LalmohanNews24.Com | logo

১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরে শিকার মোস্তাক শাহিন, ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শংকা

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরে শিকার মোস্তাক শাহিন, ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শংকা

আমি মোস্তাক আহমেদ শাহিন। ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক। ২০১৩ সালের ২৭ মার্চ ঢাকায় আমার ভগ্নীপতি মিজানুর রহমান সেলিম ইন্তেকাল করেন। ২৮ মার্চ তার মরদেহ এ্যাম্বুলেন্স যোগে ইলিশা ঘাট থেকে ভোলা সদরে আনার পথে ইলিশা-ভোলা সড়কের বাপ্তা ইউপি কমপ্লেক্সের সামনে ১৮ দলীয় জোট সমর্থক এক দল পিকেটার্স লাশবাহি এ্যাম্বুলেন্স হামলা করে। এই ঘটনায় আমাদের এলাকা থেকে উত্তেজিত এক দল লোক ইলিশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পিকেটারদের ধাওয়া করে। তখন ভোলার পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান সমর্থক এক যুবলীগকর্মী পিকেটারগণ তার আত্মীয় পরিচয়ে আমার এলাকাবাসীর সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এই নিয়ে উকিলপাড়া ও মুসলিম পাড়া এলাকায় যুবলীগের দুটি গ্রুপ ও জনতা কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়ায়।

এ সংঘর্ষের দুই মাস পর ০৪/০৫/২০১৩ইং তৎকালীন সদর থানা যুবলীগের সভাপতি মুনসুর আলম নাগরকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তার সমর্থক যুবলীগ নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ভোলা জেলা আওয়ামীলীগ কার্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্যালয়ের কয়েকটি চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে। ০৫/০৫/২০১৩ইং তারিখে আওয়ামীলীগ অফিসের পিয়ন আবুল কাশেম বাদী হয়ে আমাকেসহ ১৮ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীকে আসামী করে ভোলা থানায় একটি মামলা করে। মামলা নং জিআর-১৫৯/১৩। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকর্মকর্তা ভাঙ্গচুর আইনে ও বিস্ফোরক আইনের ৩ ধারায় আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। এই মামলায় আমি দীর্ঘ ৪ বছর পর ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে সাড়ে তিন মাস কারাবন্দি ছিলাম। পরে আমাদের নেতা সাবেকমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপির মধ্যস্থতায় যুবলীগের বিবদমান গ্রুপের মীমাংসা করে দিয়ে সকল মামলা তুলে নিতে বাদীগনকে নির্দেশ দেন। তার নির্দেশের প্রেক্ষিতে জিআর-১৫৯/১৩ মামলার বাদী আবুল কাশেম মামলার প্রথম অংশ তুলে নেয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে মামলার ২য় অংশ বিস্ফোরক আইনের ৩ ধারায় হওয়া মামলাটি প্রত্যাহার করেনি। এই মামলাটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাওছার হোসেন টুয়েল ১নং ও আমাকে ২নং আসামী করে আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ। মামলাটিতে আমি নিয়মিত হাজির থাকলেও ১নং আসামী পলাতক থাকে।

আপনারা জানেন একটি বড় দলে নিজেদের মধ্যে মতের বৈপিরত্য থাকতেই পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় দলে আমার সাথে মতের মিল না হওয়ায় একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করে কারান্তরীন রেখেছেন আমার দলেরই ক্ষমতাশীন একটি মহল। আমি ওপেনহার্ট সার্জারির একজন পেশেন্ট। গত ০৪/০৫/২০২০ইং তারিখে আমার হার্টে আরো দুইটি রিং পড়ানো হয়। অথচ ২০১৭ সালে সাড়ে তিন মাস, ২০১৮ সালে প্রথমে ৩ মাস ও পরে আড়াই মাস আমি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি থাকি। সম্প্রতি বিস্ফোরক আইনের মামলাটিকে চলমান প্রক্রিয়ার বাহিরে বিশেষ মহলের নির্দেশে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতকে প্ররোচিত করে মামলাটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাহিরে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমাদেরকে সাজা প্রদানের ব্যবস্থা করতেছেন। মামলার আসামি হিসাবে আমার যেই আইনগত সুবিধা পাওয়ার কথা তা আমাকে দেওয়া হচ্ছে না। আমি আদালত ও আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছ থেকে কোন সহযোগীতা পাচ্ছিনা। উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুবিধার্থে জেলা জজ আদালত থেকে যেসব কাগজপত্র আমাকে সরবরাহ করার কথা তাও করা হচ্ছেনা। এমনকি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি পর্যন্ত খুঁজে পাচ্ছেনা আদালত। যা আদালতের সংগ্রহে থাকার কথা। বিচার ব্যবস্থায় দেশের নাগরিক যে কোন ব্যক্তি আইনগত সহযোগীতা পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে ভোলার আদালতে আমার জন্য কোন আইনজীবি দাঁড়াতে দেইনি ক্ষমতাশীল মহল। এমতাবস্থায় আমি বিচারাধীন আদালতের প্রতি আস্থা হারিয়েছি। এই বিজ্ঞ আদালতে আমি কোন ভাবেই ন্যায় বিচার পাবো না। আমি বিষয়টি গণমাধ্যমের বদৌলতে সরকার, উচ্চ আদালত ও দেশবাসিকে জানাতেই এই প্রয়াস গ্রহন করেছি। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

(মোস্তাক আহমেদ শাহিন)
ভোলা।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি