LalmohanNews24.Com | logo

২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নির্বিচারী হত্যায় মেতেছে মিয়ানমার জান্তা, এক দিনে নিহত ৯১

নির্বিচারী হত্যায় মেতেছে মিয়ানমার জান্তা, এক দিনে নিহত ৯১

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী চলমান বিক্ষোভের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিনে ৯১ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। শনিবার দেশটির সশস্ত্রবাহিনী দিবসে এই হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে নিরাপত্তাবাহিনী। দিনটিকে বিক্ষোভকারীরা দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর জন্য লজ্জা দিবস বলে আখ্যায়িত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এখবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। মিয়ানমারজুড়ে বিভিন্ন শহরে এই নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও অন্যান্য শহরে সেনাবাহিনীর মাথায় ও পিঠে গুলির হুমকি উপেক্ষা করে রাজপথে নামেন জান্তাবিরোধীরা।

মিয়ানমার নাউ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আজ শনিবার এমন সময় মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী জনগণের ওপর এই গুলি চালানো হলো যখন দেশটির সামরিক বাহিনী সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে তারা দেশের জনগণ এবং গণতন্ত্র রক্ষায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানায়। কিন্তু সেই জনগণকেই তারা নির্বিচারে হত্যা করছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজ বলছে, গোটা মিয়ানমারে গুলি চালিয়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ৯১ জনকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে ১৩ জন, এর পার্শ্ববর্তী সাগাইংয়ে ৯ জন এবং বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে ৭ জন নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনের মধ্যেই দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আরো অন্তত ৫০ বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছে।

এর আগে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন উপলক্ষে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সতর্ক করে জানায়, এই দিনে বিক্ষোভ করলে ‘মাথায় এবং পেছনে’ গুলি করা হবে। তবে সামরিক জান্তার সেই হুমকি উপেক্ষা করে শনিবার দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও অন্যান্য এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। সেই বিক্ষোভ দমাতে নির্বিচার গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।

বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এদিন ইয়াঙ্গুনের দালা শহরতলীতে চার জন, ইনসেন জেলায় তিন জন, পূর্বাঞ্চলীয় লাশিও শহরে চার জন, বাগো অঞ্চলে চার জন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হপিন ও অন্যান্য শহরে গুলি করে এসব মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত নেতাদের নিয়ে গঠিত সিআরপিএইচ গোষ্ঠীর মুখপাত্র ডা. সাশা একটি অনলাইন ফোরামকে বলেছেন, আজ মিয়ানমারে সশস্ত্র দিবস একটি লজ্জার দিন। কারণ সামরিক সরকার দেশের তিন শতাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করে এখন সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন করছে।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট এবং ক্ষমতাসীন দল এনএলডির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তার পর থেকেই রাস্তায় নেমে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ করে আসছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী মানুষ।

এদিকে, চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এদিন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান তথা বর্তমান জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং রাজধানী নেইপিদোতে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, সেনাবাহিনীও গণতন্ত্র চায় এবং একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করাই তাদের লক্ষ্য।

এ সময় চলমান বিক্ষোভকারীরা আন্দোলনের নামে মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষতি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আন্দোলনের কারণে মিয়ানমারের নির্বাচন বিলম্বিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করলেও ঠিক কবে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে সে সম্পর্কে সুনির্দিশষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি হ্লাইং। বরং অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। যা আসলে তাদের দীর্ঘ শাসনেরই ইঙ্গিত দেয়।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি