LalmohanNews24.Com | logo

৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গণপরিবহনের সঙ্গে ফিরল ঢাকার চিরচেনা যানজট

গণপরিবহনের সঙ্গে ফিরল ঢাকার চিরচেনা যানজট

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে গণপরিবহন চালুর প্রথম দিনে রাজধানীর সড়কে বাসের সংখ্যা খুব বেশি না থাকলেও ব্যক্তিগত পরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে বাস যোগ হওয়ায় দেখা মিলেছে নিত্যকার যানজটের।

মহামারী ঠেকাতে ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ টানা ২২ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার মহানগর ও জেলার মধ্যে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত। কিন্তু রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল শুরুর দিনই মানতে দেখা যায়নি তা।

প্রতিটি প্রধান সড়কে ছিল গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ। আর তাতেই ফিরে এসেছে নিত্য যানজট। এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ি মিললেও সিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। সরকারি নির্দেশনা মতে একসিট খালি রাখলেও গণপরিবহনে দাঁড়িয়ে নিতে দেখা গেছে যাত্রী। এতে এক সিট খালি রেখে যাত্রী বহনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। একই সঙ্গে করেছেন বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।

অন্যদিকে বাইরের গণপরিবহন প্রবেশ ঠেকাতে মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে গত ৫ এপ্রিল থেকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় ‘সর্বাত্মক লকডাউন’। বন্ধ করা হয় সড়ক, নৌ ও রেলপথে যাত্রী পরিবহন। এর ২২ দিন পর পাঁচটি নির্দেশনা দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে মহানগর ও জেলায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএ।

নির্দেশনায় বলা হয়, আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। কোনোভাবেই মোট আসনের অর্ধেকের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। সমন্বয় করে ৬০ শতাংশ বাড়ানো ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না। যাত্রার শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। চালক, অন্যান্য শ্রমিক, কর্মচারী ও যাত্রীদের মাস্ক পরা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয় প্রজ্ঞাপনে।

সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করা বাসগুলোতে যাত্রী সংখ্যা ছিল কম। এখান থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোর চালক, হেলপার এবং যাত্রীদের মাস্ক পরতে দেখা গেছে। তবে তা কারও কারও থুঁতনিতে নামানো ছিল। বাসে দুই সিটে একজন যাত্রী নিতে দেখা গেছে। এদিকে কয়েকটি বাসের হেলপারের হাতে স্যানিটাইজার দেখা গেলেও বেশিরভাগের মাস্ক দেখা যায়নি।

আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে মৌমিতা, ভিআইপি, ধামরাই টু সাভার পরিবহনেও ছিল একই অবস্থা। কোথাও কোথাও লেগুনা চলতে দেখা গেছে। মিরপুর দুয়ারিপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে নিউ মার্কেট, আজিমপুর ও গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে আশীর্বাদ ও বিহঙ্গ বাস সার্ভিস ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

গণপরিবহন ছাড়ায় খুশি যাত্রী, চালকসহ পরিবহন শ্রমিকদের সবাই। মিরপুরের শিকড় পরিবহনের এক চালক বলেন, ‘লকডাউনের কারণে প্রায় না খেতে পেয়ে মরার অবস্থা হয়েছিল। বাস চালানোর সুযোগ পেয়েছি। আমরা খুশি।’ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে মৌমিতা পরিবহনের ড্রাইভার আবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। যাত্রীদেরও গাড়ির হেলপার ও কন্ডাক্টর মাস্ক পরতে বলছে। আমরা সব সময় মেনে চলার চেষ্টা করব। আর লকডাউন চাই না।’ দেওয়ান পরিবহনের চালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘অর্ধেকের বেশি আসনে আমরা যাত্রী উঠাচ্ছি না এবং স্বাস্থ্যবিধি মানছি।’

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দুই সিটে একজন করে যাত্রী বসা দেখা গেছে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি বাসে। তবে কোন কোনটিতে দাঁড়িয়ে নিতে দেখা গেছে যাত্রী। সকাল থেকে যাত্রীর চাপ কিছুটা কম ছিল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে পরিবহনের উঠতে পারছেন না, জানান।

নিউ মার্কেট যেতে বাসের অপেক্ষায় থাকা আরমান বলেন, ‘ভাড়াও তুলনামূলক বেশি। আর দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। তাহলে এক সিট খালি রাখার যুক্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো।’

সিটের আক্ষেপ যাত্রীদের : সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ শিথিলের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদেশে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এতে খুশি সাধারণ জনগণ। তবে শুরুর দিনই বাসে সিট পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ অনেকের মধ্যে।

বাসের ভেতর নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রীদের বসানো হলেও মূল ঝামেলা বাধে ওঠার আগে। বাসের অপেক্ষায় সামাজিক দূরত্ব না মেনেই জটলা করে দাঁড়িয়ে আছেন যাত্রীরা। অনেক দিন পর ঢাকার সড়কে বাস পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তবে বাসে সিট পাওয়া নিয়ে বাধে মূল ঝামেলা। অর্ধেক সিটে যাত্রী পরিবহণ করায় বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। অনেকে কাঙ্খিত সময়ে বাস না পেয়ে কর্মস্থলে রওনা হন গত কয়েকদিনের নিয়মেই।

বাইরের গণপরিবহন প্রবেশ ঠেকাতে মনিটরিং

ঢাকার বাইরের গণপরিবহন যেন রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে তা মনিটরিং করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ বিষয়ে কথা হয় শনিরআখড়া-কাজলায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সার্জেন্ট মো. জুয়েল বলেন, সাইনবোর্ডে আমাদের চেক পোস্ট আছে। সেখানে ঢাকার বাইর থেকে আসা গণপরিবহন প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা ফ্লাইওভারের এখানে দায়িত্ব পালন করছি। এখন পর্যন্ত ঢাকা বাইরে কোন গণপরিবহন প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি