LalmohanNews24.Com | logo

৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং

সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি তারা

সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি তারা

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। আর মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণ তার বুদ্ধিমত্তা। তবে সকল মানুষের মস্তিষ্কের গঠন একই হলেও সকলের বুদ্ধিমত্তা সমান নয়। যদিও বুদ্ধিমত্তার কোনো পরিমাপক নেই তবে বুদ্ধিমত্তা নির্ধারণের একটি একক রয়েছে। যা ইন্ট্যালিজেন্ট কোটিয়েন্ট বা আই কিউ নামে পরিচিত। আই কিউ নির্ধারণের পদ্ধতি এবং আই কিউ দিয়ে বুদ্ধিমত্তা নির্ধারণ করাটা একটি প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হলেও এটিই একমাত্র পদ্ধতি। ধারণা করা হয়, একজন সাধারণ মানুষের আইকিউ রেঞ্জ ১০০ থেকে ১২০ পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং ১২০ বা বেশি আইকিউ এর মানুষদেরকে বুদ্ধিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের আই কিউ লেভেল ২০০ এর থেকেও বেশি। আই কিউ এর হিসেবে ১৭০-২০০+ আই কিউ সম্পন্ন যেকোনো মানুষকেই জিনিয়াস এর কাতারে ফেলা হয়। কিন্তু আসলেই কি তা সত্য? আসলেই কি বেশি আইকিউ সম্পন্ন মানুষরাই জিনিয়াস? তাহলে জেনে আসা যাক পৃথিবীর সবথেকে বেশি আইকিউ বা সবথেকে বেশি বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কিছু মানুষ সম্পর্কে-

ট্রেন্স টাও 

ট্রেন্স টাও

ট্রেন্স টাও 
মার্কিন ম্যাথম্যাথিশিয়ান ট্রেন্স টাওকে পৃথিবীর সবথেকে বুদ্ধিমান মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টাও এর আই কিউ লেভেল ২৩০! মাত্র ৭ বছর বয়স থেকেই টাও ইউনিভার্সিটি ম্যাথম্যাটিকস কোর্স করতে শুরু করে। একই বয়সে টাও এর ম্যাথ এসএটি স্কোর ছিল ৭৬০ যা কোনো শিশুর পক্ষে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মাত্র ১৬ বছর বয়সে টাও প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যাথমেটিকসে মাস্টার্স এবং ডক্টরেড ডিগ্রি লাভ করে। এরপর থেকেই টাও ইউসিএলএ তে লেকচারার হিসেবে যোগ দেয় এবং মাত্র ২৩ বছর বয়সে পৃথিবীর সবথেকে কমবয়সী প্রফেসরে পরিনত হয়। ম্যাথম্যাটিকস এবং ফিজিক্স এ তার, কৃত্যির জন্য টাও বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ উর্ধ্ব পুরষ্কার লাভ করেন। এছাড়াও টাও প্রতিনিয়তই নতুন সব জটিল ম্যাথম্যাটিকস সমস্যা সমাধান করে চমকে দিচ্ছে পৃথিবীকে।

কিম আং ইয়াং

কিম আং ইয়াং

কিম আং ইয়াং
১৯৬৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরে কিম আং ইয়াং এর জন্ম। মাত্র ৬ মাস বয়সেই সকলকে চমকে দিয়ে কিম কোরিয়ার ভাষায় কথা বলা শুরু করে এবং ১ বছর বয়সের মধ্যেই কোরিয়ান ভাষা আত্মস্থ করে চাইনিজ শিখতে শুরু করে। মাত্র ৩ বছর বয়সেই কিম কঠিন সব ক্যালকুলাস সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয়। তাছাড়াও সবথেকে কমবয়সী মানুষ হিসেবে বই প্রকাশ করে। মাত্র ৫ বছর বয়সে কিম ৬ টি ভাষা লিখতে এবং পড়তে পারত। পরবর্তীতে ৬ বছর বয়সে কিম হাই স্কুল শুরু করে এবং একই সাথে হং ইয়াং ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্স কোর্স করে। মাত্র ৮ বছর বয়সে কিম কলোরাডো ইউনিভার্সিটিতে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে মেজর শুরু করে এবং মাত্র ১০ বছর বয়সে মেজর শেষ করে নাসা তে চাকরি শুরু করে। তবে অন্যান্য জিনিয়াসদের মত তিনি নাসায় বেশি দিন কাজ করেনি। ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নাসায় কাজ করে। ১৯৭৮ সালে কিম দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরে আসে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করে। বর্তমানে কিম দক্ষিণ কোরিয়ার নর্থ কিয়ংজিতে একটি গবেষণাগারে কর্মরত। ধারণা করা হয় কিম এর আই কিউ ২১০।

ম্যারিলিন ভস স্যাভান্ট 

ম্যারিলিন ভস স্যাভান্ট

ম্যারিলিন ভস স্যাভান্ট 
তার জন্ম ফ্রান্সে। ম্যারিলিন ছোটবেলা থেকেই তার অত্যাধিক আই কিউ লেভেল কারনে ম্যারিলিন বিখ্যাত। এছাড়াও ম্যারিলিন এর এভারেজ থিংকিং এবং প্রবলেম সলভিং স্কিল অন্য সকল মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ম্যারিলিন পৃথিবীর সবথেকে বেশি আই কিউ সম্পন্ন নারী হিসেবে গ্রীনিচ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ধরে রাখেন। বর্তমানে ম্যারিলিন পৃথিবীর ১৩ তম বুদ্ধিমান মানুষ। ম্যারিলিনের আই কিউ ১৯০ তবে কারো কারো ধারণা তার সঠিক আই কিউ লেভেল ২১০। ক্যারেড ম্যাগাজিন ম্যারিলিনকে নিয়ে ১৯৮৬ সালে আস্ক ম্যারিলিন নামক একটি সেকশন খুলে। যেখানে বিজ্ঞান থেকে শুরু করে ম্যাথ যেকোনো বিষয়ে ম্যারিলিনকে জিজ্ঞাস করা যেত এবং ম্যারিলিন সকল প্রশ্নের জবাব দিতেন। বর্তমানে ম্যারিলিন একজন সফল লেখিকা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সফলভাবে ১০ টি বই প্রকাশ করেন এবং ২০১৪ সালে আস্ক ম্যারিলিনের সমকক্ষ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি