LalmohanNews24.Com | logo

১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং

স্ত্রীকে গর্ভবতী করতে না পাড়ায় বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা!

স্ত্রীকে গর্ভবতী করতে না পাড়ায় বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা!

সন্তানের আকাঙ্ক্ষা কার না আছে? স্বামী কিংবা স্ত্রী; কে না চায় নিজেদের সন্তান আসুক! চায়, কেউ তাকে বাবা বলে ডাকুক, মা বলে ডাকুক। শত কষ্টে থাকা সত্ত্বেও মা-বাবা হতে চায় সবাই-ই।

এমনই আকাঙ্ক্ষা ছিল এক ব্যক্তির, যিনি কিনা হাজারো চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি অনেকদিন ধরে চেষ্টা করে আসছিলেন, বউকে গর্ভবতী বানাতে। কিন্তু শেষমেশ ব্যর্থ হন। পরে মাথায় একটি বুদ্ধি আঁটলেন। কিন্তু কী ছিল সেই বুদ্ধি?

মূলত লোকটি নিজেই ইনফার্টাইল অর্থাৎ খোজা ছিলেন। তবে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা যেন ছাড়তেই চাচ্ছিলেন না তিনি। পরে বউকে রাজি করায় এক ভিন্ন কাজে। তিনি ফন্দি আঁটেন, তার বন্ধুকে দিয়ে বউকে গর্ভবতী করার। সে অনুযায়ী কাজও শুরু করে দেন তারা। একবার দুবার নয় প্রায় ৭৭ বার বন্ধুর বউয়ের সঙ্গে চেষ্টা করেও তার স্ত্রীকে গর্ভবতী করতে পারেননি তিনি। এতে পুরোপুরি চটে যান স্বামী (বন্ধু)।

পরে যা ঘটে তা শুনলে সবাই চমকে যাবেন। পরের ঘটনা হলো- এবার ওই স্বামী চটে গিয়ে নিজ বন্ধুর নামে মামলা করেছেন। আর থানায় প্রতারণার মামলাটি দায়ের করেছেন তানজানিয়ার এক পুলিশকর্মী। যার নাম দারিয়াস মাকামবাকো।

এদিকে, থানায় মামলাটি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খবরটি প্রকাশিত হয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে নেট দুনিয়ায় তা ভাইরাল হয়ে যায়।

খবরে প্রকাশ পায়, ৫০ বছর বয়সী পুলিশকর্মী খোজা বা ইনফার্টাইল সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, ‘তিনি সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম না’। পরে বিষয়টি কোনোভাবে মানতে পারছিলেন না তিনি। অপরদিকে বিয়ের ৬ বছর পরও সন্তান না হওয়ায় কষ্টে ভুগছিলেন ৪৫ বছর বয়সী স্ত্রীও। এ সময় ওই ধরনের খারাপ ফন্দি মাথায় আসে পুলিশকর্মী দারিয়াসের। পরে সে বিষয়টি বউকে জানান। বউও এক কথায় রাজি হয়ে যান।

সে অনুযায়ী ওই পুলিশ কর্মী (দারিয়াস) ৫২ বছরের বন্ধু ইভান্স মাস্তানোর দ্বারস্থ হন। তার কাছে গিয়ে তিনি অনুরোধ করেন, ‘আমি অনেকদিন চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। এখন আমার স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করতে হবে তোমাকে’। পরে বন্ধু প্রস্তাবটি শুনে হতভম্ব হয়ে যান। তিনি প্রথমে রাজি না হলেও, পরে ২০ লাখ তানজিনিয়ান সিলিং-এর বিনিময়ে রাজি হন। ২০ লাখ তানজিনিয়ান সিলিং বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৩ হাজার টাকার মতো। অর্থ দেয়ার সময় শর্ত ছিল, আগামী ১০ মাসে সপ্তাহে ৩ বার করে স্ত্রীর সঙ্গে যৌন মিলন করতে হবে তার। এর মধ্যে বউকে গর্ভবতী করতে হবে।

প্রকাশিত খবরে আরো বলা হয়, তাদের শর্ত অনুযায়ী মোট ৭৭ বার ‘কসরত’ করেন ইভান্স। তবে কোনো ফল মেলেনি। পরে চিকিৎসকরা জানান, ‘ইভান্সও ইনফার্টাইল।’ যদিও এই দাবি স্বীকার করতে রাজি ছিলেন না ইভান্স। কারণ, তার নিজের বউয়ের ঘরে দুই সন্তান রয়েছে।

এরপর চিকিৎসকরা অবাক হয়ে যান, তাহলে কী করে সম্ভব। সত্যি যদি ইভান্স ইনফার্টাইল হয়, তাহলে তার সন্তান হলো কীভাবে? পরে অশান্তির জেরে ইভান্সের স্বয়ং স্ত্রী স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, তিনি (ইভান্স) ওই সন্তানদের বাবা নন, তাদের বাবা হলেন ইভান্সের ভাই অর্থাৎ সন্তানদের চাচা।

পরে এসব ঘটনা শুনে ক্ষেপে যান দারিয়াস মাকামবাকো। তিনি চটে গিয়ে থানায় মামলা করেন। অবশ্য এর আগে তিনি তার অর্থ ফেরত চেয়েছিলেন। তবে ইভান্স ফেরত দিতে রাজি হননি। তার দাবি ছিল, আমি সেক্স করেছি, তবে গ্যারান্টি দেয়নি। আমি চেষ্টাও করেছি। তাহলে অর্থ ফেরত দেয়ার কথা আসে কোত্থেকে?

এদিকে, মামলা হওয়ার পর দুই বন্ধুর সম্পর্ক চরম পর্যায়ে চলে গেছে। অপরদিকে ইভান্স ও তার স্ত্রীর মধ্যেও ঝামেলা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। অবশ্য পরে স্ত্রীর সঙ্গে তার সব ঠিক হয়ে যায়। কারণ ওই স্ত্রীও দেবরের সঙ্গে যৌনমিলন ঘটিয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তবে তানজানিয়ার পুলিশ এখন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে।স্

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি