LalmohanNews24.Com | logo

১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

লালমোহনে বাল্যবিবাহ থেমে নেই

লালমোহনে বাল্যবিবাহ থেমে নেই

ভোলার লালমোহন উপজেলায় করোনা মহামারীর মধ্যেও থেমে নেই সামাজিক ব্যাধি বাল্যবিবাহ। প্রতি বছরে এই উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসার ৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রায় অধর্শত ছাত্রী বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে থাকে । প্রশাসন, বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন বাল্যবিবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত আইনের চোখে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে স্থানান্তরিত হয়ে বিবাহ সম্পন্ন করে থাকেন ।

উপজেলার ৯ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রতিনিয়ত কিশোরী মেয়েদের বাল্যবিয়ে হচ্ছে অহরহ । যে বয়সে ছেলেমেয়েদের বই-খাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা এবং সাথীদের নিয়ে বাড়ির উঠোন কিংবা বাগানে খেলাধুলা করবে, ঠিক সেই বয়সেই লেখাপড়া কিংবা খেলাধুলার পরিবর্তে স্বামীর বাড়িতে সংসার বুঝে নেয়ার দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের। ফলে বছর পেরুতে না পেরুতেই বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটতে দেখা যায় । সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, যৌতুকপ্রথা, দারিদ্রতা ও কাজীদের অসহযোগিতার কারণেই মূলত লালমোহনে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না বলে অভিজ্ঞ মহলের মতামত।

যে কারণে বেড়ে চলছে বাল্যবিবাহ। জানাযায় , প্রতি ইউনিয়নে একাধিক ব্যক্তি নিকাহ রেজিষ্টারের (কাজি) দায়িত্ব পালন করছেন আসলেই এটার বৈধতা কি সচেতনমহলের প্রশ্ন কর্তৃপক্ষের নিকট । তবে সরকারি ঘোষণা, বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনের সভা-সেমিনারে সচেতনতা বাড়ানোর কারণে নিকাহ রেজিস্ট্রাররা (কাজী) অনেকটা সচেতন হলে ও স্থানীয় ঘটক , মধ্যস্থতাকারী ও অভিভাবকদেও মধ্যে সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অনেকে । গ্রামে অধিকাংশ বিবাহ হয় চুক্তির মাধ্যমে দালাল বা ঘটকের দ্বারা । জানাযায় উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নে গত মাসে প্রায় অর্ধশত বিবাহ সম্পূর্ণ হয় । ওই ইউনিয়নের উত্তর পশ্চিম চরমোল্লাজী গ্রামে চলতি মাসে গত কয়েকদিনে একাধিক বাল্যবিবাহ হইতে দেখা যায় তাদের মধ্যে অধিকাংশ ৬ষ্ট/৯ম শ্রেনীর ছাত্রী বয়স ১২- ১৫ এর মধ্যে ।

জানাযায়, যেসকল মেয়েদের বিবাহ দেওয়া হচ্ছে বেশির ভাগ মেয়েই ৬ষ্ঠ/১০ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। উপজেলার গ্রামাঅঞ্চলের ১৪ বা ১৫ বছর বয়সের বা তার চেয়ে একটু কম বা বেশি বয়সের শিশুদের বিয়ে দেয়া হচ্ছে অহরহ। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই অনেকে আবার মা হয়ে যাচ্ছেন। বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। অনেক সময় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং স্থানীয়দের সাবির্ক প্রচষ্টায় তাৎক্ষণিক বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হলেও অনেকে স্থানান্তরিত হয়ে বিবাহ সম্পন্ন করে ফেলেন ।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ১৯ ধারাটি অপব্যাখ্যা করে প্রান্তিক জনপদে বাল্যবিবাহ হঠাৎ বেড়ে গেছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাস হওয়ার পর জনমনে ধারণা হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দিলেও আইনগত তেমন সমস্যা হবে না। এ কারণে বাল্যবিবাহ বেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি কর্মকর্তারা বা বেসরকারি সংস্থার আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এটি প্রতিরোধে বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধিরা ও তেমন ভূমিকা পালন করছেন না।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়েদের সর্বোত্তম স্বাস্থ্যেরদিক বিবেচনা করে আত্নসম্মানের ভয়ে মা-বাবার সম্মতিতে যে কোনো ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন। আর ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ নারীর বিবাহ মানেই তা বাল্যবিবাহ। বিশেষ ধারার সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে (কাজি) নিকাহ রেজিস্টারের সহযোগীতায় ভূয়াভাবে স্টাম্পে এফিডেভিট দেখিয়ে বয়স বাড়িয়ে অভিভাবকরা প্রায়ই তাদের ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ মেয়েদের বাল্যবিবাহ বা শিশুবিবাহ দিয়ে থাকেন।

আবার অনেক সময় স্থানীয় ম্বোরের মাধ্যমে ভ’য়া জম্ম নিবন্ধন তৈরি করে অবৈধকে বৈধ করে থাকেন । বিশেষ ধারার কারণে বাল্যবিবাহের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। সচেতনমহল বলেন নিকাহ রেজিস্টারদের ( কাজী) কারনেই বাল্যবিবাহ হয়ে থাকে অহরহ। উপজেলার রমাগঞ্জের নিকাহ রেজিস্টার মোঃ ফজলুল হক কাজীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে এফিডেভিট করে বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ থাকলেও তা তিনি অস্বীকার করে বলেন এগুলো আদালতের ব্যাপার এবং আমার দ্বারা বাল্যবিবাহ হয়না।

লালমোহন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধের ব্যাপারে উপজেলার সকল নিকাহ রেজিস্টার (কাজী), মসজিদের ঈমাম ও মুয়াজ্জিন এবং পর্যায়ক্রমে অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা ও সমাবেশ করব, এরপর যদি বাল্যবিবাহ সংঘঠিত হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে ।

এব্যাপারে লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড ) মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন বাল্যবিবাহের ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ সংঘঠিত হওয়ার তথ্য পেলে আমি আইনানুগ ব্যাবস্থা নিব।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি