LalmohanNews24.Com | logo

১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এরদোগানের ‘নতুন তুরস্ক’ গড়ার লক্ষ্য কী পূরণ হলো?

বিজ্ঞাপন

এরদোগানের ‘নতুন তুরস্ক’ গড়ার লক্ষ্য কী পূরণ হলো?

কোনো কোনো তারিখ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।  তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ক্ষেত্রেও ১৫ জুলাই দিনটি বিশেষ স্মরণীয়।  ৫ বছর আগে এই দিনে তার বিরুদ্ধে ব্যর্থ ক্যু হয়েছিল।  সেনাবাহিনীর একাংশের ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা সফলতার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিল এরদোগান প্রশাসন।

তুরস্কের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসকের বিরুদ্ধে এটি ছিল সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র।  সেটি সামাল দিয়ে এরদোগান নতুন তুরস্ক গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।  প্রশ্ন হচ্ছে ৫ বছরে এরদোগান কী তার লক্ষ্যে সফল হয়েছেন।  তুরস্কে ব্যর্থ ক্যু বার্ষিকী নিয়ে এক বিশ্লেষণে এই প্রশ্ন তুলেছেন আল মনিটরের কলাম লেখক চেঙ্গিস চন্দর।

প্রায় ৫ দশক ধরে সাংবাদিকতা করা চেঙ্গিস আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে সাত সাতটি বইয়েরও রচয়িতা।
তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে লিখেছেন, ক্যু ব্যর্থ করে দেওয়ার পর গত ৫ বছরে এরদোগান সংসদীয় গণতন্ত্রের বদলে একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেওয়ার দাবি করে ওই রাতেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন, ক্যু চেষ্টাকে তিনি আশীর্বাদ হিসেবে নিয়েছেন।  এরপর গত ৫ টি বছরে তিনি তার কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার অধীনে ’নতুন তুরস্ক’ গড়ে তোলতে সক্ষম হয়েছেন।

গত ১৪ জুলাই সরকারি তথ্যমতে, ওই অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৮৯০ জনকে বন্দি রাখা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩০০০ ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে।  এ ঘটনার পর ৪৪ হাজার জওয়ানকে সেনাবাহিনী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।  তুরস্কের হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশন ও হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন দাবি করেছে, ওই ঘটনার পর ১ লাখ ১৪ হাজার সরকারি চাকুরেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  তাদের বেশিরভাগই সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আর চাকরি পাননি।  ২০১৬-১৮ সাল নাগাদ দেশটিতে জরুরি অবস্থা চলাকালে ওইসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি।

গত ৫ বছরে তুরস্কের সংবিধান কাঁটছেঁড়া করা হয়েছে বহুবার।  সেখানে প্রেসিডেন্টকে একক কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।  সংবিধান পরিবর্তন করে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী পদটিকে নিছক আলঙ্করিক করা হয়েছে।  সব নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের হাতে ন্যাস্ত করা হয়েছে।

ওই অভ্যুত্থানে সাড়ে ৮ হাজার সেনা অংশ নেন। ৩৫ টি সেনা উড়োজাহান, ২৪৬ ট্যাঙ্ক ও হামলায় অংশ নেয়।  অভ্যুত্থান ব্যর্থ করার দাবি করেই এ ঘটনার জন্য এরদোগান গুলেনের হিজমত আন্দোলন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে তিনি তুর্কি সমাজ, গণমাধ্যম, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থায় গুলেনের শক্তিশালী উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার অভিযোগ ওঠার পর ১৯৯৯ সালে গুলেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ফোকোনো পাহাড়ি এলাকার ছোট একটি শহরে বাস করেন।

৭৫ বছর বয়সী গুলেন একসময় এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি