LalmohanNews24.Com | logo

১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

লালমোহনে অতিরিক্তি শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত কাজ কারবার!

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : আগস্ট ০৬, ২০১৮, ২১:৪৬

লালমোহনে অতিরিক্তি শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত কাজ কারবার!

ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়ীত্ব না দিয়ে পদে বসে আছেন অতিরিক্ত দায়ীত্বে থাকা জেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার (এডিপিও) কামরুজ্জামান। দায়ীত্বে থেকে তিনি স্লিপসহ বিভিন্ন বরাদ্দকৃত টাকা থেকে বিশেষ অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার জালাল আহমেদের বদলীর কারণে এডিপিও কামরুজ্জামানকে অতিরিক্ত দায়ীত্ব দেওয়া হয় লালমোহন উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে। কিন্তু গত ৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার লালমোহন উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে পরিমল চন্দ্র বালাকে পাঠানো হলেও এডিপিও কামরুজ্জামান দায়ীত্ব হস্তান্তর করেননি। বরং তিনি নতুন শিক্ষা অফিসারকে দায়ীত্ব না দিয়েই ছুটিতে পাঠিয়ে দেন।

এ সুযোগে এডিপিও কামরুজ্জামান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ, প্রাক প্রাথমিক উপকরণ ক্রয় ও রুটিন মেরামতের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা থেকে বিশেষ অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ৩ প্রকেল্পর বরাদ্দকৃত ৯২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা থেকে এর আগে কিছু শিক্ষক নেতা ভাগ বসাতে চেয়েছিলেন। তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপে শিক্ষক নেতাদের টাকা নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পরই এডিপিও কামরুজ্জমামান জুন ক্লোজিংয়ের আগে সমস্ত টাকা প্রধান শিক্ষক বা স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের নামে না দিয়ে নিজের অফিসের নামে নিয়ে নেন। আগে কাজ পরে টাকা এমন নির্দেশনা দিয়ে শুরু হয় অফিসের টাকা আদায়। প্রধান শিক্ষকদের থেকে স্লিপের জন্য বরাদ্দকৃত স্কুল থেকে সর্বনিম্ম দেড় হাজার টাকা ও ২ বা ৩ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত স্কুল থেকে ২ হাজার টাকা করে রাখছেন অফিসেরই দুই কর্মকর্তা কর্মচারী। এডিপিও কামরুজ্জামান এ টাকা নিতে বলেছেন বলেও শিক্ষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এডিপিও কামরুজ্জামান টাকা নিজের হাতে না নিয়ে অফিসের মাধ্যমে আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অফিসের দুই স্টাফের কাছে প্রধান শিক্ষকরা টাকা রেখে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকরা কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে কামরুজ্জামান ওই স্কুলে সরেজমিন গিয়ে বিগত ৫ বছরের স্লিপের কাজের হিসেব চেয়ে তাদের হয়রানী করেন। একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টাকা না দেওয়ায় তার বিদ্যালয়ে এখনো টাকা দেননি বলেও অভিযোগ করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এডিপিও কামরুজ্জামান প্রশ্নপত্র বিক্রি করেও বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে শিক্ষক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও হয়রানীর ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না।

তিনি এর আগে ভোলা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার থাকা কালে প্রধান শিক্ষকদের না জানিয়ে ৪শত স্কুল থেকে স্লিপের ৫ হাজার টাকা করে অফিস খরচ হিসেবে তুলে নেন বলেও ওই সময় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয়। ৩টি স্কুল থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাংক থেকে তুলে নেন।

এবিষয়ে এডিপিও কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার বা অফিসের কাউকে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজ ১০০ ভাগ নিশ্চিত করার জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি। কাজ করে পরে বরাদ্দকৃত টাকা নিবে। কেউ যদি অফিসে কারো কাছে কোন টাকা দেয় সেটা অভিযোগ দিতে হবে। নতুন শিক্ষা অফিসার বৃহস্পতিবার এসেই ছুটিতে চলে গেছেন। তিনি মঙ্গলবার আসলে দায়ীত্ব বুঝিয়ে দেব।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি