LalmohanNews24.Com | logo

৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

ভোলায় আমনের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

ভোলায় আমনের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

চলতি মৌসুমে ভোলা জেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে মাঠে কৃষকদের দিগন্ত বিস্তৃত সোনালী ফসল। ফলন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উৎফুল্ল দেখা দিলেও বাজার মূল্য নিয়ে হতাশায় কৃষক। উৎপাদন ব্যয় থেকে কম দামে ধান বিক্রি করার কারনে বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর জেলায় আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি। জেলার সাত উপজেলায় আমনের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫ হেক্টর। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর, দৌলতখান উপজেলায় ১৬ হাজার ৫৪৫ হেক্টর, বোরহানউদ্দনি উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টর, তজুমদ্দনি উপজেলায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর, লালমোহন উপজেলায় ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর, চরফ্যাশন উপজেলায় ৭০ হাজার ৩৩৪ হেক্টর এবং মনপুরা উপজেলায় ১২ হাজার ৩১০ হেক্টর। ধারণা করা হচ্ছে এ বছর ৪ লাখ ২৮ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে। গত বছর জেলায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। তবে ভোলায় আমনের চাহিদা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৮ টন। বাকি চাল জেলার বাইরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, জেলার সবচাইতে বেশি আমনের আবাদ হয়েছে চরফ্যাশন উপজেলায়। সেখানে এ বছর ৭০ হাজার ৩৩৪ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ৬৪টি ব্লকে এ ধানের আবাদ হয়।

সরোজমিনে ভোলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে যে, এসব এলাকার কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা নিয়ে ধান কাটা শুরু করলেও সংশয়ের মধ্যে দিনযাপন করছেন। ফসল ভালো হলেও বাজার দর কম হওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যয় বাদে লাভের মূখ দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকরা ফসল উৎপাদনের জন্য জমি তৈরি ও রোপন, পরিচর্চাসহ অন্যান্য খরচাদি বহন করতে ধারদেনা করে চলেছেন। এখন ফসল বিক্রি করে সেসব ঋণ পরিশোধ করার কথা থাকলেও ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায়া চিন্তিত রয়েছেন কৃষকরা।

চরফ্যাসন উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের কৃষক শাহে অালম, মোজাম্মেল মিয়া জানান, এবার জমিত ভালো ধান ফলেছে। তবে বাজারে ধানের দাম একেবারে কম। ধানের প্রতি মন ৪ থেকে ৫শ’ টাকা করে কিনছেন আড়ৎদাররা মহাজনীরা।

লালমোহন উপজেলার চরউমেদ ইউনিয়নের কৃষক শফি মিয়া , জামাল হোসেনও হতাশ সুরে বলেন, এবার মাঠে এক মণ আমন ধান উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে পাঁচ থেকে ছয়শ’ টাকা। আর বাজার মূল্য হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকা। এতে দেখাশুনাই এক থেকে দেড়শ’ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের কৃষক সেলিম বলেন, ৮০ শতাংশ জমি বর্গা চাষ করেছি। তাতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। ধান উৎপাদন হয়েছে ৪০ মণ। জমির মালিককে দিতে হয়েছে ২০ মণ। বাকি ২০ মণ আমন বিক্রি করেও উৎপাদন খরচের টাকা উঠেনি। অনেক টাকা লোকসান হয়।

কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, জেলায় আমনের মধ্যে সাধারণত বিআর-১১, ২২, ২৩, ব্রীধান-৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৪, ৪৬, ৫১, ৫২, ব্রী ধান ৭, ৬২ চাষ করা হয়। স্থানীয় জাতের মধ্যে রাজা সাইল, কাজল সাইল, মধুমালতি, কালাগোড়া, কালিজিরা ইত্যাদীর চাষ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ না করায় বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলনে কৃষকরা খুশি হয়েছে। কিন্তু ভালো দাম না পাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফোটেনি।

হাসান পিন্টু

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি