LalmohanNews24.Com | logo

২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভোলায় কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কেঁচো সার

ভোলায় কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কেঁচো সার

মনিরুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন সংবাদদাতা ।। দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কৃষকদের মাঝে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট সার)।ভার্মি কম্পোস্ট সার আসলে কেঁচোর মল,যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে হিউমাস এবং পুষ্টি উপাদান।পঁচনশীল শাক-সবজির  উচ্ছিষ্ট অংশ অজৈব  আর্বজনা, গোবর, খড়, প্রভৃতি কেঁচো দ্বারা ভক্ষণের মাধ্যমে এ সার উৎপাদিত হয়।রাসায়নিক সার ব্যবহারে উৎপাদন খরচ যেমন বেশী হয় তেমনি মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায়।অন্যদিকে এ সার ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্বি পায় আবার কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও কম হয়।জৈব সার ব্যবহারে মাটির পানির ধারণ ক্ষমতা ও বৃদ্ধি পায়।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং উপজেলা কৃষি অফিসের বাস্তবায়নে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রজেক্টের(এনএটিপি) ফেইজ-২ এর আওতায় উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ২৮টি ব্লক রয়েছে।ওই ব্লকের মধ্যে ১৫টি ব্লকে বর্তমানে কেঁচো সার উৎপাদিত হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কৃষক সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে কেঁচো সার উৎপাদন পদ্বতি পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়,সিমেন্ট এর তৈরী ৪টি রিং কে ২টিতে পরিনত করে কার্যক্রম শুরু করেন।ওই রিং দুুটির মধ্যে উল্লেখিত উপকরণ রেখে তার উপর বিশেষ ধরণের কেঁচো রাখা হয়। ।টিনের তৈরী একটি ঘর রিং এর উপর দেয়া হয়েছে।সূর্যের অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপানি যাতে ঢুকতে না পারে তার জন্য এ ব্যবস্থা।এরপর রিং এর মুখে পাটের তৈরী ছালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।ওই কৃষক জানায়,তিনি প্রচুর সবজি চাষ করেন।নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত সবজি বাজারে বিক্রয় করেন। ব্যবহৃত সবজির উচ্ছিষ্ট ব্যবহার করে সার উৎপাদন করেন।ওই সারই আবার উৎপাদন কার্যসহ বাজারে বিক্রয় করেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আলম জানায়, ব্যবহৃত এ ধরণের কেঁচো গর্ত করে মাটির গভীরে প্রবেশ করার পরিবর্তে মাটির উপরের স্তরের খাবার খায় । খাবার খেয়ে যে মল ত্যাগ করে ওটাই ভার্মি কম্পোস্ট। তিনি আর ও জানান, সমগ্র প্রক্রিয়া শেষে সার হতে সময় আগে ১ থেকে দেড় মাস।তিনি জানান,এই প্রকল্প থেকে ২শত কেজি জৈব সার উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে যার বাজার মূল্য ৬ হাজার টাকা।তিনি জানান,বাজারে এ সারের চাহিদা বেশ।বছরের সব সময়ই এ সার উৎপাদন করা যায়।জৈব সারে উৎপাদিত ফসল খেতে ও খুব সুস্বাদু । বিদ্যমান সমিতির সদস্যদের মধ্যে প্রথমে একজনের বাড়িতে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করা হয়।একজনের সফলতা দেখে অন্যরা উদ্বুদ্ধ হয়ে পরে তারাও শুরু করেন।সার তৈরীর সকল উপকরণ সরবরাহ করেন কৃষি অফিস। পৌর বাজারের সার বিক্রেতা মোতাসিন বিল্রাহ জানান,বাজারে জৈব সারের চাহিদা আছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ওমর ফারুক জানান,ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত করতে ,কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। এ জন্য প্রয়োজন এমন প্রযুক্তি যেটি টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাটি ও পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও জানান,জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো ও কৃষকদেরকে পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতেই সরকার এই সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন্ ।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি