LalmohanNews24.Com | logo

১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ফুল চাষ করে জীবন চালাচ্ছে দুই সহোদর শিক্ষার্থী

বিজ্ঞাপন

ফুল চাষ করে জীবন চালাচ্ছে দুই সহোদর শিক্ষার্থী

মনিরুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন ।।
রায়হান ও আকিব হোসেন। দুই ভাই। উভয়েই দশম শ্রেণিতে লেখা-পড়া করেন।বাবার অবর্তমানে দুই ভাই সংসারের হাল ধরেন।পড়া লেখার পাশাপাশি বাবার রেখে যাওয়া “কুঞ্জের হাট আদর্শ নার্সারীর” উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।নার্সারীতে তারা বানিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ করছেন। গোটা দক্ষিনাঞ্চলের ক্রেতাগন তাদের উৎপাদিত ফুল কিনেন। আর এ খাতের আয়েই তারা জীবন নামক রেলগাড়িটা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যে।
গতকাল বিকালে বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে দক্ষিণে কাচিয়া ইউনিয়নের কুঞ্চের হাট বাজার সংলগ্ন ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে পশ্চিম পার্শ্বে তাদের নার্সারীতে গেলে দেখা যায় অসংখ্য গাদা ফুলের ছড়াছড়ি।নির্দিষ্ট দুরত্ব অনুসারে সারিবদ্ধ ভাবে ফুলগুলো ফুটে আছে। এ সময় কথা হয় ওই দুই সহোদরের সাথে।তার জানান, তার বাবা কাঞ্চন মহাজন বিশ বছর আগে ১৫২ শতাংশ জমির উপর “কুঞ্চের হাট আদর্শ নার্সারীটি প্রতিষ্ঠিত করে। তাদের ওই নার্সারীতে বিভিন্ন ধরণের ফলদ,বনজ ও ঔষধী গাছের চারা উৎপাদন করতেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিক্রেতাগন এখান থেকে চারা কিনতেন।২০১৭সালে এপ্রিল মাসে বাবা পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।এরপর সংসার সহ নার্সারীর দায়িত্ব দুভাই গ্রহন করেন।তাদের পরিকল্পনায় নতুন সংযোজন হয় বানিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ।ফুল চাষ করে কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় তারা এ কাজ শুরু করেন।তাদের উৎপাদিত ফুল বর্তমানে গোটা জেলায় সরবরাহ সহ বরিশাল থেকে আগত ক্রেতারা কিনছেন।
তারা জানায়, তাদের নার্সারীতে গ্লাডি, ইন্ডিয়ান জবা, ইন্ডিয়ান বেলি, গাদা,গোলাপ, বেলী,জুঁই, চামেলী, রজনীগন্ধা, ঝুমকা, ডালিয়া , হাসনাহেনা, টগর, গেটফুল, জবা, বেলিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ করা হয়। সারা বছরই ফুলের চাষ করেন তারা। ফুল ছাড়া ও ওই নার্সারেিত বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা উৎপাদন করা হয়। নার্সারী থেকে অর্জিত আয়ে কলেজ পড়ুয়া বোনসহ তাদের লেখা পড়া ও সংসার খরচ চলছে। প্রতিটি গাদা ফুলের চারা ৫০টাকায় বিক্রয় হয়। দৈনিক গড়ে ৫হাজার টাকা তারা আয় করেন। জেলার মধ্যে চরফ্যাশন উপজেলার ক্রেতার সংখ্যা বেশী। লেখা পড়া সমস্যা হয় কিনা এমন প্রশ্নে জানান, কাজ করার লোক আছে। স্কুলে যাবার আগে তাদেরকে কাজ বুজিয়ে দেওয়া হয়। স্কুল থেকে এসে আবার নার্সারীর পরিচর্চা শুরু হয়। অনেক সময় আবার স্কুল কামাই দিতে হয়। এর উপর ভিক্তি করে ভালো করে লেখা পড়া চালিযে তারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চান।
রাকিবের স্কুল ডিটিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব কাজী জানান, ওরা খুবই পরিশ্রমী।পড়া লেখায় ও ভালো। নার্সারীর আয় দিয়ে সবাই লেখা পড়া করে। পড়া লেখায় আমরা তাকে সহযোগীতা করছি।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি