LalmohanNews24.Com | logo

২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং

লালমোহনে ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল নিয়ে বিপাকে ব্যক্তিগত মালিকরা

এম, আর পারভেজ এম, আর পারভেজ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত : মে ২১, ২০২০, ১৭:৩৪

লালমোহনে ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল নিয়ে বিপাকে ব্যক্তিগত মালিকরা

দ্বীপ জেলা ভোলার দক্ষিণাঞ্চলের মফস্বল সহ প্রায় সকল যাতায়াত সড়কের বাহন একমাত্র ভাঁড়ায় চালিত মটরসাইকেল (হুন্ডা)। প্রাচীন কাল থেকে এ অঞ্চলে যাত্রীসাধারনকে বহন করতেন গরুর গাড়ী, ঘোড়ার গাড়ী, ভ্যান গাড়ী, পায়ে চাপা রিক্সা, এবং নতুন বিবাহে বর ও কনে আনা নেওয়া করা হতো পালকি দিয়ে কিন্তু ডিজিটাল যুগে এসে কালের আবর্তনে এসকল যানবাহন হারিয়ে যাওয়ায় এখন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ন্যায় লালমোহন সহ পুরো ভোলা জেলায় স্থান করে নিয়েছে ভাঁড়ায় চালিত হুন্ডা বা মটরসাইকেল , এমনকি স্কুল , কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা তাদের চলাচলের জন্য ব্যক্তিগতভাবে মটরসাইকেল ব্যবহার করছেন এঅঞ্চলে । টেন্ডারের মাধ্যমে মটরসাইকেল স্ট্যান্ড ইজারা দিয়েছেন পৌরসভা।

তাই মটরসাইকেল থেকে টোল ও আদায় করছেন নিয়মিত ইজারাদারের লোকজন । তবে কোনটা ভাঁড়ায় চালিত আর কোনটা ব্যক্তিগত এটা জানেনা যাত্রীসাধারন ও ইজারাদারের লোকজন । তাই যে কোন মটরসাইকেল দেখলেই সেটাকে দাঁড়াতে বাধ্য করে তারা। এমন পরিস্থিতে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়ছেন লালমোহনের ব্যক্তিগত মটরসাইকেল চালকরা। সোমবার লালমোহন লাঙ্গলখালী এলাকায় ব্রীজের উপর একটি মটরসাইকেল কে গতিরোধ করে টোল আদায়কারীরা। পরে অনেক কথার বিনিময় শেষে মোটরসাইকেল টি যে ব্যক্তিগত তা বোঝাতে সক্ষম হয় চালক। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

লালমোহনের জাতীয় দৈনিকের একজন সাংবাদিককে নিয়ে একটি ঘটনা উদাহরণ স্বরুপ উল্ল্যেখ করছি। যদিও ঘটনাটি দু-তিন বছর আগের। তবে এমন ঘটনা এখনও অহরহ।

“একটি জরুরী কাজে লালমোহন বিডি নিউজের বার্তা সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের লালমোহন উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুস সালাম সেন্টু চরফ্যাশন উপজেলায় গিয়েছিলেন সেখান থেকে ফেরার পথে ফ্যাশন স্কয়ারের সামনে একজন লোক তাকে থামতে বললে তিনি মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়ায় । হঠাৎ তার মোটরসাইকেলের চাবি হাতে তুলে নেয় ওই লোক। জানতে চাইলে টোল আদায়কারী বলেন, টোল দিয়ে চাবি নিয়ে যান। এরপর সাংবাদিক বললেন এটা ভাড়ায় চালিত নয় এবং আমি একজন সংবাদকর্মী। জরুরী কাজে এসেছি। আপনি দাঁড়াতে বললেন, তাই দাঁড়ালাম। চাবিটা নেয়ার আগে আমার মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিত কিনা সেটা আপনার জানা উচিৎ ছিল। টোল আদায়কারী উত্তর দিলেন , যে কোন গাড়ীই হোক তাকে টোল দিতে হবে। পরে তাকে টোল দিয়েই লালমোহনে ফেরতে হয়েছে । ব্যাপারটি চরফ্যাশনের ইজারাদার জানতে পেরে সমবেদনা জানিয়েছেন ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।”

বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই এমন ঘটনা লক্ষণীয়। তাই ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে স্টিকার বা চালকরা পোশাক ব্যবহারের মাধ্যমে এ সমস্যা লাঘব করার দাবি সচেতন মহলের। যা দেখে টোল আদায়ে নিশ্চিত হতে পারবে ইজারাদার এবং ভাড়ায় চালিত গাড়ী চিনতে পারবে যাত্রীসাধারন। সম্মানের সহিত চলতে পারবেন ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালকরা।

এ ব্যাপারে লালমোহন ভাড়ায় চালিত হুন্ডা মালীক সমিতির সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দীন বেল্লাল বলেন , আমাদের পক্ষ হতে নির্দেশনা দেওয়া আছে সকল ড্রাইভার পোশাক পরিধান করে যাত্রী টানতে হবে কিন্তু অসচেতন ও দারিদ্রের কারনে ড্রাইভারেরা পোশাক কিনছে না বা হুন্ডায় স্টিকার ব্যাবহার করছেনা। তবে বিষয়টি আমি আবারও জোড়ালো ভাবে চেষ্টা করব।

উক্ত বিষয়টির ব্যাপারে লালমোহন পৌরসভার কাউন্সিলর ও সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র মো: জায়েদুল ইসলাম নবীন বলেন, আমি মনে করি ভাড়ায় চালিত সকল মোটরসাইকেলে স্টিকার সহ চালকদের পোশাক থাকলে খুব ভালো হতো। আমি ব্যাপারটি মাসিক মিটিংয়ে উপস্থাপন করব।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি