LalmohanNews24.Com | logo

৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

লালমোহনে তরুনীসহ মোটরসাইকেল চালককে আটকে নির্যাতন, হদিস নেই সেই তরুনীর

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : জুলাই ৩০, ২০২১, ১৬:৫৪

লালমোহনে তরুনীসহ মোটরসাইকেল চালককে আটকে নির্যাতন, হদিস নেই সেই তরুনীর

ভোলার লালমোহনে রাতের আঁধারে তরুনীসহ নদীর পাড়ে পাওয়ায় ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেল চালককে বেদম মারপিট করে মোটরসাইকেল আটকে নগদ ২০ হাজার টাকা আদায় করেছে কয়েক বখাটে যুবক। এছাড়া মোটরসাইকেলে থাকা ওই তরুনীকে জিম্মী করে ৮-৯ দিন বখাটেদের বাড়িতে কয়েক হাত বদল করে আটকে রাখারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ওই তরুনির কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি মাসের প্রথম দিকে লালমোহনের মেঘনা নদীর কূল ঘেঁষে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কাঠির মাথায় এ ঘটনা ঘটে। কয়েকদিন আগে ওই এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি লাশ দেখা যাওয়ায় ওই লাশটি তরুনীর বলে এলাকায় গুঞ্জন ওঠে। যদিও পরে লাশ খুঁজে পাওয়ায় যায়নি। লাশ পাওয়ার খবর থানা পুলিশের কানেও পৌছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও লাশ খুঁজে পায়নি। তবে ওই তরুনীর এখন পর্যন্ত কোন হদিস না পাওয়ায় এবং মোটরসাইকেল চালকসহ তরুনীকে আটকের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কে ওই তরুনী সে বিষয়েও কেউই মুখ খুলছে না। নির্যাতনের শিকার ওই মোটরসাইকেল চালক এ ঘটনায় বিচার দাবী করেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে লালমোহন লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের কাষ্মির গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে জহির ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে অজ্ঞাতনামা এক তরুনীকে নিয়ে ঢাকা যাবার জন্য মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সেদিন লঞ্চ না পাওয়ায় তারা কাঠির মাথা এলাকায় তরুনীর এক আত্মীয় বাড়িতে যাবার কথা বলে ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করে। রাত ১০টার দিকে তাদের রাস্তায় দেখে এলাকার বখাটে প্রভাবশালী যুবক মোসলেউদ্দিন, নুরনবী, কবির, কালাম সর্দার, বেল্লাল ও হোসেনসহ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জহির ও ওই তরুনীতে আটক করে। বখাটেদের নায়ক মোসলেউদ্দিনের নেতৃত্বে জহিরকে ব্যপক নির্যাতন করে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করা হয়। পরে জহিরের স্ত্রী খবর পেয়ে এসে স্বামীকে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে ওই তরুনীকে ও জহিরের মোটরসাইকেল রেখে দেয় ওই বখাটেরা। ২দিন পর জহিরের স্ত্রী বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা যোগাড় করে এনে মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে নেয়। তরুনীকে সেদিন রাতে কাঠির মাথা এলাকার কবিরের ঘরে রাখে।

কবিরের স্ত্রী রুমার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, রাত ৩টার দিকে তরুনীকে কয়েকজন যুবক তার কাছে রেখে যায়। পরদিন সকাল ৭টায় তারা আবার নিয়ে যায়। পরে সেখানকার খলিলের ছেলে হোসেনের কাছে রাখা হয় মেয়েটিকে। বখাটেরা বিভিন্ন বাড়িতে রাত কাটায় মেয়েটিকে নিয়ে। এভাবে প্রায় ৮-৯ দিন মেয়েটিকে তাদের কাছে রাখে। এরপর আর মেয়েটির কোন হদিস পাওয়া যায়নি। কে সেই তরুনী তাও বলছে না বখাটেরা।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ঘটনা তিনি শুনেছেন। পরে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকে তিনি ঘটনা অবগত করেন। তরুনীকে অনেকদিন হোসেনের মাধ্যমে কুমারখালী গ্রামে কালাম সর্দার ও কাঠির মাথার বেল্লাল তাদের কাছে রাখে বলেও তিনি জেনেছেন। এরপর আর তার কোন হদিস পাননি। ঘটনার হোতা মোসলেউদ্দিন কিছুই জানেনা বলে জানান। আরেকজন বখাটে হোসেন একটি ভিডিওতে মেয়েটিকে তার কাছে ৮-৯ দিন রেখেছেন বলে স্বীকার করেন। এর মধ্যে তার কাছ থেকে কালাম সর্দার ও বেলাল মেয়েটিকে কয়েকদিন নিয়ে তাদের কাছে রাখেন। পরে ২ হাজার টাকা দিয়ে মেয়েটিকে লালমোহন গাড়িতে উঠিয়ে দেয়। এ নিয়ে এলাকায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কে ওই তরুনী তা নিয়ে মুখ খুলছেনা সেই মোটরসাইকেল চালক জহিরও। সে জানায় মেয়েটিকে সে চিনেনা। শুধু ঢাকা যাওয়া জন্য তার মোটরসাইকেলে উঠেছে। পরে ওই বখাটেরা তাকে আটকে রাখে।

লালমোহন থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে একটি লাশ পাওয়ার খবরে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোন লাশ খুঁজে পায়নি।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি