিয়েছেন সেই ফার্ণিচার মিস্ত্রি জানিয়েছেন, ওসি তাকে কাঠ এনে দিতো। অর্ডারমতো ফার্ণিচার তৈরি করে দিতেন ওই মিস্ত্রি। তাকে প্রায় দুই লক্ষ টাকা মুজরী দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক লালমোহন থানার একাধিক অফিসার জানান, তার কথা মতো কাজ না করায় এ পর্যন্ত প্রায় ১০/১৫ জন এসআই, এএসআই ও একাধিক কনস্টেবলকে লালমোহন থানা থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বদলী করা হয়। সম্প্রতি ৯৫ জন ওসি বিএনপি-জামায়াতের আমলে নিয়োগ পান এবং এখনো তাদের সাথে সখ্যতা রয়েছে বলে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সূত্র দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই তালিকায় লালমোহন থানার ওসি হুমায়ুন কবীরের নামও রয়েছে।
এ ব্যাপারে ওসির বক্তব্য নিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, থানার কোন গাছ তিনি কাটেননি। বদলীর বিষয়টিও তিনি জানেননা বলে জানান।

 

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি