LalmohanNews24.Com | logo

৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জুন, ২০১৯ ইং

মনপুরায় যাতায়াতে দুর্ভোগ: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি!

মনপুরায় যাতায়াতে দুর্ভোগ: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি!

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। আর এ মনপুরা উপজেলায় যাতায়াতের অন্যতম রুট হচ্ছে তজুমদ্দিন-টু-মনুরা। তজুমদ্দিন হয়ে মনপুরার সাতে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সী-ট্রাক। আর এটি বন্ধ রয়েছে ২৬ দিন যাবত। দীর্ঘদিন সী-ট্রাকটি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিচ্ছেন সেখানকার মানুষ। সী- ট্রাকটি বন্ধ থাকার কারণে এপার-ওপারের যাত্রীদের চরম দূর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে।

মানুষ বাধ্য হয়ে ইঞ্জিন চালিত ছোট ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে। মানুষের নিত্যদিনের এহেন দূর্ভোগের চিত্র লাগবে প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সাধারন মানুষ।

সূত্রে জানা যায়, জেলার সাথে মনপুরা উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমই হচ্ছে নৌ পথ। এ রুটে বর্ষা মৌসুমে সি-ট্রাক ও শুষ্ক মৌসূমে লঞ্চ চলাচল হয়ে আসছিলো। গত ২৬ দিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে বন্ধ রয়েছে একমাত্র সি ট্রাক এস.টি শহীদ শেখ কামাল।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, মেঘনায় ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঞ্জার জোন ঘোষণা করে সরকার। এই সময় মেঘনায় বেক্রসিং সনদধারী নৌযান ব্যতিত সকল প্রকার নৌযান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে। কিন্তু সরকারী বরাদ্দকৃত সি-ট্রাকটি কিছু সময় সচল থাকে, আবার কিছু সময় অকেজ হয়ে পড়ে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে মনপুরা-টু-তজুমদ্দিন হয়ে যারা চলাচল করেন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ট্রলারে প্রয়োজনের তাগিদে যাতায়াত করছে। এতে একদিকে যেমন নৌ-দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ দুটোই ব্যায় হচ্ছে। যাত্রীরা জানান, জীবনের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে তারা ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ট্রলারে যাতায়াত করছে।

এদিকে ব্যাস্ত এই নৌ-রুটে প্রতিদিনই ব্যবসায়ীদের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল আসে তজুমদ্দিনসহ অন্যান্য উপজেলা থেকে। অনেক ব্যবসায়ী ভয়ে মালামাল আনতে পারছেননা। আবার যারা ঝুঁকি নিয়ে মালামাল ছোট ট্রলারে করে আনার সাহস করছেন তাদের বেশীরভাগ মালামালই ঢেউয়ের ছিটকে পড়ে ভিজে যায়। ফলে তাদের লাভের চেয়ে লোকসানের মাত্রাই বেশী হচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়ীদের মাঝেও ক্ষোভের কমতি নেই। তবে যাত্রীরা এ ধরনের দূর্ভোগ থেকে চিরস্থায়ী পরিত্রান চায়।

প্রতিদিন-ই কালবৈশাখী ঝড়ের আতংক বিরাজ করছে যাত্রীদের মাঝে। প্রতিদিনই আকাশটা কালো মেঘে ছেঁয়ে গিয়ে প্রচন্ড গতিতে দমকা হাওয়া বয়ে যায়। আর ঐ সময়ে এই যাত্রীবাহী ছোট ট্রলার যদি মেঘনা নদীর মাঝে চলমান থাকে তাহলে নৌ-দুর্ঘটনায় হতাহতের মত ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে মনপুরা সরকারি হাজিরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, জেলা শহরের সাথে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সীট্রাক। আর এ সি-ট্রাকটি বন্ধ রেখে টেন্ডারে পাওয়া সীট্রাক কর্তৃপক্ষ ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে। এই দ্বীপের মানুষ বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ ছোট ছোট মাছ ধরার ট্রলারের মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে। এদিকে প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার। তা নাহলে অতীতের মত নৌ-দুর্ঘটনায় প্রান হানীর আশংকা রয়েছে।

ভোলা বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক মোঃ নাছিম জানান, লোকবল সংকটের কারনে মেঘনা থেকে অনিরাপদ নৌযান বন্ধ করা যাচ্ছেনা। তারপরও সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রশাসনকে অভিযান পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে।

ভোলা বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারি পরিচালক (বন্দর কর্মকর্তা) মোঃ কামরুজ্জামান জানান, বেক্রসিং সনদ ব্যতিত সকল প্রকার নৌযান চলাচলে সরকারী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মেঘনায় নিরাপদ নৌযান চলাচলে ইতিমধ্যে ট্রাকফোর্স গঠন করা হয়েছে। দ্রæত মেঘনায় চলাচলকারী অনিরাপদ নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিআইডব্লিউটিসির সহকারি জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, মনপুরা-তজুমুদ্দিন রুটে যাত্রীবাহি সীট্রাক এস.টি শহীদ শেখ কামাল যান্ত্রিক ত্রæটির জন্য বন্ধ রয়েছে। দ্রæত এই রুটে যাতায়াত করবে যাত্রীবাহি সিট্রাকটি।
এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলার নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ জানান, মেঘনায় সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনিরাপদ নৌযানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতিমধ্যেই আমরা অনিরাপদে চলাচল নৌযান আটক করে আইনি ব্যাবস্থা গ্রহন করেছি। দ্রæত সিট্রাকটি চালুর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি