LalmohanNews24.Com | logo

৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

যে নেশা ছিলো এমপি পুত্র অনিকের

যে নেশা ছিলো এমপি পুত্র অনিকের

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকার এমপি হোস্টেলের একটি কক্ষে আত্মহত্যা করেছেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহর ছেলে অনীক আজিজ। রোববার সকাল ৮টার দিকে ৫ নম্বর ভবনের (এমপি হোস্টেল) ৬০৪ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ অনীকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

অনীকের বয়স মাত্র ২৭। তারুণ্যের আবেগে মেতে প্রিয় ক্যামেরা নিয়ে সারাদিন ছুটে বেড়াতেন ফটোগ্রাফির শখে। সমাজের অসহায়দের ছবি তুলে ফেসবুকে প্রচার করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। জড়িত ছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গেও।

শনিবার রাতের কোনো এক সময়ে আত্মহত্যা করেন অনীক। খুলনার সিটি পলিটেকনিক থেকে ইলেকট্রিক্যালে ডিপ্লোমা করেছেন তিনি। মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য। এবারই প্রথম তিনি এমপি হন।

দৈনিক দক্ষিণের মফশালের নির্বাহী সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র সভাপতি মিনাজুর রহমান এমপি মুস্তফা লুৎফুল্লাহর বন্ধু। তিনি বলেন, এমপি মুস্তফা ভাই বাচ্চাদের নিয়ে সবার বাসায় যেতেন। আমি তাকে শিশুকাল থেকে চিনি। অনীকের ভেতরে কোনো ভাব ছিল না। নিরীহ একটি ছেলে। খুব সাদামাঠা জীবন-যাপন করত। ওর ভেতরে কোনো অহমিকা বোধ ছিল না। কাউকে কোনোদিন কষ্ট দিয়ে কথা বলেনি। কখনো কারো সঙ্গে তর্ক করেনি। রাগ দেখায়নি।

তিনি আরো বলেন, অনীকের শখ ছিল ছবি তোলা। নিপীড়িন মানুষের ছবি তুলে ফেসবুকে আপ করত। কোনো নিপীড়ন বা অনিয়ম দেখলেই ছবি তুলে ফেসবুকে দিত। সে ছাত্রমৈত্রী করত। এমপির ছেলে হিসেবে কে কখনো স্পেস দখল করেনি। এমনকি এমপির গাড়ি ব্যবহার করে দশ হাত দূরেও যায়নি। গণজাগরণ মঞ্চে এক মাসেরও বেশি সময় ও মুক্তিযুদ্ধের ছবি প্রদর্শন করেছিল। প্রতিদিন রাত ৮টা পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ছবিগুলো দেখাত সে। পজেটিভ বাংলাদেশ গড়ার জন্য সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে অনীক।

অনীকের ছোটবোন আদৃতা সৃষ্টি বলেন, বাবা-মার সঙ্গে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল ভাইয়ের। বাবা কখন বাবার জায়গা থেকে কথা বলেনি। বন্ধুর মতো ইয়ার্কি ফাজলামি করেছে। আত্মহত্যার আগেও আমরা রাত ১১টা পর্যন্ত গল্প করেছি। এরপর কী হয়েছে আমি কিছুই বলতে পারব না। অনিকের এক আত্মীয় জানান, পড়ালেখার চেয়ে মানুষের কল্যাণে সবসময় নিবেদিত ছিল অনীক।

অনীকের ফেসবুক ঘেটে পারিবারিক কয়েকটি ছবিতে বাবা-মা আর দুই ভাইবোনকে হাস্যেজ্জ্বল দেখা যায়। এ ছাড়াও প্রকৃতির সুন্দর দৃশ্যও ধারণ করে ফেসবুকে দিতেন তিনি। ছবি তোলার শখ থেকেই পাঠশালায় ফটোগ্রাফির কোর্স করেছিলেন তিনি।

সকালে ন্যাম ফ্ল্যাট সরেজমিনে দেখা যায়, এমপির ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ। মরদেহ সুরতহালের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতলে নেয়া হয়েছে। সেখানেই গেছেন সবাই।

ফ্ল্যাটের দায়িত্বরত কর্মচারীরা বলাবলি করছিলেন, একটি মেয়ে প্রায়েই অনীকের কাছে আসতেন। মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। এ প্রেমই নাকি আত্মহত্যার কারণ।

দুপুর ১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। এ সময় হাসপাতালে এমপি, মরহুমের বোন আদৃতা সৃষ্টি ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এরপর হেলিকপ্টারে তাকে সাতক্ষীরায় নেয়া হয়।

মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ফরেনসিক মেডিকেলের প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক আ ম সেলিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, গলায় ইন্টারনেটের তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। শরীরের আর কোনো জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

 

হাসান পিন্টু

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি