LalmohanNews24.Com | logo

৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

স্বল্প খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা পেতে ভারতের ভেলরের সিএমসি হাসপাতাল অদ্বিতীয়

স্বল্প খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা পেতে ভারতের ভেলরের সিএমসি হাসপাতাল অদ্বিতীয়

স্বল্প খরচে ভালো চিকিৎসা সেবা পেতে ভারতের বিখ্যাত সিএমসি হাসপাতাল অন্যতম গন্তব্য হতে পারে। তবে বিশ্বমানের এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা পেতে রোগী ও তার আত্মীয়-স্বজনকে দিতে হবে অনেক ধৈর্য ও সময়ের পরীক্ষা। রেজিস্ট্রেশন করানো, ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা করানো, ডাক্তারের সিরিয়াল পাওয়া, রোগী ভর্তি করানো, লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সিরিয়াল ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার মানসিকতা থাকতে হবে। তবেই পাবে কাঙ্খিত সেবা।

ভেলোরের খ্রিস্টান মিশনারি পরিচালিত এই হাসপাতালটিতে জটিল অপারেশন, কিডনি সমস্যা, ক্যান্সার, ডাক্তার দেখানো, টেস্ট করাসহ সব ধরনের চিকিৎসা সেবা কম খরচে পাওয়া যায়। তাই সময় ও ধৈর্য্য থাকলে বাংলাদেশে বসে চিকিৎসা করানোর চেয়ে সিএমসিই শ্রেয়। বাংলাদেশে নামিদামি হাসপাতালে যে খরচ পড়বে, ভেলোরে এলে তার চেয়েও কম খরচে ট্রান্সপোর্ট, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার পুরোটা সেরে ফেলা যাবে। সঙ্গে পাওয়া যাবে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা।

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাই শহর। কোলকাতা থেকে প্রায় ১৭শত কিলোমিটার দূরে দক্ষিণের এই শহর। কোলকাতা থেকেই বিমানে আসতে পুরো আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। ট্রেনে আসতে লাগে ৩২ ঘন্টা। চেন্নাই থেকে আরো আড়াই ঘন্টার টেক্সি জার্নী করে ১৩৩ কিলোমিটার দূরে ভেলর আসতে হয়। এখানেই অবস্থিত অলাভজনক হাসপাতাল সিএমসি। ভারতের আশপাশের রাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন ১০ হাজার নতুন রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন হাসপাতালটিতে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন সাড়ে সাতশ’ থেকে আটশ’ রোগী চিকিৎসা নিতে ভেলোরের সিএমসিতে আসেন।

কারো দৈর্য না থাকলে সিএমসিতে আসার প্রয়োজন নেই। রোগী আসার সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবকিছুতেই একটু সময় বেশি লাগে সিএমসিতে। টেস্ট করানোসহ অন্য সেবা পেতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয় ওয়েটিং রুমে। ডাক্তার একজন রোগীর পিছনে এতো সময় দেন যে এখনো কেন বের হয়না তার জন্য বিরক্ত হতে হয়। ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভোর হওয়ার আগেই রোগী ও তার স্বজনদের দীর্ঘ লাইন শুরু হয়। তবে অপেক্ষা শুরু হলে শেষও হবে।

#ইতিহাস
১১৮ বছরের পুরোনো এই সিএমসি হাসপাতাল। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. ইদা সোফিয়া স্কুডার। ১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতাল শুরুর ভাবনাটি আরও আগে। ১৮৯০ সালে ইদা সোফিয়া স্কুডার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণ ভারতে তাঁর ধর্মপ্রচারক মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে যান। এক রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তিন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সন্তান জন্মদানে সহায়তা করতে বলা হয় ইদাকে। ইদার কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। তিনি বাবার সহায়তা চান। বাবা চিকিৎসকও ছিলেন। কিন্তু ওই তিন নারীর পরিবারের কেউই পুরুষ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসাসেবা নিতে রাজি হননি। পরদিন সকালে ওই তিন নারীই মারা যান।

ইদা মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত পান। সামাজিক বাধার কারণে তিন মায়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি তিনি। চিকিৎসক হবেন বলে শপথ নেন। নারী ও শিশুদের সেবা করবেন বলে ব্রত নেন। ইদা এরপর আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। ১৮৯৯ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটি মেডিকেল কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হন। সেখানে নারী শিক্ষার্থীদের সেটিই ছিল প্রথম ব্যাচ। ১৯০০ সালে আবার ভারতে ফিরে যান ইদা। বাবার বাড়িতে একটিমাত্র বেড নিয়ে চালু করেন হাসপাতাল। এখন সিএমসিতে অভ্যন্তরীণ রোগী দুই হাজারেরও বেশি। দৈনিক বহির্বিভাগীয় রোগী সাত হাজার। হাসপাতালে ওয়ার্ড ৬৭টি। বিভিন্ন রোগের বিভাগ ১৪৪টি।

#র‌্যঙ্কিং
সিএমসি ধারাবাহিকভাবেই ভারতের সেরা মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে একটিতে পরিনত হয়েছে।ইন্ডিয়া টুডে ২০১০,২০১২ এবং ২০১৩ সালে সিএমসিকে সেরা মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে ২য় ঘোষনা করে। আউটলুক ইন্ডিয়া সিএমসিকে ২০১২ সালে ৩য় স্থান প্রদান করে। ২০১৫ সালে ক্যারিয়ার ৩৬০(ম্যাগাজিন) সিএমসিকে বেসরকারী মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে ১ম হিসাবে ঘোষনা করে।

#এপোয়েন্টমেন্ট
অনেকেই হয়তো ভাবছেন কিভাবে সিএমসিতে ডাক্তার দেখাবো। এপোয়েন্টমেন্ট পাবো কোথায়। তাদের জন্য ভোলা ও লালমোহনে আছে আর আর হেল্পলাইন। এর মাধ্যমে সিএমসির ডাক্তারের এপোয়েন্টমেন্ট, বিমান ও রেল টিকেট আপনার হাতে পৌছে দেয়া হয়। মেডিকেল ভিসার জন্যও পরামর্শ দেয়া হয়। লালমোহনে একাজটি আমার মাধ্যমেই হয়। যোগাযোগ করতে পারেন আমার নাম্বারে। ০১৭১২৭৪০১৩৮।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি