LalmohanNews24.Com | logo

১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বাল্যবিয়ে করতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার খাদ্য কর্মকর্তা

বাল্যবিয়ে করতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার খাদ্য কর্মকর্তা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বাল্য বিয়ে করতে আসায় জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন ইসকে আব্দুল্লাহ (৫৪) নামের এক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে জনতার রোষানল থেকে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন রৌমারী সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু।

ইসকে আব্দুলাহ দিনাজপুর সদরের সুইহারী (খালপাড়া) গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার রাণী শংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

শৌলমারী ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য ইউনূছ আলী জানান, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শৌলমারী এমআর স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ। এর সুবাদে কেন্দ্রেই পরিচয় হয় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে। পরে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল নম্বরও নেন ওই কর্মকর্তা। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে কল দিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তিনজন বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে।

বিধি মোতাবেক প্রথম স্ত্রীর ভুয়া অনুমতির প্রত্যয়নপত্র নিয়েও আসেন। তার সঙ্গে আসা দুই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ও নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান)  বিয়েতে সাক্ষী হতে রাজি হননি। এমনকি ওই খাদ্য কর্মকর্তার কোনও স্বজনও বিয়েতে হাজির হননি। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ের বয়স না হওয়ায় তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এসময় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই খাদ্য কর্মকর্তাকে গণধোলাই দেয়। পরে জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন রৌমারী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু।

অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের ঘরে দুই কন্যা সন্তান ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। এক মেয়ের বিয়েও দেওয়া হয়েছে। আরেক মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং ছেলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে।

তিনি আরও জানান, তার স্বামী কিছু দিন ধরে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেন এবং বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন। এ নিয়ে তিনি দিনাজপুর থানায় যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।

অভিযুক্ত রাণী শংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমার প্রথম স্ত্রীর দু’টি অপারেশনের কারণে সে শারীরিকভাবে অপারগ। ফলে আমি দ্বিতীয় বিয়ে করতে আসছি। মেয়ের বয়স কম, এটা জানা ছিল না। তাই একটু হট্টগোল হয়েছে। বুধবার কোর্টের মাধ্যমে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

ওই কর্মকর্তার সঙ্গে বরযাত্রী হিসেবে আসা কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ও নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, ইসকে আব্দুল্লাহ তার এক আত্মীয়র বাড়িতে দাওয়াতের কথা বলে আমাদের রৌমারী নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে দেখি বিয়ের আয়োজন। এসময় আব্দুল্লাহ আমাদের দু’জনকে বিয়ের সাক্ষী হতে বলেন। আমরা সরকারি কর্মকর্তা, বাল্য বিয়েতে সাক্ষী হতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

কিশোরীর বাবা বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদরে ৩০ শতক জমিতে বাড়ি করে দেবেন, ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আমার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ওই কর্মকর্তা। এই সুবাদে তার প্রথম স্ত্রীর ভুয়া অনুমতি সনদসহ দু’জন লোককে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার বিয়ের উদ্দেশ্যে আমাদের বাড়িতে আসেন। এসময় গ্রামবাসীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।’

ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাণী শংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা দুই দিনের ছুটিতে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত কোনও বিষয়ে জানা নেই।’ -এইচপি

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

  • সম্পাদক ও প্রকাশক:

    মোঃ জসিম জনি

    মোবাইল: 01712740138
  • নির্বাহী সম্পাদক: হাসান পিন্টু
  • মোবাইলঃ০১৭৯০৩৬৯৮০৫
  • বার্তা সম্পাদক: মো. মনজুর রহমান