LalmohanNews24.Com | logo

১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভোলা -৩ আসনে আগাম নির্বাচনী হাওয়া ॥ আলোচনায় আওয়ামীলীগের শাওন, বিএনপি’র হাফিজ

ভোলা -৩ আসনে আগাম নির্বাচনী হাওয়া ॥ আলোচনায় আওয়ামীলীগের শাওন, বিএনপি’র হাফিজ

শরীফ আল-আমীন, তজুমদ্দিন ॥ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে এলাকায় শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী আমেজ। উঠান বৈঠক, যোগদান, সভা সমাবেশ ও কর্মি সভার মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ নির্বাচনী মাঠে বেশ তৎপর। গত ৭ বছরে এ আসনের ব্যাপক উন্নয়ন, যোগ্য নেতৃত্ব ও মজবুত সাংগঠনিক অবস্থানই আওয়ামীলীগের শক্তি। ইতিমধ্যে এলাকার উন্নয়ন ও জনমূখী হওয়ায় বর্তমান সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ‘দ্বীপবন্ধু’ উপাধিও পান। অন্যদিকে অভ্যন্তরীন কোন্দলসহ নানা কারণে অনেকটা নিস্কৃয় বিএনপি। নিজ দলের ঐক্য ধরে রাখতে পারেননি সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। উপ নির্বাচনের পর পরেই তজুমদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে মেজর হাফিজের বিরুদ্ধে ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন না করে আত্মীয় ও স্বজন প্রীতির অভিযোগে দুটি ভাগে বিভক্ত হয় এখানকার বিএনপি। এশাধিকবার মেজর হাফিজ এলাকায় গিয়েও এসব কারণে দলের নেতা- কর্মিদের তোপের মুখে পড়ে। এরপর গত ৭ বছরে নিজের সংসদীয় আসনে দেখা যায়নি দলের কেন্দ্রিয় এ ভাইস চেয়ারম্যানকে। তবে দলের মধ্যে কিছুটা সক্রিয় রয়েছে হাফিজ বিরোধী একটা অংশ।
এদিকে প্রধান দুই দলের বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রের সঙ্গে লবিংয়ে ব্যস্ত থাকলেও আ’লীগে নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও বিএনপিতে হাফিজের বিকল্প নেই বলে মনে করেন উভয় দলের বেশির ভাগ নেতা-কর্মি। এলাকার সাধারন ভোটাররাও মনে করেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের মধ্যেই লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
জানা গেছে, লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ভোলা-৩ আসন। ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭শ’ ভোটারের মধ্যে লালমোহনে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৫১৬ এবং তজুমদ্দিনের ভোটার ৭৪ হাজার ১৮৪। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সাংসদ নূরুন্নবী চেšধুরী শাওন। অপরদিকে বিএনপিতে মেজর (অব.) হাফিজ মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও তাকে প্রতিহত করতে লড়াইয়ে আছেন লালমোহনের আকতারুজ্জামান টিটব এবং তজুমদ্দিনের লায়ন এম আর হাওলাদার ও মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নূরুন্নবী সুমন দলের মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন। নুরুন্নবী সুমনের পাশপাশি জাতীয় পার্টির কুয়েত শাখার সভাপতি ও ভোলা জেলা কমিটির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হকের নামও শোনা যাচ্ছে প্রার্থী তালিকায়। ফজলুল হকের বাড়ি তজুমদ্দিন উপজেলায়। এছাড়া ২০০১ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মিঞা ও মনোনয়নপ্রত্যাশী। লালমোহন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাওলানা মোঃ কামাল উদ্দিনও মনোনয়ন চাইবেন বলে আলোচনা চলছে। ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থী দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মোসলেউদ্দিন দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন।
এদিকে ২০০৮ সালের আগে টানা ছয়বার এ আসনটি দখলে রেখেছিলেন দলের এক সময়ের আলোচিত সংস্কারপন্থী নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)। ১৯৭৪ সালে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আওয়ামী লীগ নেতা ও এ আসনের দুইবারের এমপি মোতাহার উদ্দিন মাষ্টারের মৃত্যুর পর থেকে আলীগও মরিয়া ছিল এ আসনটি পুনরুদ্ধারে। অবশেষে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) জসিম উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন হাফিজ। একবছর পর আইনি জটিলতায় এমপি পদ হারান জসিম। পরে ২০১০ সালের উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন পান যুবলীগ নেতা নুরুন্নবী চৌধূরী শাওন। ওই নির্বাচনে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি ভোটে শাওন জয়ী হয়ে এমপি হওয়ার পর এ আসনের রাজনীতিতে তার অবস্থান পাকাপোক্ত হতে থাকে।
অন্যদিকে দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর এই আসনটি ছিল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমের দখলে। জাতীয় পার্টির এমপি দিয়ে তার শুরু। পরে স্বতন্ত্র এবং ১৯৯১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ পর্যন্ত ৬ বার এমপি হন তিনি। তার এই ধারাবাহিক জয়যাত্রায় ছেদ পড়ে ওয়ান-ইলেভেনে। সংস্কারপন্থী দলে নাম লেখান হাফিজ। মহাসচিবও হয়ে যান তিনি। পল্টনে বিএনপি অফিসের তালা ভেঙে দখল নেন দলীয় কার্যালয়ের। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান সম্পর্কে নানা অশোভন উক্তি করে তৃণমূল বিএনপির অপ্রিয় হয়ে যান। এলাকার যেসব বিএনপি নেতাকর্মী তার সঙ্গে হাত মেলাননি তাদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে দল তাকে মনোনয়ন দিলেও দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্য হারান তিনি। কেবল তাই নয়, এলাকায় তার ঢোকাই বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে মেজর (অব.) হাফিজ প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যাবধানে আওয়ামী লীগের কাছে হেরে যাওয়ার পরবর্তী আইনি জটিলতায় আসনটি শূন্য হওয়াই ২০১০ সালে আসনটি উপনির্বাচনে যুবলীগ নেতা শাওনের সঙ্গে ভোটযুদ্ধে নামেন হাফিজ। তখন ৫১ হাজার ২১৫ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী হাফিজ পরাজিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে শাওন দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হন। এলাকার উন্নয়ন ও জনমূখী হওয়ায় লালমোহনে বিশাল এক গণসংর্ধনায় পান ‘দ্বীপবন্ধু’ উপাধিও। তার মেয়াদকালে সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক স্থাপন, একাধিক শিা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, আড়াইশ’ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ, দুই উপজেলায় নতুন থানা ও মুক্তিযোদ্ধা ভবন নির্মাণ, লালমোহন উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণ, মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ, মাটির কিলা নির্মাণ, ভোলা-চরফ্যাশন সড়কে ব্রিজ এবং ফরাজগঞ্জ-বদরপুর সংযোগ ব্রিজসহ দুই উপজেলায় তিন শতাধিক ব্রিজ নির্মাণ এবং ৬০ হাজার পরিবারের মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়াসহ উন্নয়নের এমন চিত্র তার ‘দ্বীপবন্ধু’ উপাধিকে উপযুক্তই মনে করছে দুই উপজেলার মানুষ।
এব্যাপারে তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক দেওয়ান বলেন, ‘আলহাজ্ব নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন তার উন্নয়নমুলক কাজের জন্য আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত জয়লাভ করবেন। এমপি হওয়ার পর তিনি এলাকার প্রতিটি মানুষের খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি সন্ত্রাস, নৌ ডাকাতি, চাঁদাবাজী বন্ধ করে অশান্ত লালমোহন তজুমদ্দিনকে তিনি শান্তির জনপদে রুপান্তর করেছেন। এছাড়া তিনি যে উন্নয়ন করেছেন তা গত ২৩ বছরের শাসনামলেও মেজর হাফিজ করতে পারেননি।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমানও মেজর হাফিজের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনে আমি মূল ধারার পে ছিলাম। মেজর হাফিজের সংস্কারের বিরোধিতা করায় আমাদের সে দূরে সরিয়ে দেয়। নিজের স্বজন ও চামচা ছাড়া বাইরের কাউকে সে চেনে না। এলাকার মানুষ তাকে অবাঞ্চিত করেছে । তাই সে গত ৬-৭ বছর ধরে তিনি এলাকায় আসেন । তাকে মনোনয়ন দিলে কেবল গণপদত্যাগই নয়, এলাকায় ঢুকতেই দেব না।’

 

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি