LalmohanNews24.Com | logo

১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভোলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

ভোলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগ

ভোলার সদর উপজেলার ২নং ইলিশা ইউনিয়নের ৫৭ নং দক্ষিন পূর্ব ইলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি জবর দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বাড়ীর মোঃ রুবেল ও আবুল কালামের পরিবারের সদস্যদের বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত জমি জবর দখল করে টিনের ঘর নির্মাণ করছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাধা দিলে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে পরিবারটি।

সরোজমিনে এলাকাবাসী ও স্কুলের শিক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী জানা যায় যে, গত ১৬ই অক্টোবর অানুমানিক রাত ১০ টার সময় বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির মোঃ রুবেল, আবুল কালাম, শেখ ফরিদ, রাসেল, আলাউদ্দীন, স্বপ্না (পিতা মৃত সাদেক),রেণু (স্বামী মৃত সাদেক) ও শাহানাজ ( স্বামী শেখ ফরিদ) বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারনের জমির ফিলার তুলে ফেলে এবং পরবরর্তীতে তাদের সুবিধামত জায়গায় ফিলারটি স্থাপন করে বিদ্যালয়ের জমি দখল করেন।

খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইলিয়াছ , এসএমসি এর সভাপতি মোশারেফ হোসেনসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষকগন ঘটনাস্থলে গিয়ে দখলদারদের কে বাধা দিলে, দখলদারেরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং এক পর্যায়ে লাঠি ও দা নিয়ে শিক্ষকদের উপর আক্রমন করতে অাসলে, প্রাণের ভয়ে শিক্ষকগন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।পরবরর্তীতে তাদের সুবিধামত জায়গায় ফিলারটি স্থাপন করে বিদ্যালয়ের জমি দখল করেন। দখলদার মোঃ রুবেল ও আবুল কালাম বলেন, অামরা জানি না এটা কিভাবে স্কুলের জমি। তবে এখানে অামাদের পুর্বপুরুষদের দলিল অনুযায়ী এই জমির মালিকানা অামাদের দেওয়া উচিত। বৈধ কাগজপত্র দেখেই জমিতে ঘর বানিয়ে বসবাস করছি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কে লাঠি ও দা নিয়ে আক্রমন করার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন। স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া জানান, ‘আমরা অনেক আগেই দেখেছি ওই জমি স্কুলের নামে আছে। এখন শুনছি অন্যরা ওই জমি দখল করে টিনের ঘর তুলেছে। কি করে তারা মালিক হলো এটা বুঝতে পারছি না। ২ নং ইলিশা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ ফকরুল জানান, অামরা এই ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে শালিস করেছি, বিদ্যালয়ের জমির কিছু অংশ রুবেল ও আবুল কালামের পরিবার ভোগ করতেছে, এই পরিবারটি নিতান্তই গরিব ও অসহায় হওয়ার কারনে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে অামরা বিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ কে এই দখলকৃত জমিটকু ঐ পরিবারটিকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করি, কিন্তু কতৃপক্ষ অামাদের অনুরোধটুকু না শুনে থানায় অভিযোগ করেন।

বিদ্যালয়েরর জমি দখলমুক্ত করার জন্য গত ১৭ ই অক্টোবর প্রধান শিক্ষক মোঃ ইলিয়াছ মিয়া ও অন্যান্য সহকারী শিক্ষকগণ ও এসএমসি এর সভাপতি মোশারেফ হোসেনসহ সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভোলা সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশের এস আই আবু সাইদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দখলদারদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করে দেখেন যে, তাদের দলিলে উল্লেখিত জমির মালিক এসহাক তার সমস্ত জমি স্কুলের জমির দাতা মোতাহার হোসেন এর কাছে ১৯৫৬ সালে বিক্রি করেছিলো, দলীল অনুযায়ী এসহাক ও ছেলে দেলোয়ারের এর কোনো জমির মালিকানা নেই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইলিয়াছ মিয়া জানান, দখলদারেরা ভুয়া দলিল বানিয়ে বিদ্যালয়ে অনাধিকার বলে প্রবেশ করে বিদ্যালয়ের জমি দখল করেছে। অামরা এই ব্যাপারে থানা অভিযোগ করার পর পুলিশ এসে সব পর্যালোচনা করে দখলদারদের সাথে হাসিমুখে কথা বলে চলে গেছে। এখনো পর্যন্ত বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখিনি।এখন বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ ও কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীরা দখলদারদের ভয়ে আতংকে আছে । তিনি এই ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছগীর মিয়া বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় অামাদের দেখার সুযোগ নেই, যেহেতো এটি বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত সমস্যা এই বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখবেন, তবে এই ব্যাপারে ফৌজদারী কোনো মামলা হলে অামরা অবশ্যই যথাযথ ব্যাবস্থা নিবো। এই ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সামছুল অালম দেওয়ান বলেন, বিষয়টি অামরা অবগত অাছি, বিষয়টি অামাদের ডিপার্টমেন্টালভাবে প্রসেস করতেছি, অাশা করি বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিষয়টি খুব শীগ্রহী সমাধান হবে।

Facebook Comments Box


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি

error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!! মোঃ জসিম জনি