LalmohanNews24.Com | logo

৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভোলায় সরিষার বাম্পার ফলন

ভোলায় সরিষার বাম্পার ফলন

মনিরুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন সংবাদাতা ।।
স্বল্প সময়ে, কম খরচে বেশি লাভের আশায় ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কৃষকরা আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল সরিসা চাষ করেছেন। সরিষা ফুলের হলুদ বরণে সেজেছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ফসলের মাঠগুলো। দেখলে মনে হয় প্রকৃতি যেন হলুদ সাজে সাজছে। প্রতিটি মাঠে সরিষার আবাদ হয়েছে চোখে পড়ার মতো। ডিসেম্বর মাসের হঠাৎ বৃষ্টি কৃষকদের কে সাময়িক বাধাগ্রস্ত করলে ও এবার আগাম জাতের সরিষার আবাদ করেছে এখানকার কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে এমন আশা করছেন চাষিরা। সরিষার ঘরে উঠার সাথে সাথে একই জমিতে আবার বোরো আবাদ করেন চাষীরা। প্রকৃতির দেওয়া এই সুবর্ন সুযোগ এখন কৃষকরা লুপে নিতে বেশ ব্যস্ত।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এখানে ৫১০ হেক্টর জমিতে সরিসা আবাদের হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৪৮৫ মেট্রিক টন। উচ্চফলনশীল বারি সরিষা- ১৪ ও ১৫,বিনা সরিষা -৪ এবং স্থানীয় টরি-৭, জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে।কৃষি অফিসার ইত্তেফাক কে জানান,বিন সরিষার-৪ ভোলার জলবায়ূ উপযোগী এবং ছত্রাক জনিত অলটারনেরিয়া রোগ সহনশীল। এছাড়া হেক্টর প্রতি উৎপাদন ১.২ থেকে ১.৪ মেট্রিক টন।এ জন্য বোরহানউদ্দিনের চাষীগন বিনা সরিষা-৪ চাষে বেশী আগ্রহী।
মঙ্গলবার বিকালে গংগাপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের চাষী আমির হোসেন এর সৌন্দর্যময় একটি ক্ষেত পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়,অবারিত সবুজের সমারোহ। বিধাতা যেন নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছে গংগাপুরের প্রকৃতিকে। তিনি জানান, তিন বিঘা জমিতে উন্নত জাতের বিনা-৪ সরিষার আবাদ করেছেন। ফলন ও ভাল হয়েছে।, আর কিছু দিনের মধ্যে ফসল ঘরে উঠবে। এখন ভাল দাম পেলেই হয়। প্রথম দিকে সরিষার দাম ভাল পাওয়া গেলেও পরবর্তিতে তেমন আর দাম পাওয়া যায়না। রাইখা দিয়ে, পরে বেচতে পারলে ভাল দাম পাওয়া যেত। কিন্তু আমির হোসেন এর মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের পক্ষে ফসল ধরে রাখা সম্ভব হয়না।ওই ক্ষেতে শাক তোলা অবস্থায় কথা হয় আমেনা বেগম (৪৩) সাথে। তিনি বলেন, অনেক ম্যাইয়া এবং পোলারা ক্ষেতে আইসয়া ফটো তোলে।
চর লতিফ এলাকার কৃষক অহিদ সর্দ্দার, শামীম, ফখরুল বলেন, ডিসেম্বর মাসের হঠাৎ বৃষ্টির কারণে আমন ঘরে তুলতে যে ক্ষতি হয়ছে , তা পুষিয়ে নিতে আগাম জাতের সরিষার আবাদে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা। এছাড়াও সরিষা উৎপাদনে কম সার, সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল হয়ে থাকে। আবার ওই জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। প্রতি হেক্টরে সরিষার পরিমাণ ১২০০ থেকে ১৪০০ মণ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

লক্ষীপুর ১নং ওর্য়াডরে অহিদ ,কাচিয়া ইউনিয়নের চকডোস গ্রামের কৃৃৃষক আলমগীর ও নুরুল ইসলাম, বড় মানিকা ৩নং ওয়ার্ডের মনির,আব্দল মালেক জানান , সরিষার গাছ ভালো হয়েছে। ভালো ফুল ফুটেছে বলে ভালো ফলনও আশা করা যায়। সরিষার ফুলে ফুলে হলুদ বর্ণের বর্ণিল জমি গুলোতে আশে পাশে দুর দুরান্ত থেকে স্কুল কলেজের সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকরা বেড়াতে আসছেন। আবার সরিষার ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার জন্য অনেক তরুণ-তরুণীরা ক্যামারা ও ভিডিও মাধ্যমে নিজের ছবির সাথে সরিষার ফুলের ছবি ধরে রাখছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ওমর ফারুক বলেন, সরিষা একটি আগাম ফসল। ৭৫থেকে ৮৫দিনের মধ্যে ফসল পাওয়া যায়। এরপর বোরো আবাদ করা যায়। এ জন্য কৃষক সরিষা চাষে আগ্র্রহী। এবার সরিষার আবাদ একটু দেরীতে হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। #

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি