LalmohanNews24.Com | logo

৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ইয়াবা ডিলাররা রাতারাতি কোটিপতি হবার মিশনে, জড়িতরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

ইয়াবা ডিলাররা রাতারাতি কোটিপতি হবার মিশনে, জড়িতরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

নিউজ ডেস্কঃ সমুদ্রতটে গড়ে ওঠা উপজেলার নাম আনোয়ারা। বহমান নদীর কিনারে অবস্থিত কর্ণফুলী। দুটি উপজেলা পাশাপাশি সমুদ্র ঘেঁষা এবং জীবন বৈচিত্রে ভরপুর। সাগর এবং সড়ক উভয় পথে রয়েছে সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। কোস্টগার্ড এবং র‌্যাব-পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারার সুযোগ থাকায় এখানে গড়ে ওঠেছে নিষিদ্ধ ইয়াবার সাম্রাজ্য।

 

এক প্রকার ওপেন সিক্রেট বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্টরা প্রায় সকলেই রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। যেটাকে এলাকার মানুষ আঙ্গল ফুলে কলাগাছ এরকম প্রবাদের সাথে তুলনা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে উপকূলীয় এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যারা মৎস্য শিকার ও অন্যান্য ছোট-খাট ব্যবসা চাকরীর সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে খুব সাদামাটা জীবন অতিবাহিত করতেন তাদের অনেকেই এখন গাড়ী বাড়ীর মালিক। গ্রামের মেঠোপথে কোল ঘেষে গড়ে তোলেছেন সুরম্য অট্টালিকা।

গ্রাম ছাড়িয়ে শহরেও রয়েছে তাদের আলীশান বাড়ী, দামী গাড়ী। সাধারণ নাগরিকরা তাদের এ আকষ্মিক পরিবর্তনের রহস্য নিয়ে চিন্তিত হলেও পিছনে ইয়াবা ও মাদকের নগদ বাণিজ্যকেই মূলধন কিংবা উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্ণফুলি-আনোয়ারার অর্ধশত মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ ধরা ট্রলার ব্যবসার আড়ালে জড়িয়ে পড়েছেন ইয়াবা নামক মাদক ব্যবসায়। অল্প সময়ে কোটিপতি হবার স্বপ্নে তাঁরা নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন অপরাধীর তালিকায়।

বিশেষ সুত্রে জানা যায়, রাতের আধারে মিয়ানমার (বার্মা) সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মাঝ দরিয়ায় ট্রলার হতে ইয়াবা খালাস করে ছোট নৌকায়। যাতে সন্দেহ না করে কোস্টগার্ড। আনোয়ারা কর্ণফুলীর বাহিরে নদীতে এসে স্থির হয় এসব নৌকা বা ট্রলার। পরে কৌশলে স্পীডবোটে ১০ মিনিটেই নিয়ে আসে লোকালয়ে ইয়াবার চালান। এভাবে রাতে কিংবা দিনে বিভিন্ন ঘাট ও পথ দিয়ে প্রবেশ করে নিষিদ্ধ ইয়াবা। পরে উপজেলার শীর্ষ ইয়াবা ডিলারা ও ব্যবসায়ীরা তাদের সহযোগিদের মাধ্যমে এ ইয়াবা ছড়িয়ে দেয় গ্রাম হতে শহরের সর্বত্র।

জানা যায়, আনোয়ারার পারকি গ্রামের জলিল আহমেদ মাছ ধরা পেশার আঁড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে ইয়াবা ব্যবসা। গত বছরের ৬ আগষ্ট কোস্টাগার্ডের হাতে সেন্টমার্টিন এলাকায় ধরা পড়ে জলিলের ছেলে ফরিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাগরপথে ইয়াবার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন আনোয়ারার বদলপুরা গ্রামের আবু জাফর ও হালিশহরের জাহেদুল ইসলাম ওরফে আলো। এ দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী মিয়ানমার সীমান্ত থেকে মাছ ধরার ট্রলারে ইয়াবা এনে খালাস করতেন সরাসরি আনোয়ারা উপকুলে। পরবর্তীতে পতেঙ্গা পয়েন্ট দিয়ে এসব ইয়াবা পাচার করতো চট্টগ্রাম মহানগরী ও রাজধানী ঢাকায়।

গত বছরের ২৬ জুলাই র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন শীর্ষ ইয়াবা পাচারকারী আবু জাফর এবং কয়েকদিন পর একইভাবে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন জাহেদুল ইসলাম আলো। দুই ইয়াবা সম্রাটের মৃত্যুর পর সাগরপথে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এখন অন্যদের হাতে।

বিভিন্ন সময়ে যাদের নাম গণমাধ্যমে এসেছে তাঁরা হলেন, আনোয়ারার সোলেমান ওরফে মানু, শহরের আবুল কালাম, আনোয়ারার জলিল আহমেদ, দক্ষিণ পরুয়া পাড়া গ্রামের হাসান মাঝি, ছাবের আহমেদ, দোভাষীর জসিম, আজু মিয়া, চুন্নু পাড়া গ্রামের কালামনু, কালাইয়া, জেলে সাদ্দাম হোসেন, মোহরম আলী, ভুইশ্যা চুন্নু পাড়ার মোকারম, চুন্নুপাড়ার নুরুল আইয়ুব প্রমুখ।

এদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে আনোয়ারা বটতলী বাজারের বিকাশ এজেন্ট ও ডাচ বাংলা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকে বড় অংকের টাকা লেনদেন করছে ইয়াবা ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখতে। এ সমস্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরধারী বৃদ্ধির দাবী এলাকাবাসীর।

এছাড়াও ছনহরার আবদুর রহিম ও পটিয়া জিরি এলাকার সরওয়ার, আনোয়ারার চুন্নু বাড়ির আবদুল জব্বারসহ আরো অনেকে। ইতিমধ্যে আব্দুল জব্বার কয়েকবার আটক হলেও নগদ অর্থে ছাড় পেয়ে বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক ব্যবসা।

হাজী বাড়ির আবু সৈয়দ, গলাকাটা গ্রামের নাছির, আবু সৈয়দ এর ছেলে নাসির, শফিক, রায়পুরার নুরুল আমিন, গহিরার জাহাঙ্গীর সহ আরো অনেক যুবক যুক্ত এ অবৈধ মরণ নেশার বাণিজ্যের সাথে।

আনোয়ারার উপকুলীয় এলাকা গহিরা, রায়পুর, বদলপুরাসহ পুরো এলাকায় ভয়াবহ মাদকের থাবায় নিমিষেই বিপথে যাচ্ছে অনেক তরুণ-যুবকের জীবন। ওপেন ইয়াবা তথা মাদক বাণিজ্য রোধে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপও তেমন একটা দেখা যায়না বলে এলাকাবাসীর দাবী।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ভুমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বিভিন্ন মিটিং ও আইন শৃঙ্খলা সভায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হতে নির্দেশ দিলেও কিছুতেই থামছেনা মাদক ব্যবসা। গত বছরের ২৩ আগষ্ট উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভায় প্রতিমন্ত্রী জাবেদ বলেছিলেন, ’আমি নিজে দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘোর বিরোধী। অপকর্মকে আমি কোন অবস্থাতেই সমর্থন করিনা। আমার কিংবা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অনিয়মে জড়িত হলে এমনকি ইয়াবার মত ভয়াবহ মাদক পাচারে জড়িত হলে ব্যবস্থা নেবার কথা বলেছিলেন তিনি।

তাছাড়া আনোয়ারায় এক ফুটবল খেলার অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কালো থাবায় আনোয়ারা কর্নফুলী এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। সমাজের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। যেকোন উপায়ে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করা এবং কাউকে ছাড় না দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে জারি করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঘোষিত জিরো টলারেন্স পুনরায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের উপর প্রয়োগ করারও মত প্রকাশ করেন।

আরো তথ্য রয়েছে, আনোয়ারা উপকূলে এসব মাদক পাচারকারীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও খবর প্রচার করে হামলার শিকার হয়েছিলো যমুনা টেলিভিশনের ’ইনভেস্টিগেশন ৩৬০’ ডিগ্রি অনুষ্ঠানের ডেপুটি এডিটর অপুর্ব আলাউদ্দিন, ক্যামেরাপার্সন কাজী ইসমাইল হোসেন ও রুবেল এবং চ্যানেল নাইনের ক্যামেরাপার্সন বিপ্লব মজুমদারসহ কয়েকজন সাংবাদিক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার, বান্দরবান, নাইক্ষ্যংছড়ির ২৭টি পয়েন্ট দিয়ে সাগর পথে মাদক আসে। পরে তা কৌশলে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকায় প্রবেশ করে। আনোয়ারার জুঁইদন্ডী, রায়পুর ইউনিয়নের গলাকাটা ঘাট, পারুয়া পাড়া, বাচা মিয়া মাঝির ঘাট, চিপাতলি ঘাট, ঘাটকুল, গহিরা, সারেঙ্গা, পারকি সমুদ্র উপকুল, বরুমচড়া, লারদ্বীপ ঘাট দিয়েও চালান আসে। তাছাড়া কর্ণফুলীর ইছানগর, পুরাতন ব্রিজঘাট, চরলক্ষ্যা, খোয়াজনগর, চরপাথরঘাটা, মইজ্জারটেক, ক্রসিং, শিকলবাহার মাস্টারহাট এলাকায় বেড়েছে ইয়াবার খুচরা গ্রাহক। ইছানগর এলাকা হতে কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছে ইতোমধ্যে।

প্রতিবেদক আনোয়ারা কর্ণফুলীর বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে তথ্য পান, এসব মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে দুই উপজেলার ক্ষমকতাসীন কিছু দলীয় পরিচয় নামধারী নেতা ও স্থানীয় গুটিকয়েক বিকৃত রুচির মানুষ জড়িত।

নাম প্রকাশ না করা এলাকার শিক্ষিত সচেতনমহল দাবি করেন, এসব ইয়াবা ডিলার ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে দুই থানায় দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত পুলিশের সাথে সখ্যতা রয়েছে। কিছুু বিতর্কিত জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদেরও প্রতিমাসে পুলিশের মতো মাসোহারা দেয় এমন অভিযোগও রয়েছে।

সচেতন মহলের অভিমত, অতিদ্রুত এসব অদৃশ্য সিন্ডিকেট ভেঙ্গে প্রশাসনে রদবদল করা জরুরী। তাছাড়া সাধারণ জনগণ সোচ্চার না হলে এ মরণঘ্যাতির থাবা কখনো বন্ধ হবে বলে মনে হয়না। প্রতিটি ইউনিয়নের ঘাট এলাকায় পুলিশি টহলও রাতে জোরদার করা জরুরী বলে তারা মনে করেন। কেননা মাঝরাতে অপরিচিত দামি গাড়ি ও মোটরবাইকের সন্দেহাতীত চলাচল বেড়েছে দুই উপজেলায়। তা পর্যবেক্ষণ করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অনেকাংশে মাদক ব্যবসা কমবে বলে ধারণা করেন তাদের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আনোয়ারার আব্দু জব্বার (প্রকাশ পট্টবিদ) শীর্ষ পর্যায়ের ইয়াবা ডিলার। তাকে অনেকে বলেন, ‘ইয়াবা সম্রাট’। এছাড়াও রোহিঙ্গা নাগরিক শহরের সুগন্ধায় বসবাস করা বার্মাইয়া রশিদ উল্ল্যাহ হলো চট্টগ্রাম শহরের বড় মাপের ইয়াবা কিং। যার সাথে সামাজিক যোগাযোগ স্যোসাল এ্যাপস ইমোর মাধ্যমে মিয়ানমারের চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে রয়েছে প্রতিনিয়ত কানেকশন। তাঁর সহযোগি হিসেবে আনোয়ারায় রয়েছে নাসির নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ী। যারা দিনের আলোতে সাঁজে দানবীর, রাতে মাদক চক্রের কিং। এসব লোকজনই গড়ে তুলেছেন ইয়াবার বড় সিন্ডিকেট। যাদের হাত দিয়ে পাচার হচ্ছে এসব ইয়াবা।

জানা গেছে, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কয়েকমাস আগে আনোয়ারার ইয়াবা পাচারকারী বহু মাদক মামলার আসামী ও কোস্টগার্ডের উপর হামলাকারী ইয়াবা গুরু নুর সৈয়দ (৪৮)কে আটক করে। যা ডিবি পুলিশের জন্য ছিল প্রশংসনীয় ও ইতিবাচক।

র‌্যাবের অভিযানে বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা বন্দুক যুদ্ধে মারাও যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশকে নানা বিতর্কিত ঘটনায় শিরোনাম হতে দেখেছি “খাঁদে পড়া সিএমপি টেনে তুলে পিবিআই”। এমনকি নগরীতে অনেককে কানাঘুষা করতে শোনা যায়, সাবেক এসপি বাবুল আকতার সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে থাকাকালে বহু আলোচিত মামলায় সফল অভিযান পরিচালনা করে দেখালেও বর্তমান নিষ্প্রভ আর অনুজ্জ্বল গোয়েন্দারা।

অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, বহু আলোচিত মামলার আসামী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে গোপনে অর্থের বিনিময়ে মাঠে ছেড়ে দেওয়া এবং আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে কার্পণ্য করার ফলে ইয়াবা ব্যবসার দিন দিন প্রসার ঘটছে।

তথ্যমতে, গত ১৪ই ফ্রেবুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে দুপুর ১২টায় নগরীর টেরি বাজার মোড় হতে ডিবি পুলিশের এসআই পল্লব আটক করে আনোয়ারা উপজেলার শীর্ষ মাদক ডিলার আব্দু জব্বার (প্রকাশ ইয়াবা পট্টবিদ) কে। পরে আটককৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মোবাইলে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আটককৃত মাদকপাচারকারীর আপন মেয়ের জামাই নজু মিয়া রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে ছাড়িয়ে নেয় বলেও জানা যায়।

ডিবি পুলিশের এমন ভূমিকা উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ না জানলেও এতে সাধারণ জনগণ শঙ্কিত। অন্যদিকে গত ৮ই ফ্রেবুয়ারি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবদুর রব বন্দর এলাকা হতে রাত ১টায় আমির হোসেন নামে এক রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসায়ীকে তার বাসা হতে আটক করে। পরে তল্লাশী চালিয়ে ওর ব্যাংকের চেক ও নগদ ২লক্ষ ৩০ হাজার টাকাসহ পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসেন।

পরের দিন সকালে ভয়ভীতি দেখিয়ে আরো ১০ লাখ দাবি করে মামলা না দেয়ার কথা বলে। প্রানের ভয়ে ওর পরিবার পুনরায় আরো ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গুজিয়ে দেয় পুলিশের হাতে। এতে দূর্ধর্ষ ইয়াবা পাচারকারীকে দুর্বল এজহারে ফরোয়ার্ড করে বাকলিয়া থানায় জানুয়ারী মাসে দায়েরকৃত এক মামলায়। এতে দেখা যায়, পুলিশ কমিশনারের ফরওয়ার্ড না নিয়ে ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কামরুজ্জামান তড়িগড়ি করে কোর্টে প্রেরণ করেন।

পরে ভিকটিম পরিবার সাংবাদিকদের অভিযোগ করে ডিবি পুলিশ ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে বলে। এভাবে একের পর বিতর্কিত ঘটনা ও অভিযোগে ডিবি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে সচেতনমহলের অভিমত।

সূত্র জানায়, আনোয়ারা কর্ণফুলি কেন্দ্রিক মাদক বাণিজ্য বন্ধ করতে বড় ধরনের কোন অভিযানে এখনো নামেনি প্রশাসন। বিতর্কিত কিছু প্রভাবশালী মানুষের সম্পৃক্ততার কারণে মাদক অভিযান ও নির্মূলে প্রশাসন সফল হচ্ছে না বলে ধারণা সাধারণ মানুষের।

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে টাকা দিয়ে অধরা থাকছেন এসব ইয়াবা ডিলাররা। মাদক ব্যবসায়ীরা আটক হলেও ক্যাশ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। ফলে পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছে এসব ব্যবসায়ীরা। এ কারণেই সমাজ থেকে মাদক বাণিজ্য বন্ধ হচ্ছে না। ফলে কারবারিরা রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে।

তথ্যমতে, হলুদ রঙের নতুন ইয়াবা ‘আইপিআই নতুন মোড়কে ঠাঁয় পাচ্ছে আনোয়ারা কর্ণফুলীত। এই ইয়াবা বড়ির ওজন আগের বড়ির প্রায় দ্বিগুণ। আগের প্রতিটি ইয়াবা বড়ির ওজন ছিল শূন্য দশমিক ১০ গ্রাম। নতুন প্রতিটি বড়ির ওজন এখন শূন্য দশমিক ১৯ গ্রাম। আগে গোলাপী ইয়াবায় ঘ্রাণ ছিল। এখন নতুনটাতে আছে ভিন্ন এক সুগন্ধি।

এ বিষয়ে কর্ণফুলি থানার ওসি সৈয়দুল মোস্তফা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কর্ণফুলি থানা খুব সোচ্চার। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশপাশি এলাকার জনগণকে বেশি এগিয়ে আসতে হবে। কেননা জনগণ সহযোগিতা করলে আশা করি পুলিশ মাদক নির্মূলে সফল হবে।

আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদ বলেন, আমি আসার আগে আনোয়ারা গহিরা ঘাট দিয়ে অবাধে মাদক প্রবেশ করত। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে”।

অন্যদিকে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা কেমন সহযোগিতা করে জানতে চাইলে ওসি বলেন, আসলে অনেকে চায়, অনেকে চায়না মাদক নির্মূল হোক। কেননা অপরাধীরা বেশ ধুর্ত। গোপনে অনেক জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতা করে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত অনেক মাদকব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠালেও জামিনে অনেকে বের যায় বলে জানান তিনি”।

 

হাসান পিন্টু

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি