LalmohanNews24.Com | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের একজন ‘শাওন’ দিন আমরা আপনাকে ভোলা-৩ আসন উপহার দিবো”

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের একজন ‘শাওন’ দিন আমরা আপনাকে ভোলা-৩ আসন উপহার দিবো”

এম. নুরুন্নবী / শরীফ আল-আমীনঃ তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমূহনী বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা গেদু বেপারী। বয়স ৭০। বুধবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট। একাকী বসে আছেন চৌমুহনী লঞ্চ ঘাটের উত্তর পাশে বেড়িবাধেঁর উপর। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে বøক নির্মানের চলমান কাজের দিকেই তার অপলক দৃষ্টি। চারবার নদী ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হয়ে এখন প্রতিদিনই আসেন কাজের খোঁজ নিতে। আক্ষেপ তার আরো ১০-১৫ বছর আগে যদি এই বøক নির্মান করা হতো তাহলেও কিছু সহায়-সম্বল তার অবশিষ্ট থাকতো হয়তো। সেকারণেই এখন দারুন খুঁশি প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। তার সরকারের অবদানেই আজ আবার ঘর বাধার স্বপ্ন দেখছেন গেদু বেপারী।

কুশল বিনিময়ের জন্য জানতে চাইলে তিনি জানান, “বেশ ভাল আছি। নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে আমাদের এমপি সাহেব প্রধানমন্ত্রী কাছ থেকে বøক আনছে। নদীতে ডাকাতিও বন্ধ হইছে। আমাদের আর কিছু চাই না।” বৃহস্পতিবার বরিশালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসছেন ও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এমন সংবাদও তিনি রাখেন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর কোন প্রত্যাশা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি দাবী করেন, “আমরা ভাত কাপড় চাইনা। এ এলাকায় আর উন্নয়নের কিছু বাকী নাই। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই চাওয়া আমাদের একজন শাওন (স্থানীয় সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন) দিন, আমরা আপনাকে এই আসন উপহার দিবো”। এমন দাবীর কারন জানতে চাইলে ততক্ষনে সেখানে ভীড় করা গোটা ১০-১২ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে দেখিয়ে তিনি নিজেই উত্তর দেন ‘হাফিজের আমলে এরা সকলেও আমার মতো নদী ভাঙ্গনের শিকার। কিন্তু তিনি ২২ বছর এমপি ও মন্ত্রী হয়েও তো কিছু করতে পারলো না’। ‘আমাদের এমপি শাওন তো দুই মেয়াদে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছেন এমন দাবী প্রায় প্রত্যেকেরই কন্ঠেই।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে এলাকায় শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী আমেজ। উঠান বৈঠক, যোগদান, সভা সমাবেশ ও কর্মি সভার মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ নির্বাচনী মাঠে বেশ তৎপর। বিগত ৭ বছরে এ আসনের ব্যাপক উন্নয়ন, যোগ্য নেতৃত্ব ও মজবুত সাংগঠনিক অবস্থানসহ বর্তমান সাংসদ নূরুন্নবী চৌধূরী শাওনই আওয়ামীলীগের বিজয় যাত্রার অন্যতম শক্তি বলে মনে করেন দলটির সর্বস্তরের নেতা কর্মিরা। ইতিমধ্যে এলাকার উন্নয়ন ও জনমূখী হওয়ায় বর্তমান সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ‘দ্বীপবন্ধু’ উপাধিও পান। তার মেয়াদকালে সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক স্থাপন, লালমোহনে ৪টি ও তজুমদ্দিনে ২ টি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, আড়াইশ’ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ, দুই উপজেলায় নতুন থানা ও মুক্তিযোদ্ধা ভবন নির্মাণ, লালমোহন উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণ, মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ, মাটির কেল্লা নির্মাণ, ভোলা-চরফ্যাশন সড়কে ব্রিজ এবং ফরাজগঞ্জ-বদরপুর সংযোগ ব্রিজসহ দুই উপজেলায় তিন শতাধিক ব্রিজ নির্মাণ এবং ৬০ হাজার পরিবারের মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়াসহ উন্নয়নের এমন চিত্র তার ‘দ্বীপবন্ধু’ উপাধিকে উপযুক্তই মনে করছে দুই উপজেলার মানুষ।

ভোলা-৩ আসন (লালমোহন ও তজুমদ্দিন) একটি পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭শ’ ভোটারের মধ্যে লালমোহনে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৫১৬ এবং তজুমদ্দিনের ভোটার ৭৪ হাজার ১৮৪। বিএনপিতে হাফিজের বিকল্প নেই বলে মনে করেন উভয় দলের বেশির ভাগ নেতা-কর্মি। এলাকার সাধারন ভোটাররাও মনে করেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের মধ্যেই লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটির দখল পায় আওয়ামী লীগ। মাঝের ৩৪ বছরের মধ্যে ২৩ বছরই আসনটি ছিল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমের দখলে। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে দল তাকে মনোনয়ন দিলেও দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্য হারান তিনি।

২০০৮ সালে মেজর (অব.) হাফিজ ১০ হাজার ভোটে হারেন আওয়ামী লীগের আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জসিমের কাছে। পরে হাফিজের করা রিটের কারণে ২০১০ সালে আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত। পরে উপনির্বাচনে যুবলীগ নেতা শাওনের সঙ্গে ভোটযুদ্ধে নামেন হাফিজ। তখন ৫১ হাজার ২১৫ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী হাফিজ পরাজিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে শাওন দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হন। জানতে চাইলে লালমোহন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম অরুন বলেন, ‘নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন তার উন্নয়নমুলক কাজের জন্য আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত জয়লাভ করবেন। এমপি হওয়ার পর এলাকার যে উন্নয়ন তিনি করেছেন তা গত ২৩ বছরের শাসনামলেও মেজর হাফিজ করতে পারেননি।’ তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফখরুল আলম জাহাঙ্গীর, সম্পাদক ফজলুল হক দেওয়ান ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিম হাওলাদার মনে করেন, ‘ আগামী নির্বাচনে নুরুন্নবী শাওনের বিকল্প নেই। কারন তিনি এলাকায় যে উন্নয়ন ও সাংগঠনিক ভীত গড়েছেন তা-ই বিজয় সু-নিশ্চিত করবে।’

 

হাসান পিন্টু

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি