LalmohanNews24.Com | logo

১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

আজ বিশ্ব সুখ দিবস, সুখ আসলে কী?

আজ বিশ্ব সুখ দিবস, সুখ আসলে কী?

অফিসের ফিল্ড ভিজিটের কাজে আমাকে দেশের নানান উপজেলায় ট্যুর দিতে হয়। অভ্যাসবশত আমি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলি। মাস কয়েক আগে, আমি কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভিজিটে গিয়েছিলাম। সেখানে এক বৃদ্ধকে দেখলাম সম্ভবত ভিক্ষুক, খুব মন দিয়ে একটা কেক চা দিয়ে ভিজিয়ে খাচ্ছেন। ভাবটা এমন যেন কেক আর চা পৃথিবীর সর্বসুস্বাদু খাবারের মধ্যে একটি।

খুব আগ্রহ নিয়ে কাছে গিয়ে আমি একই কেক আর চা নিয়ে তাঁর মতো খাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্ত বাসি কেক আর পানসে চা এক চুমুকের বেশি খেতে পারলাম না। এরপর আমি বৃদ্ধের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর এক পর্যায়ে জিজ্ঞাসা করলাম, চাচা খুব মন দিয়ে পানসে চা আর বাসি কেক খাচ্ছেন, খুব ক্ষুধা লেগেছে? আমার সঙ্গে দুপুরের খাবার খাবেন? উত্তরে বৃদ্ধ বললেন, ‘না বাবা, আমি এই কেক আর চা খেয়েই খুশি।এতেই আমার সারাদিন চলে যাবে।’

এরপর অন্য প্রসঙ্গে কথা বলে আমি হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে কোরিডরে হাঁটছি।  পাশের রুম থেকে একজন ফোনে কথা বলছে তাঁর প্রেমিকা অথবা স্ত্রী (হয়তো) সঙ্গে। হাঁটার সময় লোকটার কথা আমার কানে আসলো, ‘দুপুরে সি মাউন্টে লাঞ্চ করেছি, তোমাকে খুব মিস করছিলাম।’

কথাটা শুনে মনে হলো, ভালো এবং দামী খাবার খেয়েও একজনের অনপুস্থিতে তিনি অখুশি অনুভব করছেন। অথচ দুপুর বেলার সেই বৃদ্ধ মানুষটি একটা কেক আর চা খেয়েই বলছেন উনি খুশি। তারমানে, সুখ একেকজনের কাছে একেকরকম। আপনার কাছে অঢেল অর্থ আছে, কিন্তু আপনি সুখী নন। আবার সারাদিন না খেয়ে থেকেও অনেকেই সুখী। যেমন বিল গেটস এর কথাই ধরুন, বিশ্বের সর্বোচ্চ ধনীদের একজন অথচ সংসার জীবনে সুখী হতে পারেনি বলেই ডিভোর্স হলো।

মমতাজ উদ্দিনের নাটিকা ‘সুখী মানুষ’ পড়েছিলাম ছোটবেলায়, মানুষকে ঠকিয়ে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে ধনী হওয়া এক মোড়লের জীবনে শান্তি নেই। চিকিৎসক বলেছেন, কোনো সুখী মানুষের জামা গায়ে দিলে মোড়লের অসুস্থতা কেটে যাবে। কিন্তু পাঁচ গ্রাম খুঁজেও একজন সুখী মানুষ পাওয়া গেল না। শেষে একজনকে পাওয়া গেল, যে নিজের শ্রমে উপার্জিত আয় দিয়ে কোনোভাবে জীবিকানির্বাহ করে সুখে আছে। তার কোনো সম্পদ নেই, ফলে চোরের ভয় নেই। সুতরাং শান্তিতে ঘুমোনোর ব্যাপারে তার কোনো দুশ্চিন্তাও নেই। শেষ পর্যন্ত সুখী মানুষ একজন পাওয়া গেলেও দেখা গেল তার কোনো জামা নেই। সুতরাং মোড়লের সমস্যার সমাধান হলো না।

গল্পের সারমর্ম হলো সম্পদই আপনাকে সবসময় সুখ দিতে পারবে না। সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। একজনের অনেক সম্পদ থেকেও সুখ নেই, আবার আরেকজনের কিছু না থাকলেও সে সুখী থাকতে পারে।
অনেকদিন আগের কথা। এক আড্ডায় আমি আলোচনা করছিলাম সুখ এবং শান্তির মধ্যে পার্থক্য কী? আড্ডায় আরও বেশ কয়েকজন ছিলেন, কেও কেও বলছিলেন, সুখ চাইলে টাকা দিয়ে কেনা যায়, কিন্তু শান্তি নয়। অনেকেই আবার বলেছিলেন সুখ নির্ভর করে শান্তির উপর। কেও কেও আবার আক্ষেপ করে বললেন, সুখ শান্তি কোনটাই কপালে নেই, তাও এর উত্তরও জানা নেই। যাইহোক, বিষয়টা “সহজ কিন্তু জটিল” এমন উপসংহার শেষমেষ আমাদের টানতে হলো।

কিন্তু জাতিসংঘ বলছে ভিন্ন কথা, ‘ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণসহ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি নির্ভর করে।’ আর শান্তি? সেটা হলো আত্মিক আর মানসিক বিষয়।

আজ বিশ্ব সুখ দিবস। সারা পৃথিবীতে ২০শে মার্চ সুখ দিবস পালন হয়ে আসছে। ভুটান সুখ দিবস পালন করার জন্যে জাতিসংঘকে প্রথম প্রস্তাব দিয়েছিলো। এরপর ২০১২ সালের ২৮শে জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২০শে মার্চ বিশ্ব সুখ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অধিবেশনে জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিরা দিবসটিকে স্বীকৃতি দেন।

প্রস্তাবে জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রকে শিক্ষা ও জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডসহ যথাযথ রীতিতে আন্তর্জাতিক সুখ দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বিশ্বের অনেক দেশেই দিবসটি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন হয়। জাতিসংঘের উপদেষ্টা এবং শান্তি ও নিরাপত্তা অর্থনীতিবিদদের প্রতিনিধি জেম এলিয়েন দিবসটির প্রতিষ্ঠাতা। খবর-মানবজমিন

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

  • সম্পাদক ও প্রকাশক:

    মোঃ জসিম জনি

    মোবাইল: 01712740138
  • নির্বাহী সম্পাদক: হাসান পিন্টু
  • মোবাইলঃ০১৭৯০৩৬৯৮০৫
  • বার্তা সম্পাদক: মো. মনজুর রহমান