LalmohanNews24.Com | logo

৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

শীতের প্রকোপ বাড়ছে: কেমন আছেন গ্রাম অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী?

শীতের প্রকোপ বাড়ছে: কেমন আছেন গ্রাম অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী?

এক সময় বলা হতো ৬৮ হাজার গ্রাম নিয়ে চির সবুজের এই আমাদের বাংলাদেশ। তখন আমাদের দেশের একজন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাচঁবে। গ্রামই হচ্ছে উন্নয়ন সমৃদ্ধির মূল কেন্দ্র বিন্দু। বর্তমান বাস্তবে কি তাই হয়েছে? গ্রামের সংখ্যা বাড়লেও গ্রামের সাধারন মানুষগুলি কি সুখেই আছে? বলা হচ্ছে দেশ ডিজিটাল হয়েছে। গ্রাম উন্নয়ন হয়েছে।

দরিদ্রের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু হিসেব করলে দেখা যাবে গ্রামের হাতে গোনা কয়েক জন ধনী থেকে আরও ধনী হয়েছেন। কিছু মানুষ ঋণের জালে অষ্টেপৃষ্টে বেধে গেছেন। অনেকে ঋণের জালে আটকে এলাকা ছাড়া হয়েছেন। দরিদ্র ও হত দরিদ্রদের উন্নয়নের জন্য সরকারের বহুবিধ পদক্ষেপ সহায়তা কি সত্যিকারের দরিদ্ররা পাচ্ছেন। কোথায় যাচ্ছে সরকারের এসব সহায়তা। কারা পাচ্ছে প্রকৃত হতদরিদ্রদের সহায়তা। দেখা যাচ্ছে দরিদ্ররা সরকারের এত সহায়তা থাকা সত্বেও দরিদ্রের দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে আসতে পারছেনা। দরিদ্র দরিদ্রই রয়ে গেছেন।

সারা দেশে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। যদিও এখনো বইতে শুরু করেনি হাড় কাপানো কনকনে হাওয়া, তবুও ধুসর বিকেলে সারাদেশে লেগে থাকে শীত শীত ভাব। কিন্তু আমাদের পল্লী গ্রামে শীত আসে আরেকটু ভিন্ন মেজাজ নীয়ে। শীতের গরমের লেপ, তোষক, কম্বল, জামাকাপড় কি জিনিষ তা গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠির নাগালের বাইরে থাকে। তবে সাধারন কৃষক, ক্ষেত মজুর, মেহনতী অনান্য শ্রমিক সমাজের শীত নিবারনের প্রধান অবলম্ভন হলো কাঁথা। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের সংকটে জরাজীর্ণ গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবনে শীত নিবারনের সেই কাঁথাই এখন দুর্লব ও দুষ্প্রপ্য।

গ্রামের এসব সাধারন গরীব মানুষের শীতের কাঁথা বানানো এখন সহজ সাধ্য নয়। কাঁথা বানানোর জন্য দরকার শাড়ী লুঙ্গি। পূর্বে সাধারন মানুষ শাড়ী লুঙ্গি পুরানো হলেই তা জমা করে রেখে দিত কাঁথা বানাবার জন্য। শীত আসার পূর্বেই গ্রামের প্রায় বাড়ীতে দেখা যেত কাঁথা সেলাই করার দৃশ্য। কিন্তু এখন আর আগের মত কাঁথা সেলাই করতে দেখা যায় না। কারন শাড়ী লুঙ্গি এখন আর পুরানো হলেই মানের কারনে তা দিয়ে কাঁথা সেলাই করা যায় না। অসংখ্য স্থানে ছিড়ে যায়।

বদলে যাচ্ছে গ্রামের দৃশ্যপট। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে সীমিত পরিমান জমি অসংখ্য খন্ডে বিভক্ত হচ্ছে। আবাদী জমিতে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ী। সংকুচিত হচ্ছে ফসলের জমি। কৃষক কষ্ট করে বাম্পার ফসল ফলালেও যথাযথ দাম পাচ্ছে না। প্রতি বছরই কৃষিতে কৃষককে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই কৃষি পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় যাচ্ছেন। কৃষকের অর্থনৈতিক দৈন্যতা বেড়ে গেছে।

তার উপর আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো নিত্য সঙ্গী হয়ে রয়েছেই।  শীত আসার সাথে সাথেই গ্রামের অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষের দেখা দিয়েছে শীতকালীন সর্দ্দি, কাশি, হাপানি, টনসেলের ব্যাথা, চর্মরোগ প্রভৃতি। এর নিরসনের ব্যবস্থা আছে কি?

হাসান পিন্টু

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি