LalmohanNews24.Com | logo

৩রা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

লালমোহনে করোনায় কর্মহীন পরিবারের ঈদ কাটবে পুরোনা জামা-জুতায়

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : মে ২৩, ২০২০, ২২:১৫

লালমোহনে করোনায় কর্মহীন পরিবারের ঈদ কাটবে পুরোনা জামা-জুতায়

২৬ বছরের যুবক সেলিম পুরোনা এক জোড়া জুতা নিয়ে এসেছেন সেলাই করতে মুচির কাছে। এবারের এ পুরোনা জুতায় তার ঈদ কাটছে। নতুন জুতা কেনার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের কথা চিন্তা করে সেদিকে পা বাড়াননি। সেলিমের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নে। পেশায় একজন ছোট্ট দোকানদার। করোনা ভাইরাসের কারণে গত দু মাসের বেশি সময় ধরে তার দোকান বন্ধ রয়েছে।

লালমোহন ভূমি অফিসের সামনে মুচির দোকানে বসে কথা হয় সেলিমসহ আরো কয়েকজন পুরোনা জুতা সেলাই করতে আসা ব্যক্তির সাথে। এদের মধ্যে ছরছকিনা গ্রামের বিলকিছ একজন। তিনিও পুরোনা জুতা সেলাই করতে এসেছেন। করোনাকালে তাদের নতুন জুতা কেনার সামর্থ নেই। নিজের জন্য না হলেও ৫ বছরের শিশু পুত্রের জন্য একজোড়া নতুন জুতা কিনেছেন ২দিন আগে।

শুধু মুচির দোকানই নয় এবার ফুটপাতের দোকানেও নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় লেগে আছে। লালমোহন মুক্তিযোদ্ধা এ্যাভিনিউতে ফুটপাতে শিশুপুত্রকে নিয়ে নতুন জামা প্যান্ট কিনতে এসেছেন খাদিজা বেগম। কমদামে ফুটপাতে জামা প্যান্ট পাওয়া যায়। বড় দোকানে ঢোকার সাহস নেই তার। স্বামী আসলাম লালমোহন মঙ্গলসিকদার রুটের অটো গাড়ি চালক। করোনার কারণে তার গাড়িও এখন চলেনা রাস্তায়।

করোনা ভাইরাসে লালমোহনে এরকম শত শত কর্মহীন পরিবার রয়েছে যাদের ঈদ কাটবে পুরোনা জামা জুতায়। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তার উপর ঈদ। নিজেদের জন্য না হলেও সন্তানের ঈদের জামা-জুতার চাহিদা পূরণ করতে বহু বাবা-মাকে নিরবে কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। কেউ কেউ অন্যের কাছে হাত পাতছেন। শুধু জামা জুতাই নয়, সেমাই চিনিও কেনার সামর্থ নেই অনেক পরিবারের। কাজ নেই, বেতন নেই। রিকশা চালকদের আয় নেই। দোকানপাট বন্ধ। ব্যবসা চলে না। দিনমজুরের মুজুরী নেই। নিম্ন আয়ের মানুষ এখন গৃহবন্ধি। এ অবস্থায় ধার দেনা করেও কেউ কেউ সংসার চালাচ্ছেন।

লালমোহনে কিছু কিছু দোকান মাঝে মধ্যে খুললেও কর্মচারীদের প্রয়োজন হয় না। কর্মচারীরা ছুটিতে রয়েছেন। আর তাই অনেকের বেতনও নেই। ঈদ বোনাসও নেই। এদের ঈদ আনন্দের কথা ভাবনার বাইরে।

লকডাউনের পর থেকে বন্ধ রয়েছে অটো রিকশা চালক শহিদের রিকশা চলাচল। তাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তিনি। জীবন-জীবিকার উপর বিরক্ত এই দিনমজুরের কাছে ঈদ কেমন কাটবে জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাজ নেই তাই আয়ও নেই। তাই ঠিকমতো খাবারও জোটে না। এরমধ্যে ঈদ কাটবে কি করে।

তবে কর্মহীন প্রায় ২০ হাজার পরিবারের মাঝে ভোলা-৩ আসনের এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ব্যক্তিগতভাবে ও সরকারীভাবে ত্রাণ, খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ সামগ্রী পৌছে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অপূর্ব দাস জানান, লালমোহনে করোনা ভাইরাসে কর্মহীন পরিবারের জন্য এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ১০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করেছেন। সরকারী ভাবে বিতরণ করা হয়েছে ২০০ মেট্রিক টন চাল। এছাড়া নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা।

 

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি