LalmohanNews24.Com | logo

১লা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং

লালমোহনে প্রাণ হাতে নিয়ে ব্রিজ পারাপার!

লালমোহনে প্রাণ হাতে নিয়ে ব্রিজ পারাপার!

ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের কিশোরগঞ্জ এলাকার কাঁটাখালী খালের ওপরের ব্রিজটি এখন পরিনত হয়েছে মরণ ফাঁদে। প্রতিদিনই প্রাণ হাতে নিয়ে ব্রিজটির ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে হাজার হাজার মানুষ। ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নে যাতায়াতের প্রধান সড়ক হচ্ছে লালমোহন স্টুডিয়াম সংলগ্ন মিঝি মসজিদের কাছ থেকে সাতবাড়িয়া পর্যন্ত সড়কটি। আর এ সড়কের কিশোরগঞ্জ এলাকার কাঁটাখালি খালের ওপরের ব্রিজটি এখন যানবাহণ ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা অত্যান্ত জরার্জীণ। যার কারণে সাধারণ মানুষ ও যানবাহণ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে ব্রিজটি। ব্রিজটির ওপর সামান্য মটর সাইকেল উঠলেও কাঁপতে থাকে। ব্রিজের মাঝখানে দুইটি বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে এখানে কিছুদিন পর পর ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে গুরুতর আহত হয়েছে অনেকে। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে এ সড়ক দিয়ে এখন আর কোনো ভাড়ি যানবাহণ চলাচল করছে না। অতি দ্রুত যদি এখানে নতুন কোনো ব্রিজ নির্মাণ করা না হয় তাহলে এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন এলাকাবাসী ও এখান দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহণ চালকরা।

কিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সজিব, মো. রিপন ও মো. জীবন জানায়, আমাদের এই ব্রিজের ওপর দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে খুব ভয় হয়। ব্রিজের ওপর যখন উঠি তখন হোন্ডা গেলেও ব্রিজটি কাঁপতে থাকে।
সাতানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম মাষ্টার বলেন, আমি প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয় ব্রিজটির ওপর দিয়ে। ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা অত্যান্ত নাজুক। যদি নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ করা না হয়, তাহলে সামনে আমাদের বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা দেখতে হতে পারে।

রিক্সা চালক মফিজুল ইসলাম, কাশেম ও তালুকদার বলেন, আমরা প্রতিদিন জীবনের প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পার হচ্ছি। যাত্রীদেরও অনেক সমস্যা হচ্ছে। মাঝে মাঝে রিক্সার চাকা গর্তের মধ্যে পরে গিয়ে যাত্রীরা রিক্সা থেকে পরে আহত হচ্ছে।

অটো (বোরাক) চালক ছিদ্দিক, কামাল ও ফিরোজ জানায়, এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১৫ বার আসা-যাওয়া করছি। যদি সংসারে অভাব না থাকতো তাহলে এতো ঝুঁকি নিয়ে কখনই এখান দিয়ে আসা-যাওয়া করতাম না। আমরা জীবনের তাগিদে এখান দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পার হচ্ছি। ব্রিজটি যদি অতি শিগগিরই নতুন করে নির্মাণ না করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে অনেক খারাপ ধরনের কিছু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। তাই আমাদের দাবী দ্রুত যেনো এই ব্রিজটি ভেঙ্গে নতুন করে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

এবিষয়ে ফরাজগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার সেলিম বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া আছে। এই ব্রিজটির টেন্ডার হলেই, নতুন করে এখানে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা ফোরকান সিকদার জানান, এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে আমরা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আশা করি খুব দ্রুত নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি