LalmohanNews24.Com | logo

২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

মৃত্যু এদেশে কত সহজ!

মৃত্যু এদেশে কত সহজ!

সালেহ্ রনক: আগুনে মৃত্যু, পানিতে মৃত্যু, সড়কে মৃত্যু, পুলিশের হাতে মৃত্যু, র‍্যাবের হাতে মৃত্যু,মিছিলে মৃত্যু, ভোটের মাঠে মৃত্যু, যাকাতে মৃত্যু, দাওয়াতে মৃত্যু, হাসপাতালে মৃত্য! ঘরে বাইরে সবজায়গায় শুধু মৃত্যু আর মৃত্যু !এ যেন এক মৃত্যুপুরীতে বসবাস!

নদীতে লঞ্চ ডুবিতে একসাথে অনেক লোক মারা যায়। চারদিকে হৈহৈ রৈরৈ পড়ে যায়। উদ্ধারকাজে উদ্ধারকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কাতারে কাতারে মানুষ মরে,আমরাও কিছুদিন পর সবকিছু ভুলে যাই। তাদেরও আর সক্ষমতা বাড়ে না।

আগুনে শত শত প্রাণহানির পর চারদিকে রব ওঠে উদ্ধারকর্মী ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিয়ে। প্রতিবারই শুনে থাকি বিলম্বে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর কথা। শুধু তাই নয়, একই কথার যেন টেপরেকর্ডারের মতো বেজেই চলছে, পানি স্বল্পতার কারণে আগুন নেভানোর কাছ পিছিয়ে গেছে, যাচ্ছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। যানজটের নগরীতে তাড়াতাড়িতে পৌঁছানোর উপায় নেই তাই বিলম্বে পৌঁছানোর কারণ না হয় জানা গেল। কিন্তু প্রতিবার পানি স্বল্পতার কারণে তাদের অগ্নিনির্বাপণ কাজ পিছিয়ে যায়, এই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আপনি যে ঘরে বাস করেন, তার নাড়িনক্ষত্র ভালো করেই জানার কথা। ঢাকা শহরের মতো ব্যস্ত ও অপরিকল্পিত নগরীতে যাতে পানি স্বল্পতার কারণে অগ্নিনির্বাপণের কাজ বাধাগ্রস্ত না হয় তার উপযুক্ত উপায় আপনাদেরকেই বের করতে হবে। এতটা বছর ধরে করছেনটা কি তাহলে?

বনানীর এফ আর টাওয়ারের যে ফ্লোর থেকে আগুনের সূত্রপাত সেই তালাসহ উপরের অনেক তালা থেকে অনেককে জীবন বাঁচাতে ক্যাবল বেয়ে নামতে গিয়ে নিচে পড়তে দেখা গেছে। দশতলার উপর থেকে কারো লাফিয়ে পড়া মানে এক মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে আর মৃত্যু কূপে ঝাপিয়ে পড়া। তাই অনেকেই ঘটনাস্হলে মারা গেছেন, বাকিরা গুরুতর আহত হয়েছেন। অথচ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স যদি বড় নেটের ব্যবস্হা করতো কিংবা তাদের সেই আয়োজন থাকতো তাহলে অনেকেই সেই জালে লাফিয়ে পড়ে জীবন বাঁচাতে পারতেন কোন রকম দূর্ঘটনা ছাড়াই। নিচে থাকতে পারতো জাম্পিং ফোম। ফায়ার ফাইটার কিংবা দমকল বাহিনীর কাজ কি শুধু পানি নিয়ে হাজির হওয়া? আগুন নেভানোর চেষ্টা করে যাওয়া? এটা ঠিক যে বনানীর অগ্নিকাণ্ডে তারা তাদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অসাধারণ কাজ করেছেন কিন্তু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা থাকবে কেন?প্রতিবারই তাদের সক্ষমতার অভাবে অনেক প্রাণ ঝরে যায়। বিমান বাহিনীর সহায়তায় বেশ কয়েকজনের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে যা প্রশাংসার দাবিদার।

আমরা জাতে উঠতে শিখেছি, জাত রক্ষা করতে শিখিনি। অভিজাত এলাকা বনানী অথচ চিত্র একই ।

আবাসিক এলাকায় বানিজ্যিক ভবনের অভাব নেই। যে বিল্ডিং এ আগুন লেগেছে তার পাশের সবকয়টা বিল্ডিং একটার সাথে একটা লেগে আছে। পুরান ঢাকার চেয়ে খুব বেশি ভালো বলার উপায় নেই। এবং বিল্ডিংটিতে ছিল না কোন অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্হা। আগুন লাগলে যাতে নিরাপদ পথে মানুষ বের হয়ে যেতে পারে তার ব্যবস্থাও ছিল না।

রাজউক ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে নাগকিরদের জান ও মালের সকল ক্ষতি দায়ভার চাপিয়ে দেয়ার সময় এসেছে।এদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ছাড়া বিকল্প নেই। কারণ তাদেরকে ম্যানেজ করেই কিংবা তাদের দায়িত্বের প্রতি উদাসীনতায় তারা এতদিন কোন নিয়ম কানুন না মেনে বিল্ডিং করার পরও বহাল তবিয়তে টিকে ছিল।

যখনই কোন দূর্যোগের মুখোমুখি হয় রাস্ট্র তখনই বলতে শোনা যায় সক্ষমতার কথা। বাংলাদেশ রাস্ট্র তবে সাবালক হবে কবে? কবে তার জনগণ যেকোন দূর্ঘটনা, দুর্যোগে রাস্ট্রযন্ত্রের সাবালকত্ব দেখতে পাবে?

লেখক: শিক্ষক ও সমাজকর্মী

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি