LalmohanNews24.Com | logo

১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দেশে বছরে ২৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়

দেশে বছরে ২৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়

দেশে প্রতিবছর ২৪ হাজার ৩০০ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশ  ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী, ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দেয়া ৫ বছরের কমবয়সী শিশুদের মধ্যে মাত্র ৪২ শতাংশকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে নেয়া হয় এবং মাত্র ৩৪ শতাংশ এন্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণ করে। আর ৪৫ শতাংশ শিশুর মৃত্যুই হয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। বুধবার রাজধানীর আইসিডিডিআরবি কার্যালয়ের আয়োজিত বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার’স ফোরামের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। ১২ই নভেম্বর বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উপলক্ষে দাতা সংস্থা ইউএসএইডের সহায়তায় রিসার্চ ফর ডিসিশন মেকার্স (আরডিএম) এবং ডেটা ফর ইমপ্যাক্ট (ডিফরআই) এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

সভায় শিশু বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমিন, চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী  পরিচালক প্রফেসর ড. সমীর কুমার সাহা, আইসিডিডিআর,বি’র নিউট্রিশন এন্ড ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস-এর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতী এবং আরডিএম এক্টিভিটির চিফ অফ পার্টি ও আইসিডিডিআর,বি’র মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ডিভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. শামস এল আরেফিন নিউমোনিয়াজনিত শিশু মৃত্যুর বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

আইসিডিডিআর,বি’র এসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট ড. আহমেদ এহসানুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালের অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভে অনুযায়ী বাংলাদেশের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  নিউমোনিয়ার পুর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সক্ষমতা আছে। ওই সমীক্ষায় আরো দেখা যায়, ৫০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেটর নেই। এক-তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অক্সিজেনের অন্যান্য সোর্সও অনুপস্থিত।

প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমিন বলেন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৮ শতাংশই মারা যায় নিউমোনিয়ায়। এই মৃত্যুহ্রাসে তিনি শিশুকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া, ৬ মাসের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো, পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা এবং শ্বাসকষ্ট হলে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রচারণা চালাতে অনুরোধ করেন তিনি।

ড. সমীর কুমার সাহা বলেন, শুধু মৃত্যুহার নয়, কত সংখ্যক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে সেই সংখ্যা জানাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার কারণ জানা যায় না। এই তথ্য ছাড়া ভবিষ্যতে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা প্রদান কঠিন হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। ড. মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতী হাসপাতালে পালস অক্সিমিটার, স্বল্পমূল্যের দেশীয় অক্সিজেন স্বল্পতা দূর করার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, প্লাস্টিক বোতল দিয়ে তৈরি বাবল সিপ্যাপ নিউমোনিয়াজনিত শিশু মৃত্যুহার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম। তিনি আরো বলেন, অপুষ্টির শিকার শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর প্রবণতা ১৫ গুন বেশি।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি