LalmohanNews24.Com | logo

১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

জ্বিন-ভূতকে দেয়া হয় খাবার!

জ্বিন-ভূতকে দেয়া হয় খাবার!

বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। হয়েছে ব্যাপক উন্নয়নও। তবে এখনো দেশের গ্রাম-গঞ্জের অনেক মানুষের বিশ্বাস রয়েছে কবিরাজি (খনকারি) চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর। এসব মানুষের আবার ঘোর বিশ্বাস রয়েছে জ্বিন-ভূতের প্রতি। গ্রাম-গঞ্জের এসব মানুষের বিশ্বাসকে পূঁজি করে ভোলার লালমোহনের বিভিন্ন এলাকায় চলছে কবিরাজি (খনকারি) চিকিৎসা।

কবিরাজরা মনে করেন, অশুভ শক্তিকে সন্তুষ্ট করতে পারলে বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে মুক্তি মিলে। যার জন্য ওইসব অশুভ শক্তিকে সন্তুষ্ট করতে দিতে হয় খাবার (ভোগ)। এসব খাবার দিতে হয় রাতের বেলায় যেকোনো নির্জনস্থানের তিন বা চার রাস্তার মোড়ে অথবা খালের পাড়ে।

মঙ্গলবার রাতে বাসায় ফিরতে গিয়ে এমনই এক চিত্র দেখেন লালমোহনের রমাগঞ্জ ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার যুবক মো. মোরশেদ আলম সুজন। ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, রাতে লালমোহন সদর থেকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরার পথে রমাগঞ্জ ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাজির ফৌস্তা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে লাল রঙের একটি বস্তু দেখতে পাই। প্রথমে দেখে একটু ভয় পেলেও সঙ্গে লোক থাকায় মোটরসাইকেল থেকে নেমে দেখি; সেখানে একটি কলা পাতার উপর রাখা রয়েছে, ডিম, মিষ্টি, সাবান, কাপড়, কলা, মুড়ি, সিঁদুর ও ফুল। পরে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি কবিরাজ (খনকারদের) পরামর্শে এসব মূলত জ্বিন-ভূতের খাবারের জন্য রাখা হয়েছে।

উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের নামপ্রকাশে অনইচ্ছুক এক নারী কবিরাজ (খনকার) জানান, অনেক সময় মানুষের উপর বদজ্বিন বা ভূত ভর করে। এরা শরীর থেকে যেতে অনেক সময় পাঁঠা, মুরগি, কবুতর, দুধ, কলা ও ফিরনি চায়। এজন্য ওইসব অশুভ শক্তি মানুষের কাছ থেকে দূর করতে কবিরাজ (খনকাররা) রোগীদের এসব দেয়ার পরামর্শ দেন। জ্বিন-ভূতের জন্য রেখে যাওয়া এসব খাবার কেউ দেখে ভয় পেলে বা নিয়ে খেলে ক্ষতি হতে পারে বলেও দাবী এ কবিরাজ (খনকারের)।

এব্যাপারে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মহসিন খান বলেন, গ্রাম-গঞ্জের অনেক মানুষ এখনো জ্বিন-ভূতে বিশ্বাসী। যার সুযোগে অনেক কবিরাজরা প্রতারণাও করছে। রোগ সারাতে জ্বিন বা ভূতকে খাবার দিতে হয়, এমনটা চিকিৎসা বিজ্ঞানে বৈধতা নেই। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে এসব কুসংস্কার বা কবিরাজি (খনকারি) চিকিৎসা বিলুপ্তি হবে বলে আশাবাদী এই চিকিৎসক।

 

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

  • সম্পাদক ও প্রকাশক:

    মোঃ জসিম জনি

    মোবাইল: 01712740138
  • নির্বাহী সম্পাদক: হাসান পিন্টু
  • মোবাইলঃ০১৭৯০৩৬৯৮০৫
  • বার্তা সম্পাদক: মো. মনজুর রহমান