LalmohanNews24.Com | logo

১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি নুরুল-সাদ্দামের

বিজ্ঞাপন

ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি নুরুল-সাদ্দামের

অধিবেশনে নুরুল বলেন, ‘দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন হয়। তার ধারাবাহিকতা যদি আমরা রক্ষা করতে পারতাম, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে সেটা আমাদের জন্য একটা পাওয়া হতো। ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা যাতে অব্যাহত থাকে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

নুরুল বলেন, রাজনৈতিক গুরুত্বের জায়গা থেকে দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে পুলিশসহ অন্যদের ঢুকতে অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু তাঁরা দেখেছে, ইদানীং পুলিশ হরহামেশাই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই টিএসসি থেকে ছাত্রদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। যেসব ছাত্র কারাগারে আছেন, তাঁদের জন্য উপাচার্যের কোনো সহযোগিতা তাঁরা পাননি।

উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের উদ্দেশে নুরুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এ অবস্থায় কিছু হলে কিছু ছাত্র থাকছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। হল কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না? হলে অনেক বহিরাগত ও অছাত্র থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর তাঁরা যাতে হলে থাকতে না পারেন, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাদ্দাম বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিব বর্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে আছি। এই মাহেন্দ্রক্ষণে ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের অংশীদারত্ব যেন অটুট থাকে। এ ব্যাপারে উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।’

সাদ্দাম জানান, শিক্ষার্থীরা নানা সংকটের মুখোমুখি। অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষার আওতায় আসতে পারেননি। অনেকে পারিবারিকভাবে নানা সমস্যায় রয়েছেন। এমন অবস্থায় ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন হলে দুই বছরের আবাসিক ফি, পরিবহন ফি নেওয়া হচ্ছে। দুই বছরের এসব ফি প্রত্যাহার করতে হবে।

সাদ্দাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা করব, শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকার আওতায় আনার যে নির্দেশনা দেশরত্ন শেখ হাসিনা দিয়েছেন, সে বিষয়ে আপনারা যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেবেন। শিক্ষায় যে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, সেটি কাটিয়ে উঠে শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুত শিক্ষাঙ্গনে ফিরে আসতে পারেন, সে জন্য স্বল্পতম সময়ে যুগোপযোগী রূপরেখার মাধ্যমে সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় এনে আবাসিক হলগুলো খুলে দিতে হবে।’

ডাকসু মনোনীত শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘১৯ জুন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে রকম কোনো ব্যবস্থাই আমরা দেখিনি। বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়ে থাকে। দুঃখের বিষয় হলো এই সাময়িক বহিষ্কার যে কত দিনের, তার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এ কারণে অনেকের ছাত্রত্ব পর্যন্ত চলে গেছে। এটি স্পষ্টভাবেই শিক্ষকদের উদাসীনতা বা অবহেলা। সাময়িক বহিষ্কারের একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হোক, যার পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বহিষ্কারাদেশটি উঠে যাবে।’

অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, এসব কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলিক গবেষণার কাজ বেগবান হবে, যা শতবর্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠতে ভূমিকা রাখবে।

উপাচার্যের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটের এ সভায় অন্যদের মধ্যে শিক্ষক খন্দকার বজলুল হক, সাদেকা হালিম ও জিনাত হুদা, সাংসদ আবদুস সোবহান গোলাপ, উবায়দুল মোকতাদির, শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি তিলোত্তমা শিকদার, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রমুখ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি