LalmohanNews24.Com | logo

১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

যেভাবে করোনার ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ

যেভাবে করোনার ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ

করোনা থেকে বাঁচতে সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে তোড়জোড়। এরই জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র ডিসেম্বরের শুরুর দিকে করোনার টিকা বিতরণ শুরু করতে পারে। অনুমতি পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন পাঠানো শুরু করে দেওয়া হবে ৷ এই কাজ ১১ থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু করা হতে পারে ৷

ইতামধ্যেই করোনা মহামারির সংক্রমণ থেকে দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে ৩ কোটি ভ্যাকসিন কেনার জন্য চুক্তি করেছে সরকার। সেই চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাকসিন অনুমোদনের পর প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ দেশে আসবে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ভ্যাকসিন ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট হয়ে বাংলাদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোর কাছে আসবে। এরপর সেখান থেকে সেগুলো সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ইতোমধ্যে এসব ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য গুদাম প্রস্তুতকরণ এবং কারা এগুলো আগে পাবেন, তাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি মানুষের দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য মাঠপর্যায়েও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে ভ্যাকসিন আসার পর পরই চুক্তি অনুযায়ী তা বাংলাদেশেও ঢুকবে। তবুও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনিজ অ্যান্ড ইমুউনিজেশন (গ্যাভি) ও কোভেক্স নেতাদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত আলোচনা চলছে। কারণ আগে থেকেই সরকার কোভেক্সভুক্ত হয়েছে এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকাও দিয়েছে। ফলে প্রাথমিকভাবে সেখান থেকে ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য ভ্যাকসিন আসবে।

কিন্তু কোভেক্স থেকে কবে নাগাদ বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আসবে, তা এখন পর্যন্ত কেউই নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া গ্যাভি থেকে দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষের জন্য আরো ৭ কোটি ৬০ লাখ ডোজ আসবে। তবে এগুলো আসতে যে দেরি হবে, সেটা এক প্রকার নিশ্চিত করেই বলা যায়।

গত ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মা ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর ভারতে আসবে। সেখান থেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে তা বাংলাদেশ সরকারকে সরবরাহ করা হবে। এক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে দুটি করে ডোজ দেয়া হবে। প্রথম দফায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে দেয়া হবে। এর ঠিক ২৮দিন পর তাদেরকে আবারও ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ভ্যাকসিন প্রাপ্তি সাপেক্ষে সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ, পরিবহন ও সুষ্ঠুভাবে সরবরাহের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে উপদেষ্টা করে ২৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর এই কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির একজন সদস্য জানান, অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিন যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখতে হয়, সেটার ক্যাপাসিটি আমাদের আছে। অবশ্য কিছু অতিরিক্ত যন্ত্রপাতিও কেনা লাগবে। তাছাড়া ৩ কোটি ডোজ একসঙ্গে আসবে না। প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে আসবে এবং তা রাখার মতো ক্যাপাসিটি আমাদের আছে।

ভ্যাকসিন আসলে কারা আগে পাবেন ও কিভাবে পাবেন, সেটার জন্য ন্যাশনাল ডিপ্লোমেট প্ল্যানে প্রায়োরিটি সিলেকশন নামে একটি খাত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রুপটি নিয়ে এখন কাজ চলছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক খসড়া তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সেটিকেই ফাইনাল ড্রাফট করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি