LalmohanNews24.Com | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

অনৈতিকতায় ঠেলে দিল মা-বাবা, অন্তঃসত্ত্বা হয়ে মেয়ে থানায়

অনৈতিকতায় ঠেলে দিল মা-বাবা, অন্তঃসত্ত্বা হয়ে মেয়ে থানায়

ঝালকাঠিতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে মা ও সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে অনন্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে শহরের কালীবাড়ি সড়কের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ মা ও সৎ বাবাকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার মহোদীপুর গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে হয় সাহেরা আক্তার কাজলের। তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। পারিবারিক কলহের জেরে তাদের সংসার ভেঙে যায়। একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে কাজল ঝালকাঠিরর কাঠপট্টি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় চলে আসেন। ২০১৪ সালে কাজল শহরের কালীবাড়ি সড়কের ইলেকট্রিক মেকার মো. আলমকে বিয়ে করেন। কাজলের মেয়ে তাদের সঙ্গেই থাকতো। মেয়েটিকে জোর করে তারা অন্য পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন। প্রায় ৮ মাস আগে থেকে অনৈতিক কাজ করিয়ে মা ও বাবা টাকা উপার্জন করতেন। মেয়েটি এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায়ও শিশুটিকে অনৈতিক কাজে আবারো বাধ্য করা হলে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাকে কাঠপট্টির বাসা থেকে উদ্ধার করে এবং তারা মা ও সৎ বাবাকে আটক করে। আজ বুধবার সকালে চিকিৎসার জন্য তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

শিশুটি জানায়, আমাকে জোর করে এ কাজে বাধ্য করা হয়েছে। আমার মা ও সৎ বাবা অন্য পুরুষ ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে পাহারা দিতো। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ ধরনের কাজ করা হয়েছিল। বিনিময়ে তারা (মা, বাবা) ওইসব লোকদের কাছ থেকে টাকা নিতো। এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য আমাকে ভয়ভীতি দেখাতো বাবা। আমি বুঝতে পারিনি আমার গর্ভে সন্তান এসেছে। এ খবর শুনে আমি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঠপট্টি এলাকার এক নারী বলেন, কাজলের ঘরে প্রতিদিনই নতুন নতুন লোক আসা যাওয়া করতো। প্রথমে আমরা বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে যখন কিছুটা সন্দেহ হলো। তখন জানতে চাইলে কাজল বলতো, মামাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, খালাতো ভাই, চাচাতো ভাই। এসব বলে আমাদের বুঝাতো।

প্রতিবেশী সাগর হাওলাদার বলেন, মেয়েটির মাও ভালো না। তার মেয়ের বয়স যখন ১২ তখন থেকেই ঘরে লোকজন আসা যাওয়া করতো। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু তারা উল্টো আমাদের ভয় দেখাতো। আমরা শুনেছি মেয়েটি চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসান বলেন, আমরা ঘটনা শুনে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে আমরা মেয়েটির মা ও সৎ বাবাকে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি