LalmohanNews24.Com | logo

২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

‌মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিরাজঃ

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : এপ্রিল ১২, ২০১৮, ২৩:১১

বিজ্ঞাপন

‌মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিরাজঃ

মুহাম্মদ ফজলুল কবীর আল আজাদ শাহীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক- নাজিরপুর লতিফিয়া ইসলামিক কমপ্লেক্স।।
_________________________________
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মো’জিজাসমূহের মধ্যে মিরাজ গমন একটি বিস্ময়কর মো’জিজা। এ জন্যই মিরাজের ঘটনা বর্ণনা করার আয়াতের শুরুতেই আল্লাহ্ পাক ‘সুবহানআল্লাহ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা আশ্চর্যজনক ঘটনার সময়ই ব্যবহার করা হয়। সশরীরে মিরাজ গমনের প্রমাণস্বরূপ কোরআনের ‘বিআব্দিহী’ শব্দটি তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা ‘আব্দুন’ শব্দটি দ্বারা বুঝানো হয় রুহ ও দেহের সমষ্টিকে। তদুপরি বোরাক প্রেরণ ও বোরাক কর্তৃক নবী করিম (সাঃ) কে বহন করে নিয়ে যাওয়ার মধ্যেও সশরীরে মিরাজ গমনের প্রমাণ পাওয়া যায়। স্বপ্নে বা রুহানীভাবে মিরাজের দাবি করা হলে কুরাঈশদের মধ্যে এতো হৈ চৈ হতো না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পূর্ববর্তী সকল ইমামগণই সশরীরে মিরাজ গমনের কথা সমর্থন করেছেন।
মিরাজের ঘটনাটি নবীজি (সাঃ) জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, এর সঙ্গে গতির সম্পর্ক এবং সময় ও স্থানের সঙ্কোচনের তত্ত্ব জড়িয়ে আছে। সূর্যের আলোর গতি সেকেন্ডে একলক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল। পৃথিবীতে সূর্যের আলো পৌঁছাতে সময় লাগে আট মিনিট বিশ সেকেন্ড। এ হিসেবে পৃথিবী হতে সূর্যের দূরত্ব নয় কোটি তিরিশ লক্ষ মাইল। অথচ নবী করিম (সাঃ) মুহূর্তের মধ্যে চন্দ্র, সূর্য, সিদরাতুল মুন্তাহা, আরশ-কুরছি ভ্রমণ করে লা-মাকানে আল্লাহ্ তায়ালার দীদার লাভ করে ফের মক্কা শরীফে ফিরে এলেন। এসে দেখলেন বিছানা তখনো গরম রয়েছে। এর চেয়ে আশ্চর্য আর কি হতে পারে? নবী করিম (সাঃ) এর গতি কত ছিল– এ থেকেই অনুমান করা যায়। কেননা তিনি ছিলেন নূর।
মিরাজের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্যান্য নবীদের সমস্ত মো’জিজা নবী করিম (সাঃ) এর মধ্যে একত্রিত হয়েছিল। হযরত মুসা (আঃ) তুর পর্বতে আল্লাহর সাথে কালাম করেছেন। হযরত ঈছা (আঃ) সশরীরে আকাশে অবস্থান করছেন এবং হযরত ইদ্রিছ (আঃ) সশরীরে বেহেস্তে অবস্থান করছেন। তাদের চেয়েও উন্নত মকামে বা উচ্চমর্যাদায় আল্লাহ্ পাক নবী করিম (সাঃ)কে নিয়ে সবার উপরে তাকে মর্যাদা প্রদান করেছেন। মুসা (আঃ) নিজে গিয়েছিলেন তুর পর্বতে। আর আমাদের প্রিয় নবী করিম (সাঃ)কে আল্লাহ্ তা’আলা দাওয়াত করে বোরাকে চড়িয়ে ফেরেস্তাদের মিছিল সহকারে বায়তুল মোকাদ্দাছে নিয়েছিলেন। সেখানে সমস্ত নবীগণকে সশরীরে উপস্থিত করে হুজুর করিম (সাঃ) এর মোক্তাদী বানিয়েছিলেন। সেদিনই নবীগণের ইমাম হতে নবী করিম (সাঃ) ‘ইমামুল আম্বিয়া’ বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছিলেন। নবীগণ অষ্ট অঙ্গ (দুই হাত, দুই পা, দুই হাটু, নাক ও কপাল) দিয়ে সশরীরে নামাজ আদায় করেছিলেন সেদিন। নবীগণ সশরীরে জীবিত, তারই বাস্তব প্রমাণ মিলেছিল মিরাজের রাতে।
নবীগণ আপন আপন রওযায় জীবিত আছে…(হাদিস) মিরাজের রাতে নবী করিম (সাঃ)কে প্রথম সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল জিব্রাইল, মিকাইল ও ইস্রাফিল ফেরেস্তাত্রয়ের অধীনে সত্তর হাজার ফেরেস্তা দিয়ে। দ্বিতীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল নবী (আঃ) গণের মাধ্যমে। তৃতীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল আকাশের ফেরেস্তা ও হুর দিয়ে এবং চতুর্থ ও শেষ সংবর্ধনা দিয়েছিলেন স্বয়ং আল্লাহ্ তাআলা। সিদ্রাতুল মুন্তাহা ও আরশ মোয়াল্লা অতিক্রম করার পর স্বয়ং আল্লাহ তাআলা একশত বার সংবর্ধনামূলক বাক্য ادن منى يا محمد অর্থাৎ ‘হে প্রিয় বন্ধু মোহাম্মদ, আপনি আমার অতি নিকটে আসুন’– বলে নবী করিম (সা.)কে সম্মানিত করেছিলেন। কোরআন মজিদে ثُمَّ دَنَا فَتَدَ لَّى আয়াতটি এদিকেই ইঙ্গিতবহ বলে তাফসীরে মুগ্নী ও মিরছাদুল ইবাদ গ্রন্থদ্বয়ের বরাত দিয়ে রিয়াজুন্নাছেহীন কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত কিতাবখানা সাত শত বছর আগে ফারসি ভাষায় লিখিত।
মিরাজের ঘটনা ঘটেছিল ১১ বছর ৫ মাস ১৫ দিনের মাথায়। অর্থাৎ প্রকাশ্য নবুয়তের ২৩ বছর দায়িত্ব পালনের মাঝামাঝি সময়ে। সে সময় হুজুর (সাঃ) এর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর ৫ মাস ১৫ দিন। সন ছিল নবুয়তের দ্বাদশ সাল। তিনটি পর্যায়ে মেরাজকে ভাগ করা হয়েছে। মক্কা শরীফ থেকে বায়তুল মোকাদ্দাছ পর্যন্ত মিরাজের অংশকে বলা হয়ে ইস্রা বা রাত্রি ভ্রমণ। বায়তুল মোকাদ্দাছ থেকে সিদ্রাতুল মোন্তাহা পর্যন্ত অংশকে বলা হয় মেরাজ। সিদ্রাতুল মোন্তাহা থেকে আরশ ও লা-মকান পর্যন্ত অংশকে বলা হয় ই’রাজ; কিন্তু সাধারণভাবে পূর্ণ ভ্রমণকেই এক নামে মিরাজ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। কোরআন, হাদিসে মোতাওয়াতির এবং খবরে ওয়াহেদ দ্বারা যথাক্রমে এই তিনটি পর্যায়ের মিরাজ প্রমাণিত।
মিরাজের প্রথম পর্যায়
রজব চাঁদের ২৭ তারিখ সোমবার পূর্ব রাত্রের শেষাংশে নবী করিম (সাঃ) বায়তুল্লায় অবস্থিত বিবি উম্মেহানী (রাঃ) এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। বিবি উম্মেহানী (রাঃ) ছিলেন আবু তালেবের কন্যা এবং নবী করিম (সাঃ) এর দুধবোন। উক্ত গৃহটি ছিল বর্তমান হেরেম শরীফের ভিতরে পশ্চিম দিকে। হযরত জিবরাইল (আঃ) ঘরের ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে নূরের পাখা দিয়ে, অন্য রেওয়ায়েত মোতাবেক-গণ্ডদেশ দিয়ে নবী করিম (সাঃ) এর কদম মোবারকের তালুতে স্পর্শ করতেই হুযুরের তন্দ্রা ভেঙ্গে যায়। জিবরাইল (আঃ) আল্লাহর পক্ষ থেকে দাওয়াত জানালেন এবং নবীজীকে যমযমের কাছে নিয়ে গেলেন। সিনা মোবারক বিদীর্ণ করে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করে নূর এবং হেকমত দিয়ে পরিপূর্ণ করলেন। এভাবে মহাশূন্যে ভ্রমণের প্রস্তুতিপর্ব শেষ করলেন।
নিকটেই বোরাক দণ্ডায়মান ছিল। বোরাকের আকৃতি ছিল অদ্ভুত ধরনের। গাধার চেয়ে উঁচু, খচ্চরের চেয়ে নিচু, মুখমণ্ডল মানুষের চেহারাসদৃশ, পা উটের পায়ের মত এবং পিঠের কেশর ঘোড়ার মতো (রুহুল বয়ান-সুরা ইসরা)। মূলতঃ বোরাক ছিল বেহেস্তি বাহন- যার গতি ছিল দৃষ্টি সীমান্তে মাত্র এক কদম। নবী করিম (সাঃ) বোরাকে সওয়ার হওয়ার চেষ্টা করতেই বোরাক নড়াচড়া শুরু করলো। জিব্রাইল (আঃ) বললেন, ‘তোমার পিঠে সৃষ্টির সেরা মহামানব সওয়ার হচ্ছেন- সুতরাং তুমি স্থির হয়ে যাও।’
বোরাক বলল, কাল হাশরের দিনে নবী করিম (সাঃ) আমার জন্য আল্লাহর দরবারে শাফাআত করবেন বলে ওয়াদা করলে আমি স্থির হবো। নবী করিম (সাঃ) ওয়াদা করলেন। বোরাক স্থির হলো। তিনি বোরাকে সওয়ার হলেন। জিব্রাইল (আঃ) সামনে লাগাম ধরে, মিকাইল (আঃ) রিকাব ধরে এবং ইস্রাফিল (আঃ) পিছনে পিছনে আগ্রসর হলেন। পিছনে সত্তর হাজার ফেরেস্তার মিছিল।
মক্কা শরীফ থেকে রওনা দিয়ে পথিমধ্যে মদিনার রওযা মোবারকের স্থানে গিয়ে বোরাক থামল। জিবরাইলের ইশারায় সেখানে তিনি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন। এভাবে ইসা (আঃ) এর জন্মস্থান বাইতুল লাহাম এবং মাদ্ইয়ান নামক স্থানে শুয়াইব (আঃ) এর গৃহের কাছে বোরাক থেকে নেমে নবী করিম (সাঃ) দু’রাকাত করে নামায আদায় করলেন। এজন্যই বরকতময় স্থানে নামায আদায় করা সুন্নত। এই শিক্ষাই এখানে রয়েছে। নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেন, আমি বোরাক থেকে দেখতে পেলাম- হযরত মুসা (আঃ) তাঁর মাযারে (জর্দানে) দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন।
অতঃপর জিবরাইল (আঃ) বায়তুল মোকাদ্দাছ মসজিদের সামনে বোরাক থামালেন। সমস্ত নবীগণ আগে থেকে সেখানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। জিবরাইল (আঃ) বোরাককে রশি দিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাছে ছাখ্রা নামক পবিত্র পাথরের সাথে বাঁধলেন এবং আযান দিলেন। সমস্ত নবীগণ (আঃ) নামাযের জন্য দাঁড়ালেন। হযরত জিবরাইল (আঃ) নবী করিম (সাঃ) কে মোসাল্লাতে দাঁড় করিয়ে ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করলেন। হুযুর (সাঃ) সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম ও সত্তর হাজার ফেরেশতাকে নিয়ে দু’রাকাত নামায আদায় করলেন।
তখনো কিন্তু নামায ফরজ হয়নি। প্রশ্ন জাগে- নামাযের আদেশ নাযিল হওয়ার আগে হুযুর (সাঃ) কিভাবে ইমামতি করলেন? বুঝা গেল- তিনি নামাযের নিয়ম কানুন আগেই জানতেন। নামাযের তা’লীম তিনি আগেই পেয়েছিলেন; তানযীল বা নাযিল হয়েছে পরে। আজকে প্রমাণিত হলো- নবী করিম (সাঃ) হলেন ইমামুল মোরছালিন ও নবীউল আম্বিয়া (আঃ)। নামায শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় নবীগণ নিজেদের পরিচয় দিয়ে বক্তব্য পেশ করলেন। সর্বশেষ সভাপতি হিসাবে ভাষণ রাখলেন নবী করিম (সাঃ)। তাঁর ভাষণে আল্লাহ্ তাআলার প্রশংসা করে তিনি বললেন- ‘আল্লাহ্ পাক আমাকে আদম সন্তানগণের মধ্যে সর্দার, আখেরি নবী ও রাহমাতুল্লিল আলামীন বানিয়ে পাঠিয়েছেন।’
এখানে একটি আকীদার প্রশ্ন জড়িত আছে। তা হলো- আম্বিয়ায়ে কেরামগণের মধ্যে চারজন ছাড়া আর সকলেই ইতিপূর্বে ইন্তিকাল করেছেন এবং তাঁদের রওযা মোবারকও বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত। যে চারজন নবী জীবিত, তারা হচ্ছেন- হযরত ইদ্রিস (আঃ) বেহেস্তে, হযরত ইসা (আঃ) আকাশে, হযরত খিজির (আঃ) জলভাগের দায়িত্বে এবং হযরত ইলিয়াছ (আঃ) স্থলভাগের দায়িত্বে। জীবিত ও ইন্তিকালপ্রাপ্ত সকল আম্বিয়ায়ে কেরাম (আঃ) বিভিন্ন স্থান থেকে মুহূর্তের মধ্যে কিভাবে সশরীরে বায়তুল মোকাদ্দাছে উপস্থিত হলেন?
তাফসীরে রুহুল বয়ানে এ প্রশ্নের উত্তর এভাবে দেয়া হয়েছে- ‘জীবিত চারজন নবীকে আল্লাহ্ তা’আলা সশরীরে এবং ইন্তিকাল প্রাপ্ত আম্বিয়ায়ে কেরামগনকে মেছালী শরীরে বায়তুল মোকাদ্দাছে উপস্থিত করেছিলেন।’ কিন্তু অন্যান্য গ্রন্থে সশরীরে উপস্থিতির কথা উল্লেখ আছে। কেননা, নবীগণ অষ্ট অঙ্গ দ্বারা সিজদা করেছিলেন। নবীগণ ও ওলীগণ মেছালী শরীর ধারণ করে মুহূর্তের মধ্যে আসমান জমিন ভ্রমণ করতে পারেন এবং জীবিত লোকদের মতই সব কিছু শুনতে ও দেখতে পারেন (মিরকাত ও তাইছির গ্রন্থ)।
এ ছিল পৃথিবী জগতের ভ্রমণ যা বোরাকের দ্বারা সম্পন্ন হয়। অতঃপর তাঁকে আল্লাহর নির্দেশে পর্যায়ক্রমে আসমানসমূহে ভ্রমণ করানো হয়।
প্রথম আসমানে: হযরত আদম আ.’র সাথে, দ্বিতীয় আসমানে হযরত ঈসা আ.’র সাথে, তৃতীয় আসমানে হযরত ইউসুফ আ.’র সাথে, চতুর্থ আসমানে হযরত ইদ্রিস আ.’র সাথে, পঞ্চম আসমানে হযরত হারুন আ.’র সাথে, ষষ্ঠ আসমানে হযরত মুসা আ.’র সাথে, সপ্তম আসমানে হযরত ইব্রাহিম আ.’র সাথে সাক্ষাত হয়। (বুখারী শরীফ, ফাতহুল বারী: পারা ১৫/পৃ.৪৮৫)
অতঃপর তিনি ‘‘সিদরাতুল মুনতাহার’’ দিকে সফর শুরু করেন। পথিমধ্যে হাউজে কাউসার অতিক্রম করেন। পরে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি আল্লাহর সব নিয়ামতের দর্শন লাভে সক্ষম হন। জান্নাতে থাকা স্পেশাল সব নেয়ামত দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেন। যা কোনো চোখ আজ পর্যন্ত দেখেনি, কোনো কান শুনেনি, এবং কোনো মানুষের কল্পনা শক্তিও সে পর্যন্ত পৌঁছেনি। এরপর তাঁর সামনে হাযির করা হয় জাহান্নাম। যা ছিল সর্বপ্রকার আযাব-গযবে ভরপুর। তাতে তিনি একদল লোককে দেখলেন যারা মৃত জন্তুর গোশত খাচ্ছে। প্রশ্ন করলেন এরা কারা। উত্তরে জিবরাঈল আ. বললেন, এরা আপনার উম্মতের সেসব লোক যারা দুনিয়াতে নিজ ভাইদের গোশত খেত অর্থাৎ গীবত করত। এরপর দোযখের দরজা বন্ধ কওে দেয়া হয়।
সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত হযরত জিবরাঈল আ. ছিলেন তাঁর সফরসঙ্গী। এরপর হযরত নবীয়ে করীম সা. এহান প্রভুও সাথে একান্ত আলাপচারিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মাহবুবে খোদা, সরদারে দুআলম আল্লাহ তালার দর্শনে মনোনিবেশ করেন। এ দর্শন শুধু আন্তরিক ছিল না বরং চক্ষু দর্শনই ছিল। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এবং সকল সাহাবায়ে কেরাম ও ইমামগণের এ অনুসন্ধান। সেখানে মহানবী সা. এহান সৃষ্টিকর্তার কুদরতি পায়ে সেজদায় পড়ে যান। মিরাজ রজনীর এ রাতে আল্লাহ তালা উম্মতে মুহাম্মদিকে স্পেশাল উপহার হিসেবে নামায দিয়েছেন। তাই নামাযকে বলা হয় মুমিনের মিরাজ।
(প্রামাণ্য গ্রন্থাবলী থেকে সংগৃহীত)
Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি