LalmohanNews24.Com | logo

১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চতুর্থ ধাপের তফসিলেও নেই লালমোহনের কোন ইউনিয়ন পরিষদ ॥ হতাশ সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটাররা

চতুর্থ ধাপের তফসিলেও নেই লালমোহনের কোন ইউনিয়ন পরিষদ ॥ হতাশ সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটাররা

চতুর্থ ধাপের তফসিলেও নেই লালমোহন উপজেলার কোন ইউনিয়নের নাম। হতাশ লালমোহন উপজেলার সম্ভাব্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা। বুধবার নির্বাচন কমিশন চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এতে ৮৪০ টি ইউনিয়ন পরিষদের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রথম ধাপ থেকে এক এক করে চতুর্থ ধাপের তফসিল ঘোষণা হলেও লালমোহনের একটি ইউনিয়নের নাম কোথাও আসেনি। অথচ লালমোহনের ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদেরই মেয়াদ উত্তীর্ণ। কোন কোনটি প্রায় ১০ বছর থেকে ১৯ বছরে পরেছে নির্বাচন হয় না। সবগুলোই মামলা দিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছে স্ব স্ব পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ। কোন কোন ইউনিয়নে একাধিক ইউপি সদস্যের মৃত্যুও হয়েছে।

নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এমন কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানান, দীর্ঘসময় ভোট না হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতায় পরিষদ চালাচ্ছেন। জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের লোকজন দিয়ে মামলা করিয়ে বছরের পর বছর নির্বাচন আটকে রেখে স্বপদে বহাল থাকছেন। ফলে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছে না জনগণ। সেবা বঞ্চিত হচ্ছে তারা।

জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে ২০০৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন হয়। প্রায় ১৯ বছর হয়েছে ওই ইউনিয়ন বর্তমান পরিষদের বয়স। ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে একটানা ১৯ বছর পার করে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফসহ তার পরিষদ। এরই মধ্যে ৩ জন ইউপি সদস্য মৃত্যুবরণও করেছে। তবু ওইসব শূণ্য ওয়ার্ডেও নির্বাচন হয়নি। কয়েক দফা তফসীল ঘোষণা হলেও আবার তা স্থগিত হয়ে যায়। মামলা এই ইউনিয়নকে দেড় যুগ নির্বাচন বঞ্চিত রেখেছে। মামলা দিয়ে একইভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়ন, কালমা ইউনিয়ন ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের নির্বাচন। এই ৩ ইউনিয়নে একযোগে ২০১১ সালের ৩১ মার্চ নির্বাচন হয়। ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে তারাও পার করেছেন ১০ বছরেরও বেশি সময়। ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে লালমোহন সদর ইউনিয়নেরও মেয়াদ। এ ইউনিয়নেও মামলা আতংক বিরাজ করছে। এছাড়া ধলীগৌরনগর, বদরপুর ও রমাগঞ্জ ইউনিয়নে ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ নির্বাচন হয়। এসব ইউনিয়নের নির্বাচনের মেয়াদও গত মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মামলার রেশ এসব ইউনিয়নেও পরেছে। পাশর্^বর্তী ইউনিয়নের সাথে সীমানা জটিলতার মামলা করা হয়েছে এসব ইউনিয়নে।
লালমোহন উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মামলা জটিলতা পৌরসভাসহ ৯ ইউনিয়নকেই স্পর্শ করেছে। এসব জটিলতা কাটিয়ে এক বছর আগে পৌরসভা ও দুই মাস আগে ফরাজগঞ্জ ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়। বাকী ৮ ইউনিয়নের মধ্যে চলছে মামলা মামলা খেলা। সরেজমিনকালে স্থানীয় ভোটারদের সাথে আলাপকালে অনেকেই দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, আমরা চাই না কোন ইউনিয়নের নির্বাচন বন্ধ থাকুক। আমরা নির্বাচনমুখি। মেয়াদ উত্তীর্ণ এসব ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করি নির্বাচন কমিশন দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি