LalmohanNews24.Com | logo

২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

লালমোহনে বিয়ের বয়স হলেই প্রতিবন্ধী হয়ে যায় এক পরিবারের মেয়েরা

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০১৮, ১৭:০৯

লালমোহনে বিয়ের বয়স হলেই প্রতিবন্ধী হয়ে যায় এক পরিবারের মেয়েরা

মো: জসিম জনি: লালমোহনে বয়স ১৫ পার হলেই এক পরিবারের মেয়েরা প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। এক এক করে ৩ বোন প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে ওই পরিবারে। একই ঘরে ৩ প্রতিবন্ধী বিবাহযোগ্য মেয়েকে নিয়ে দুর্বীসহ জীবন কাটাচ্ছেন দিনমজুর বাবা ও মা। ছোট আরো এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে এখন দুঃশ্চিন্তায় আছেন তারা। উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রহিমপুর গ্রামে এ ৩ বোনের ২জনকেই ঘরে বেঁধে রাখতে হচ্ছে বাবা-মাকে। এরা স্বাভাবিক কথা বলতে পারে না। হাটতে পারে না। হাটতে গেলেই পড়ে গিয়ে আঘাত পায়। উদ্ভট আচরণ করে পরিবারের সদস্যদের সাথে। গায়ের দিকে তেড়ে যায়। দরিদ্র পিতার পক্ষে তাদের পেটে ভাত জোগাড় করতেই কষ্ট হচ্ছে, সেখানে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো কোন সামর্থ নেই ওই পরিবারের। গরীবের ঘরে এমন সামনে বিবাহযোগ্য ৩টি মেয়েকে লালন-পালন করতে পরিবারটি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন জানা গেছে, চরভূতা রহিমপুর গ্রামের রোশন আলী বাড়ির আবু তাহের দিনমুজরী করে সংসার চালান। বয়স ৫০ ছুঁয়েছে। কাজ না থাকলে বাড়িতে বসে বাঁশ দিয়ে হাজি তৈরি করে বিক্রি করেন। স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের গর্ভে প্রথমে জন্ম নেয় তাছনূর। ধীরে ধীরে তাছনূর বড় হতে লাগলে বুঝতে পারে সে বাঁক প্রতিবন্ধী। শুধু বাক প্রতিবন্ধীই নয়, বয়স বাড়লেও তার শিশুসুলভ আচরণ যায়নি। অটিজম শিুশুর মতো হয়ে যায় তাছনূর। দ্বিতীয় মেয়ে আকলিমা জন্ম নিলে স্বাভাবিক ভাবেই বড় হতে থাকে। বয়স ১৫ পার হতেই এ বয়সে বিয়ে দেওয়ার জন্য কথা বার্তা চলে আকলিমার। বড় মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে রেখে আকলিমার জন্যই বিয়ের কথা বার্তা চালায় বাবা-মা। কিন্তু দেখা দেয় আকলিমার মধ্যেও পরিবর্তন। সে স্বাভাবিকভাবে হাটাচলা করতে পারে না। উদ্ভট আচরণ শুরু করে দেয় বাবা-মায়ের সাথে। অটিজম তাকেও ভর করে। বেঁধে রাখতে হয় ঘরে। না হলে বাবা-মাকে মারতে যায়।

এ অবস্থায় জন্ম নেওয়া তৃতীয় মেয়ে সোনিয়াও ছোট বেলায় ভালো থাকলেও বয়স ১৫-১৬ পার হতেই একই আচরণ শুরু হয়। ওই ঘরে এখন ৩ মেয়েই প্রতিবন্ধী।

বাবা আবু তাহের ও মা মোর্শেদার দুশ্চিন্তা থেমে নেই। ৪র্থ নম্বর মেয়েও আছে তাদের। বড় ৩ বোনকে পড়া লেখা না করালেও সে এখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। তাকে নিয়ে ভয় বয়স ১৫ পার হলে কি হয় আবার। দুশ্চিন্তা আকড়ে ধরে বাবা-মাকে। বাবা আবু তাহের বলেন, অভাবের সংসারে ৩ মেয়ের এ অবস্থায় আমরা দুর্বীসহ জীবন কাটাচ্ছি। ভালো চিকিৎসা করাতে পারছি না। তবুও সোনিয়াকে নিয়ে বরিশাল পর্যন্ত গিয়েছিলাম ডাক্তার দেখাতে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ঔষধ দেন ডাক্তার। কিছু দিন ঔষধ খাওয়ালেও টাকার অভাবে আর ঔষধ কিনতে পারিনি।

মা মোর্শেদা বেগম জানান, ৩ মেয়ের বড় মেয়ে জন্ম থেকেই বোবা হয়েছে। বড় হয়ে সে উদ্ভ্রন্তের মতো চলে। ছোট দুই মেয়েরা বড় হয়ে একই আচরণ করতে থাকে। হাটতে গেলে পড়ে গিয়ে দাঁত ভাঙ্গে, শরীর জখম হয়। আবার মারতে আসে। এ অবস্থায় ছোট দুই মেয়েকে ঘরে বেঁধে রাখতে হয় সবসময়। না বাঁধলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়না। মেয়েদের বিয়ের বয়সও পার হয়ে যাচ্ছে। বড় মেয়ে তাছনূরের বয়স এখন ২৫, মেঝ মেয়ে আকলিমার বয়স ২৩ ও সোনিয়ার ২১। এ অবস্থায় তাদের ঘরেই রাখতে হচ্ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান টিটব জানান, আবু তাহেরের ৩ মেয়ে প্রতিবন্ধী। কেন এমন হয়েছে জানি না। তবে তাতের দুই মেয়ের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা করে দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি