LalmohanNews24.Com | logo

২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৫ই জুলাই, ২০২০ ইং

করোনা সন্দেহে মৃত্যু, পানি চেয়েও পানি পাননি তিনি

করোনা সন্দেহে মৃত্যু, পানি চেয়েও পানি পাননি তিনি

ফেনীর সোনাগাজীতে করোনা উপসর্গে নিয়ে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।  আর এতে ভয়ে মরদেহ রেখে পালিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এমনকি মৃত্যুকালে তার পরিবারের সদস্যসহ ঐ বাড়ীর কেউই তার পাশে ছিলেন না।  জনমানবহীন শূন্যগৃহে মরদেহটি পড়েছিল এলোমেলোভাবে।
অপরদিকে তার মরদেহ দাফনে কেউ এগিয়ে আসতে রাজি হচ্ছিলনা। দুই-তিনজন এগিয়ে আসতে উদ্যোগী হলে স্থানীয় তাদের বাধা দেয়।  বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন পর্যায়ে জানাজানি হলে তারা এগিয়ে আসেন। পরে মরদেহ দাফন করা হয়। রোববার (৩১ মে) দিনগত রাতে সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি শ্বাসকষ্ট, জ্বরসহ করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন।
স্থানীরা জানান, চট্টগ্রামে বসবাসরত মৃতের পরিবার পূর্ব থেকেই তার করোনার উপসর্গের কথা জানতেন। এর দুইদিন আগে পরিবারের আরও সদস্যসহ তারা বাড়িতে আসেন। মৃত ব্যক্তির নাম সাহাব উদ্দিন (৫৫)। তিনি চট্টগ্রামে একটি পেট্রোল পাম্পে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী, তিন ছেলে, তিন মেয়ে ও তিন জামাতা আছে। দুই ছেলে কাজের সূত্রে গ্রামের বাইরে থাকেন।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, রোববার বিকেলে ওই ব্যক্তির কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফলাফল আসেনি।
সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু জানান, মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ ফেলে পালিয়েছেন। মৃতের স্ত্রী, মেয়ে, জামাতা কেউ মরদেহ দাফনে আসতে রাজি নন। তার আত্মিয় স্বজনরাও আসছেন না। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মৃতের দাফনের সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান আরো জানান, চট্টগ্রাম থেকে আসার পর পরিবারের কেউ সাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেননি। দুপুরে তাকে খাবারও দেননি। বিকেলে শ্বাসকষ্ট ও কাশি বেড়ে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার করে খাবার চাইলেও কেউ দেননি। পানিও পাননি। তাকে শয়নকক্ষে তালা লাগিয়ে রাখেন পরিবারের সদস্যরা। ছোট ছেলে এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে বোনেরা বাধা দেন। এভাবে চিৎকার করতে করতে রাত ১০টার দিকে সাহাব উদ্দিনের মৃত্যু হয়। রাতে সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন তিনি মারা গেছেন। এরপর সবাই যার যার ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে ঢুকে যান। পরে ছোট ছেলে ‘বাবা মারা গেছে’ বলে চিৎকার শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফেরদৌস রাসেল বলেন, ‘বাড়ির একটি কক্ষে সাহাব উদ্দিনকে রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। ছিটকিনি খুলে আমরা ভেতরে বিভৎস দৃশ্য দেখতে পাই। সম্ভবত সাহাব উদ্দিনের শ্বাসকষ্ট উঠেছিল এবং তিনি তা সহ্য করতে না পেরে মাটিতে গড়াগড়ি করেছিলেন। তার পরনের কাপড় খোলা অবস্থায় পাশে পড়েছিল।’ পরে তারা দাফনের ব্যবস্থা করেন।
চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দাফনের জন্য পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইক্যুপমেন্ট (পিপিই) সংগ্রহ করা হয়েছে। থানা থেকে মরদেহের জন্য ব্যাগ আনা হয়েছে। রাতের মধ্যেই জানাযা ও দাফনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি