LalmohanNews24.Com | logo

১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ফুটবলের অমর কিছু রেকর্ড

ফুটবলের অমর কিছু রেকর্ড

বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। পুরো দলের ভালোর খেলার উপর জয় নির্ভর করে। এই দলীয় খেলার ভিতর থেকেই অনেকেই নিজেকে প্রমাণ করে গড়েছেন অনেক রেকর্ড।

কোন কোন তারকা ইতিহাসের পাতায় আজীবনের জন্য নিজেদের নাম স্মরণীয় করে রেখেছেন। এমন সব কীর্তি গড়েছেন যেখানে অনেকেই চাইলে এই সব রেকর্ড অর্জন করতে পারবে না।

তাদের কীর্তিগুলো অমর, এ রেকর্ড গুলো ভাঙার ব্যাপারেও আছে সংশয়। এমন কিছু রেকর্ডই আজ তুলে ধরা হলো, যা নিয়ে সন্দেহ আছে যে কেউ ভাঙতে পারবে কি না।

তিনটি বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার পেলে:

ফুটবলের জনক বা ব্রাজিলের কালো মানিক। এডসন আরান্তেস দ্য নাসিমান্তো, যিনি পেলে নামেই পরিচিত বিশ্বব্যাপী। ফুটবলের সর্বকালের সেরা একজন ফুটবলার। ফুটবল বিশ্বে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে জিতেছেন ৩টি বিশ্বকাপ। এই কীর্তিই তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক ঘটে পেলের। সেই বিশ্বকাপেই নিজের আগমনী বার্তা জানান দেন এই ফুটবলার। বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের সঙ্গে হ্যাটট্রিক এবং ফাইনালে সুইডেনের সঙ্গে জোড়া গোল করেন পেলে। ওই বিশ্বকাপে মোট ৬ গোল করে দলের বিশ্বকাপ জয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন তিনি।

১৯৬২ বিশ্বকাপে পেলে এক গোল করলেও ভাভা গারিঞ্চাদের সৌজন্য ব্রাজিল টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয় করে নেয়।

পেলে

পেলে

১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ব্রাজিলের জন্য ছিল রীতিমতো হতাশার। প্রতিপক্ষ দলগুলোর হিংসার বলি হয়ে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। ব্রাজিলিয়ানদের আটকানোর জন্য প্রতিপক্ষরা মারাত্বক ট্যাকেল করেছিল। প্রতিপক্ষ প্লেয়ারদের ট্যাকেল এর ফলে ব্রাজিলিয়ান প্লেয়াররা স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারছিল না। যার দরুন প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়।

১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপের ব্রাজিল দল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল। পেলে, টোস্টাও, জেয়ারজিনহো, কার্লোস আলবার্তোদের নিয়ে গড়া দল নিয়ে মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে ৩টি বিশ্বকাপ জিতে নেয় ব্রাজিল।

পেলে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ উঁচু করে ধরেছেন। আর কোন ফুটবলারের ভাগ্যে এখন পর্যন্ত তা ঘটেনি।

এক বছরে মেসির ৯২ গোল:

সময়ের সেরা বা বিশ্বসেরা বললেও খুব বেশি বলা হবে না তাকে।  ফুটবল তার থেকে এগিয়ে নাক তিনি ফুটবলের থেকে এগিয়ে এটাও অনেক সময় সামনে আসে। তিনি আর কেউ নন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। নতুন কোন রেকর্ড করা আর অন্যের রেকর্ড ভাঙার জন্যই মাঠে নামেন তিনি। মেসি মাঠে নামলেই রেকর্ডবই নতুন করে সাজাতে হয়। অসংখ্যা রেকর্ডের মাঝে মেসি ২০১২ সালে এমন এক রেকর্ড গড়েছেন যে রেকর্ড আর কবে ভাঙবে কিংবা আদৌ ভাঙবে কিনা সন্দেহ আছে।

লিওনেল মেসি

লিওনেল মেসি

এমনিতেই মেসির কাছে গোল করা একদম ডালভাতের মতো ব্যাপার স্যাপার। তবে সেই বছর মেসি গোল করাকে আরো অসাধারণ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

২০১২ সালে ৬৯ ম্যাচ খেলে ৯১ গোলের দেখা পেয়েছিলেন মেসি। বার্সার হয়ে ৬০ ম্যাচ খেলেই করেছিলেন ৭৯ গোল আর আর্জেন্টিনার হয়ে ৯ ম্যাচে ১২ গোল করে দেখা পেয়ে যান অবিশ্বাস্য এক কীর্তির।

এর আগের রেকর্ড ছিল জার্মান জার্ড মুলারের। ১৯৭২ সালে ৮৫ গোল করেছিলেন মুলার।

এক বিশ্বকাপে জাস্ট ফন্টেইনের দু’টি হ্যাট্রিক এবং ১৩ গোল:

এক বিশ্বকাপে দু’টি হ্যাটট্রিক এবং মাত্র ৬ ম্যাচে ১৩ গোল! অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়েছেন ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার জাস্ট ফন্টেইন। এক বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি গোলের মালিকও তিনি। মাত্র একটি বিশ্বকাপই খেলেছেন। আর তাতেই বিশ্বকাপের রেকর্ডবুকে চিরকালের মতো নিজের নাম লিখিয়েছেন। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে মাঠে নেমে দু’টি হ্যাটট্রিকসহ ১৩ গোল করেছিলেন এই ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপ অলটাইম টপ স্কোরার লিস্টে চার নাম্বার পজিশন দখল করে আছেন তিনি। এক বিশ্বকাপ খেলেই এমন রেকর্ড!

জাস্ট ফন্টেইন

জাস্ট ফন্টেইন

অথচ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকারই কথা ছিলনা ফন্টেইনের। দলের এক নাম্বার স্ট্রাইকার রেনে ব্লিয়ার্ড ইনজুরিতে পরলে ভাগ্য খুলে যায় ফন্টেইনের। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে ফেলেন ফন্টেইন, যার ফলে ফ্রান্স জয় পায় ৭-৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে। পরের ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে যায় ফ্রান্স, তবে ফ্রান্স এর হয়ে দু’টো গোলই করেন ফন্টেইন।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন ফন্টেইন, ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় ফ্রান্স এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান হয়ে পরের পর্বে আয়ারল্যান্ড মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচে ফন্টেইনের জোড়া লক্ষ্যভেদে ৪-০ গোলের সহজ জয় পায় ফ্রান্স। সেমিফাইনালে ব্রাজিল এর সঙ্গে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে ৫-২ গোলে হেরে যায় তারা। সেই ম্যাচে ১টি গোল করেছিলেন ফন্টেইন। ৫ ম্যাচে ৯ গোল।

অবিশ্বাস্য ব্যাপার! কিন্তু ফন্টেইন এখানেই দমে গেলেন না। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার যন্ত্রণা থেকেই কিনা তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে একাই করলেন ৪ গোল। দল জিতল ৬-৩ গোলের ব্যবধানে।

এক ম্যাচে থম্পসনের সর্বোচ্চ ১৩ গোল:

ফুটবল গোলের খেলা। গোল দিয়েই জয়-পরাজয় নির্ণয় হয়। প্রতিপক্ষকে ৪ গোলের ব্যবধানে হারাতে পারাই বিরাট ব্যাপার। এক ম্যাচে ৮/১০ গোল দেখা বিরল একটা বিষয়। ২০০১ সালে এরকম একটি বিরল ঘটনার সাক্ষি হয়েছিল বিশ্ববাসী। ২০০১ সালের ১১ এপ্রিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের একটি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় আমেরিকান সামোয়া।

আর্চি থম্পসন

আর্চি থম্পসন

প্রতিপক্ষকে একদম গুড়িয়ে দেওয়া যাকে বলে তার পারফেক্ট উদাহরণ দেখায় অস্ট্রেলিয়া। খেলায় আমেরিকান সামোয়ার জালে গুনে গুনে ৩১ গোল দেয় অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার স্ট্রাইকার আর্চি থম্পসন একাই করেন ১৩ গোল।  তার ১৩ গোল কোন ফুটবলারের এক ম্যাচে দেওয়া সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

অধিনায়ক এবং কোচ হিসেবে বেকেনবাওয়ারের বিশ্বকাপ জয়:

ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা জয় প্রতিটা ফুটবলারের আজন্ম স্বপ্ন। একবার হলেও শিরোপাটা ছুঁয়ে দেখতে চান। পেলে, ম্যারাডোনা, থেকে শুরু করে অনেকেই বিশ্বকাপ জয় করে নিজেদের নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। বিশ্বকাপ জয়ের দিক দিয়ে জার্মান ফ্রেঞ্জ বেকেনবাওয়ার ছাড়িয়ে গেছেন অন্য সব বিশ্বকাপ জয়ীদের।

বেকেনবাওয়ার

বেকেনবাওয়ার

তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি অধিনায়ক এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয় করেছেন। জার্মানির ১৯৭৪ বিশ্বকাপ জয়কালে দলের অধিনায়ক ছিলেন বেকেনয়াওয়ার। ১৯৯০ সালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মানি যখন তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফির দেখা পায় তখন সেই দলের কোচ ছিলেন বেকেনবাওয়ার।

রোজানেরি চেনি, একজন গোল রক্ষকের ১৩১ গোল:

একজন গোলরক্ষকের কাজ হলো নিজ দলের গোলপোস্ট আগলে রাখা। মাঝে মাঝে গোলরক্ষকেরা লম্বা শট মেরে এসিস্ট করেন। একজন গোলরক্ষকের গোল করা বিরল একটি দৃশ্য। এটি বিরল দৃশ্য হলেও ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক রোজানেরি চেনি দৃশ্যটাকে নিয়মিত বানিয়ে ফেলেছিলেন।

রোজানেরি চেনি

রোজানেরি চেনি

গোলকিপার হয়েও ১৩১ গোল করেছিলেন তিনি। রীতিমতো অবিশ্বাস্য ব্যাপার। গোলগুলোর মধ্যে ৭১ টি গোল করেছেন স্পটকিক থেকে, বাকি ৬০ গোল ফ্রি কিক থেকে। তাছাড়া তিনি ব্রাজিল দলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপ এবং ১৯৯৭ সালের কনফেডারেশন কাপ জয় করেছেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে রোনালদোর ১৭ গোল:

উয়েফা আয়োজিত চ্যাম্পিয়নস লিগ মানেই রোনালদোর রেকর্ডের ছড়াছড়ি। এইজন্যে অনেকে UCL কে মজা করে Uefa Cristiano League বলে ডাকেন। এই আসরে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টকারী সহ এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল দেওয়ার রেকর্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দখলে।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ১৭ গোল করেন রোনালদো। সেই মৌসুমে রোনালদোর দুরন্ত ফর্মের সুবাদে রেকর্ড ১০বারের মতো চ্যাম্পিওনস লিগের শিরোপা জিতে রিয়াল মাদ্রিদ। -এইচপি

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

  • সম্পাদক ও প্রকাশক:

    মোঃ জসিম জনি

    মোবাইল: 01712740138
  • নির্বাহী সম্পাদক: হাসান পিন্টু
  • মোবাইলঃ০১৭৯০৩৬৯৮০৫
  • বার্তা সম্পাদক: মো. মনজুর রহমান