LalmohanNews24.Com | logo

১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভোলায় অসময়ের বৃষ্টিতে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি

ভোলায় অসময়ের বৃষ্টিতে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা প্রতিবেদক।। অসময়ের আকস্মিক বৃষ্টিতে ভোলায় কৃষকদের ফলানো আলু, তরমুজ, খেসারী ডাল ও সরিষাসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিন সপ্তাহ পার হলেও এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে কৃষকদের ক্ষেতের ফসল। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। কিভাবে ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন এই ভেবে এখন দিশাহারা তারা।

সরেজমিনে ভোলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতেই আগাম বৃষ্টি এবং বন্যাতে কৃষিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। বছরজুড়েই বৃষ্টি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে। বোরো হারানোর পর আউশ এবং আমনের ভালো ফলন হয়। রবি মৌসুমের শুরুতে নভেম্বর মাসে বৃষ্টি হওয়ায় সবজি আবাদেও বিঘ্ন ঘটে। কৃষকরা জমি থেকে পাকা আমন ধান সংগ্রহ শেষে বোরোর বীজতলা তৈরি এবং শীতকালীন সবজি আবাদে যখন ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সে সময় আকস্মিক বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে জেলার সাত উপজেলার ১ হাজার ১১৬ হেক্টর জমির আলু, তরমুজ, খেসারী ডাল ও সরিষাসহ ১৩ হাজার মেট্রিক টন রবিশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কৃষি পরিবার। এখনো পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে আবাদি জমি। ফলে পানি নিস্কাশন করে নতুন জমি তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।

এসময় আলাপ হয় ইলিশা বাঘার হাওলা গ্রামের প্রান্তিক চাষি জসিম বেপারির সাথে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৩ কানি জমিতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ করে আলু আবাদ করেন। ভালো ফলন পাওয়ার স্বপ্নে ফসল পরিচর্যা করে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। কিন্তু টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে তার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তার পুরো ফসল এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানি সরিয়ে আবার নতুন করে ফসল বুনতে আরো ১ মাস লাগবে।

ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকদের পক্ষে আবার টাকা ও বীজ সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কৃষকরা।

ভেলুমিয়া ইউনিয়নের বান্দের পাড় এলাকার চাষি কালু মাল জানান, তিনি এবছর আধা কানি জমিতে গম ও সরিষা আবাদ করেন। কিন্তু তিনিও অসময়ের বষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এখন নতুন করে ফসল বুনতে গেলে যে টাকার প্রয়োজন তা যোগান দিতে হিমসিম খেতে হবে বলেন তিনি।

রাজাপুর ইউনিয়নের চর আনন্দ গ্রামের চাষি মোঃ ইসরাফিল জানান, এবছর ধার দেনা করে এক একর জমিতে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ করে আলু এবং কলই আবাদ করেন। তার একদিন পরেই বৃষ্টিতে সকল ফসল হষ্ট হয়ে গেছে। এখন সরকারী অথবা অন্য কোন সহযোগিতা না পেলে নতুন করে আবার বিজতলা তৈরি ও ফসল লাগানো সম্ভব হবেনা বলে তিনি জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসূমে জেলায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে রবি ফসল আবাদ শুরু হয়। অসময়ের আকস্মিক বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১ হাজার ১১৬ হেক্টর জমির ফসল। এতে ক্ষতি হয় ১৬৮ কোটি ৫১ লক্ষ ৬ হাজার টাকার ফসল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, ভোলা জেলায় সাধারণত ডিসেম্বর মাসে বৃষ্টি হয় না। তবে এবছর ১০ ডিসেম্বর থেকে টানা তিনি দিন বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকের রবি ফসলে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পানি সরে গেলে পুণরায় আবাদ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যে সমস্ত জমিতে শাকসবজি আবাদ করা সম্ভব নয় সে জমিতে বোর ধানের আবাদ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এইচ.পি

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি