LalmohanNews24.Com | logo

১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মনপুরায় দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে মসজিদ-মাদ্রাসা সহ তিন শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত

মোঃ জসিম জনি মোঃ জসিম জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশিত : এপ্রিল ১৮, ২০১৮, ২২:২৫

মনপুরায় দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে  মসজিদ-মাদ্রাসা সহ তিন শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত

মাহবুবুল আলম শাহীন, মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি ॥ ভোলার মনপুরা উপকূলে দিনে-রাতে দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে একটি মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, একটি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুইটি মসজিদ সহ আধাপাকা ও টিনের প্রায় তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়। এছাড়াও একটি সিমেন্ট বোঝাই কার্গো ও ১২ টি মাছ ধরার ট্রলারের ক্ষতি হয়। এদিকে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন চর কলাতলী ও কাজীর চরে বাড়ীঘরের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার দিনে ৩ টার দিকে ও বধুবার রাত আড়াইটার সময় দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়।

সরেজমিনে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে তান্ডবে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪৬ টি বাড়িঘর সম্পূর্নরুপে বিধ্বস্ত হয়। আংশিক ক্ষতি হয় ৫৮ টি বাড়ি-ঘরের। এছাড়াও ১২টি মাছ ধরার ট্রলার সহ ২ টি মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মনপুরা ইউনিয়নে ৪৫ টি বাড়ি-ঘর সম্পূর্নরুপে বিধ্বস্ত ও শতাধিক বাড়ি-ঘরের আংশিক বিধ্বস্ত হয়। এছাড়াও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে একটি মহিলা দাখিল মাদ্রসা সহ ১৫ টি বাড়ি-ঘর সম্পূর্নরুপে বিধ্বস্ত হয়। আংশিক ক্ষতি হয় ২০ টি বাড়ি-ঘর সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে ৬টি বাড়ি-ঘর সম্পূর্নরুপে ও ২৫ টি বাড়ি-ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও দাসেরহাট এলাকায় সিমেন্ট বোঝাই কার্গো কাত হয়ে পড়ে গিয়ে ১৫ লক্ষ টাকার ৩ হাজার বেগ সিমেন্টর ক্ষতি হয়।

হাজীরহাট ইউনিয়নের সোনারচর গ্রামের মোঃ জাকির হোসেন ও মোঃ রাকিব জানান, গভীর রাতের দিকে হঠাৎ করে উত্তর- পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা প্রচন্ড ঝড়ের তান্ডবে আমাদের সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেছে। আমরা পথে বসে গেছি।

কলাতলীর চরের ১ নং মনপুরা ইউনিয়ের চর খালেক নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ সোহাগ জানান, আমাদের স্কুলটি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের এখন পাঠদান করাতে অনেক সমস্যা হবে। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে শিক্ষার্থীরা।

মনপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানত উল্যাহ আলমগীর জানান, দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বিচ্ছিন্ন কলাতলীর চরে। এছাড়াও প্রায় দেড় শতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় মেম্বাদের তালিকা করার জন্য বলা হয়েছে।

হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক জানান, কালবৈশাখীর তান্ডবে দুইটি মসজিদ ও ১২ টি মাছ ধরার ট্রলার সহ ১২০ টি বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে। তবে আনুমানিক তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল আজিজ ভূঞাঁ জানান, উপজেলা দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে মসজিদ-মাদ্রাসা সহ বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুতির কাজ করার জন্য চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি