LalmohanNews24.Com | logo

৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার পুরনো দেড় হাজার মাদ্রাসার শিক্ষকরা এমপিও পাচ্ছেন।। খোলা যাবে নতুন মাদ্রাসাও

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : মার্চ ২৫, ২০১৮, ১৬:৪৪

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার পুরনো দেড় হাজার মাদ্রাসার শিক্ষকরা এমপিও পাচ্ছেন।। খোলা যাবে নতুন মাদ্রাসাও

লালমোহননিউজ২৪ডটকম।। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদলে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেবে সরকার। মাদ্রাসা স্থাপনে অনুমোদন দেয়ার কাজ করবে মাদ্রাসা বোর্ড। তবে যে কোনো অনুমোদন দেয়ার আগে বোর্ডকে সরকারের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। ব্যক্তির নামে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা যাবে। তবে যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা যাবে না।

এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এটির নাম দেয়া হয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতাদি/অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮। ২৫টি ধারা সংবলিত নীতিমালাটি বর্তমানে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিবের টেবিলে আছে। সচিবের অনুমোদনের পর সেটির ওপর মতামত নিতে জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২২ বছর ধরে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন বন্ধ আছে। শুধু তা-ই নয়, সরকার কোনো উপযুক্ত বেতন-ভাতা না দেয়ায় এ ধরনের শত শত মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন নীতিমালার আলোকে অবশ্য এখন এ ধরনের নতুন-পুরনো মাদ্রাসায় সরকার বেতন-ভাতা দেবে।

এ প্রসঙ্গে নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রওনক মাহমুদ বলেছেন, ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ব্যাপারে আমরা একটি নীতিমালা তৈরি করেছি। যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন শেষে তা বাস্তবায়নের জন্য জারি করা হবে।’

নব্বইয়ের দশকে একই পরিপত্রের আলোকে দেশে রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। এরপর সারা দেশে প্রায় ৩১ হাজার স্কুল এবং ১৫ হাজার মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম দিকে উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ৫০০ টাকা করে সম্মানী পেতেন। পরবর্তী কালে স্কুলশিক্ষকদের বেতন বিভিন্ন সময়ে বাড়ানো হয়। একটি পর্যায়ে তারা এমপিওভুক্ত হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা বা অনুদানভুক্ত হন। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষকরা অবহেলিত থাকেন। ওই পরিস্থিতির মধ্যেই ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের ২৬ সহস্রাধিক স্কুল জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। কিন্তু মাদ্রাসাগুলো আগের অবস্থায়ই থাকে। এ দীর্ঘ সময়ে বেতন-ভাতার অভাবে মাদ্রাসাগুলো একে একে বন্ধ হতে থাকে। সর্বশেষ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক হিসাবে সারা দেশে ছয় হাজার ৯৯৮টি মাদ্রাসার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাত্র এক হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার শিক্ষককে ৫০০ টাকা করে অনুদান দেয়া হচ্ছিল। ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি শিক্ষকদের দাবির মুখে সরকার ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করে। এরপর আরও কয়েক দফায় বাড়িয়ে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা দুই হাজার ৫০০ এবং সহকারী শিক্ষকরা দুই হাজার ৩০০ টাকা করে পাচ্ছেন।

এসব মাদ্রাসার শিক্ষকের একটি সংগঠন বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘নীতিমালা প্রণয়ন কমিটিতে আমি একজন সদস্য হিসেবে আছি। আমরা যে নীতিমালা চূড়ান্ত করেছি, সেটি কেবল নতুন মাদ্রাসা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।’

তাহলে বিদ্যমান এক হাজার ৫১৯ মাদ্রাসার শিক্ষকের ভাগ্যে কী জুটছে- এমন প্রশ্নের জবাবে এ শিক্ষক নেতা বলেন, ‘সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাতে প্রধান শিক্ষকদের ৯ হাজার ৭০০ এবং সহকারী শিক্ষকদের ৯ হাজার ৩০০ টাকা করে বেতন হিসেবে দেয়ার কথা আছে। এর সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মতো বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ইত্যাদিও থাকবে।’

প্রস্তাবিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে চাইলে আগে মাদ্রাসার নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে হবে। এরপর জমির সেই দলিলসহ মাদ্রাসা স্থাপনের আবেদন করতে হবে। বছরের প্রথম তিন মাস কেবল আবেদন নেয়া হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নামে স্থায়ী আমানত হিসেবে ব্যাংকে ২০ হাজার টাকা গচ্ছিত থাকার প্রমাণপত্র দিতে হবে। নতুন মাদ্রাসা স্থাপনের ব্যাপারে নীতিমালায় বলা হয়েছে, দুই মাদ্রাসার মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে মহানগর এলাকায় এক কিলোমিটার, শহর বা পৌর এলাকায় দেড় কিলোমিটার এবং মফস্বল এলাকায় দুই কিলোমিটার থাকতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বা জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অনুমোদিত সিলেবাস বা পাঠ্যপুস্তক পাঠদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা মেনে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সহশিক্ষাক্রম কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মহানগর, পৌর ও শহর এলাকার মাদ্রাসায় কমপক্ষে ২০০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। এর মধ্যে প্রতি শ্রেণীতে কমপক্ষে ২০ জন থাকতে হবে। মফস্বল এলাকার প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ১৫০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। এর মধ্যে ক্লাসপ্রতি ১৫ জন থাকতে হবে। তবে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকার জন্য এ শর্ত শিথিল। ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় মহানগর/পৌর/শহর এলাকার প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম ২০ শিক্ষার্থী অংশ নিতে হবে। তাদের মধ্যে ১৫ জন পাস করতে হবে। গ্রাম এলাকায় সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে ১৫ জন। তাদের মধ্যে ১০ জন পাস করতে হবে।

নীতিমালায় উল্লেখ আছে, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে প্রত্যেক উপজেলা বা থানায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি করে শিক্ষা কমিটি থাকবে। এই কমিটির অনুমোদিত কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনা করবে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেবেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। তবে অন্য শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেবেন প্রধান শিক্ষক। উভয় ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের তালিকা নির্বাচন করবে নিয়োগ কমিটি। নীতিমালায় মাদ্রাসার ভবনের ব্যাপারে আটটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

সূত্র : দৈনিক যুগান্তর, ২৪ মার্চ

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি