LalmohanNews24.Com | logo

৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সংকটের মুখে ভোলার অনন্য ঐতিহ্য ‘মহিষ পালন

বিজ্ঞাপন

সংকটের মুখে ভোলার অনন্য ঐতিহ্য ‘মহিষ পালন

দ্বীপ জেলা ভোলার অনন্য ঐতিহ্য ‘মহিষ পালন ।জেলায় প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে মহিষ পালন করা হয়ে আসছে বাথান পর্যায়ে। বাথানে একই সঙ্গে ২০০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত মহিষ পালন সম্ভব। যা ঘরোয়া পরিবেশে একেবারেই অসম্ভব।মহিষ পালনের ব্যাপকতায় এলাকার দরিদ্র কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হয়ে উঠছেন। মহিষের দুধ বিক্রির টাকা কৃষদের চোখে দিন বদলের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তবে লবনাক্ততার কারনে পর্যাপ্ত পানি, ঘাসসহ মহিষের উপযোগী খাদ্য ও বাসস্থান অপ্রতুল হওয়ায় সংকটের মুখে পড়েছে ভোলার এই অন্যন্য ঐতিহ্য। জানা গেছে, প্রায় ৪০০ বছর আগে ভোলার উৎপত্তি হলে এখানে ক্রমশই জনবসতি গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হলে তারা মহিষ, গরু, ছাগল পালন শুরু করে। ভোলা দ্বীপ হওয়াতে এখানকার ছোট বড় অসংখ্য চরে মহিষ পালনে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে অবস্থা সম্পন্ন গৃহস্থ পরিবারগুলোর শত শত মহিষ পালন করে। জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ভোলা জেলার সাত উপজেলায় ৮৩টি চরে অন্তত ৭৯ হাজার মহিষ রয়েছে।

এরমধ্যে ব্যবসায়ীক খামার কিংবা বাতান রয়েছে ৫৫৪টি। এসব মহিষ থেকে প্রতিদিন ১০০ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু এসব এলাকায় এখন চারণভূমি ও গো-খাদ্যের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার মঙ্গলশিকদার থেকে মেঘনা নদী পাড় হলে দেখা যায় শুধু চর ছাড়া অার কিছুই নেই, প্রতিটি চরে রয়েছে অালাদা অালাদা নাম, চরগুলোতে প্রচুর পরিমানে চারনভূমি থাকায় বহুবছর ধরে এখানে মহিষ পালন করে অাসছে। ভাইশ্যামিয়ার চরের বাতান মালিক মোঃ নুরুন্নবী মিয়া দূুধ ও মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে ১০০টি মহিষ নিয়ে তৈরি করেছেন মহিষের বাথান। প্রতিদিন প্রায় ১- ১.৫ মন দুধ সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জোয়ার ভাটার সময়ে এমনকি চরগুলো নিচু হওয়ার কারনে চরে পানি উঠলেই মহিষগুলো ভাসে, অার পানি চলে গেলে কিংবা ভাটা পড়লে মহিষগুলো একটু দাড়াতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মহিষগুলো পালন করতে অামাদের অনেক সমস্যা হ্য়। তাছাড়া যে সমস্ত কর্মচারীরা মহিষগুলোকে দেখাশুনা করেন, তাদের ও সমস্যা হয়, সরকারীভাবে কোনো মুজিব কিল্লা না থাকার কারনে নানা সমস্যায় পড়েছেন বাথান মালিকরা, এই কারনে কিছু মহিষ মারা যায়, অার কিছু মহিষের বাচ্চা প্রসবের পর অার বেচে থাকেনা। সাধারনত প্রাকৃতিক খাদ্যের উপরেই নির্ভরশীল মহিষ বাতান। মহিষ থেকে দুধ বেশী পেতে হলে, এদের খাদ্য তালিকায় দুই ধরনের খাদ্য যেমন অাঁশযুক্ত খাদ্য ও দানাদার খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ১০০ কেজি ওজনের একটি মহিষের জন্য ২ দশমিক ০ থেকে ২ দশমিক ৫ কেজি সুষ্ক খাদ্যের প্রয়োজন হয়, প্রতিটি মহিষের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩০ কেজি সবুজ ঘাসের প্রয়োজন হয়। মোঃ কাঞ্চন মিয়া নামে বাতান মালিক বলেন, ‘মনপুরার চরকালকিনিতে আমার প্রায় ১৫০ মহিষ রয়েছে।

আগে মহিষগুলো থেকে প্রতিদিন ছয়-সাত মণ দুধ পাওয়া গেলেও কয়েক মাস ধরে মহিষের দুধ উৎপাদন একেবারেই কমে গেছে। বর্তমানে দৈনিক দেড় থেকে দুই মণের বেশি দুধ পাওয়া যায় না। কেননা চরে আগের মতো পর্যাপ্ত ঘাস নেই। তাই মহিষগুলো খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দুধ উৎপাদনেও। তাছাড়া লোনা পানি খেয়ে মহিষের মধ্যে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রোগ। তাই বর্তমানে মহিষ পালন করে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের খামারি ছালাম পাটওয়ারী বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর আগে চরে মহিষ পালন শুরু করেছি। বর্তমানে আমার ২৩০টি মহিষ আছে। আগে চর এলাকায় ঘাসের কোনো অভাব ছিল না। তাই মহিষের সংখ্যা বেশি হলেও পালনে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো না। কিন্তু সম্প্রতি চরে ঘাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এক চর থেকে মহিষ আরেক চরে নিয়েও চাহিদা অনুযায়ী ঘাস পাওয়া যায় না।

তাই ঘাসের অভাবে মহিষের শরীর-স্বাস্থ্য কমে যাওয়ার পাশাপাশি দুধ উৎপাদন ও কমছে।’ নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও নাব্যতার বৃদ্ধির কারনে মেঘনার বিভিন্ন অন্চলে জেগে উঠেছে চর, সরকার ও মনোনিবেশ করেছেন, চরব্যাবস্থাপনায় হচ্ছে বন সৃজন, কিন্তু এরই মাঝে পৃষ্ঠ হচ্ছে বাতান মালিক ও বাতান কে ঘিরে কর্মজীবি মানুষরা। জনশুন্য এই চরগুলোতে মহিষ অার গুটি কয়েক মানুষের এক কষ্টসাধ্য কিন্তু অপুর্ব এক মিলবন্ধন। মহিষপালনকারী রাখাল অার মহিষের মধ্যে রয়েছে নিবিড় এক সম্পর্ক, প্রত্যেকটি মহিষের জন্য রয়েছে অালাদা অালাদা নাম, যদিও রাখালদের নেই কোনো সামাজিক জীবন, শহর থেকে চাল ডাল এসে না পৌছালে পুরন হয়না সাধারন কিছু মৌলক চাহিদা।

তেমনি একজন ভাইশ্যা মিয়ার চরের রাখাল বাতান নুর ইসলাম গাজী বলেন তার কষ্টের কথা, তিনি বলেন চরগুলোতে পর্যাপ্ত বাঁশের কেল্লা না থাকার কারনে জোয়ার কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার এবং মহিষগুলোর মাথা গোজার ঠাই থাকে না, জোয়ারে চর ডুবে গেলে তার বাছুর কোলে দাড়িয়ে থাকতে হয় ডুবজলে। ভোলা জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন বলেন , জেলায় যেটুকু চারণভূমি রয়েছে সেখানে উন্নত জাতের নেপিয়ার, পারা, জার্মান ঘাষ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় আছে; চরে ঘাষ চাষ, সুপেয় পানি এবং মহিষের বাসস্থান নির্মাণ। এটি বাস্তবায়ন হলে মহিষের মৃত্যু অনেকটা কমে যাবে।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি