LalmohanNews24.Com | logo

৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

ভোলায় বোরো আবাদ নির্ভর করছে জোঁয়ার ভাটার উপর

ভোলায় বোরো আবাদ নির্ভর করছে জোঁয়ার ভাটার উপর

মনিরুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা :
দ্বীপের রাণী ভোলা কে বলা হয় শষ্য ভান্ডার। কৃষি অর্থনীতির উপর এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা।জেলার মানুষ তাদের শ্রম আর বুদ্বিমত্তা দিয়ে কৃষি ও তার উপখাতেক সমৃদ্ধ করছে।বছরে একই জমিতে তিন ফসল কিংবা সাথী ফসল চাষ করে জীবনমান উন্নয়ন করছৈ এ খাতের দ্বারা। বর্তমানে এ খাতের চলছে ইরি- বোরো আবাদ।বিদ্যমান খালসমুহের মধ্যে অধিকাংশ জবর দখলে কিংবা পলি জমে ভরাট ও নাব্যতা সংকটে রয়েছে। পানি সংকটে জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কৃষকগন বোরো আবাদে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ সব কারণে যথসময়ে,বীজতলা তৈরী,জমি প্রস্তুত কিংবা রোপণ কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতি কে আরো স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কৃষি বান্ধব এ সরকারেক কৃষি জমিতে সেঁচের পানি সরবরাহে সচেষ্ট থাকতে হবে এমন দাবী প্রান্তিক চাষীদের।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায,চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৭হাজার ২শত হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যার বিপরীতে ৪৮৩হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করা হয়েছে। যার মধ্যে উচ্চফলনশীল ৪২০ হেক্টর,হাইব্রিড ৩হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৬০ হেক্টর। স্থানীয়কৃষকদের মতে ইরির আবাদ এখানে অনেক।


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,এখানকার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সাচড়া,কাচিয়া,দেউলা,পক্ষিয়া,কুতুবা ও বড় মানিকা ইউনিয়নের ১৪টি খালের দৈর্ঘ্য ৮৪.৭৫ কিলোমিটার।যার মধ্যে খনন যোগ্য দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬৮.৭৫ কিলোমিটার। সাচড়া ইউনিয়নের দেউলা সাচড়া সংযোগ খাল(৪.৫কিঃমিঃ),কাচিয়া ইউনিয়নের তারা বান্দ খাল (২.৫ কিঃমিঃ) কাচিয়া চকডোষ এলাকার মুচির খাল(৭কিঃমিঃ)গুড়িবা খাল(১.৫কিঃমিঃ),দেউলা ইউনিয়নের সবুজ খাল(১০কিঃমিঃ),পক্ষিয়া ইউনিয়নের নয়ামিয়া খাল(৪কিঃমিঃ) মধুমতির খাল(৮কিঃমিঃ) সমুহ সম্পূর্ন বাকী ৭টি খালের অধিকাংশেরই দুই-তৃতীয়াংশ নাব্যতা সংকটে হারিয়ে গেছে।সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায় ,উপজেলায় খালের সংখ্যা ১১টি।যার মধ্যে নাব্যতা সংকট কিংবা জবরদখলে আছে কয়েকটি।
দেউলা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাছির খান তার কর্ম এলাকায় বোরো চাষে পানির সংকট উল্লেখ করে বলেন, তালুকদার বাড়ী থেকে মোল্লা বাড়ী পর্যন্ত ছেনির খাল খনন হলে তার ইউনিয়েন কমপক্ষে আর ও ১০০ একর জমির বোরো আবাদ বেশী হতো।গংগাপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আলম,পক্ষিয়া ইউনিয়নের খায়রুল আলম মুন্সি, কুতুবা ইউনিয়নের বিশ্বজিৎ দে,কাচিয়া ইউনিয়নের কার্তিক চন্দ্র মজুমদার,টবগী ইউনিয়নের মমিন ভুঁইয়া জানান এখানকার বোরো আবাদের পরিমান বাড়াতে হলে সবার আগে ওই সমস্ত খালগুলো খননা করা উচিত। কৃষক জাহাঙ্গীর মাঝি ও সৈয়দ মাতাব্বর,কাচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আশুতোষ অধিকারী, সামছুদ্দিন জানান,খালগুলো ভরাট থাকায় নদী থেকে জমিতে পানি আনা যায় না।চারা বড় হলে পানির সমস্যাই বেশী থাকে।পক্ষিয়া ৫নং ওয়ার্ডের কৃষক ইউছুব,৩নং ওয়ার্ডের নুরনবী,নাছির,রবি আলম ,কাজল,টবগী ইউনিয়নের ছিদ্দিক,বাসু মিয়া,রিপন চন্দ্র দাস জানায়, তারা বোরো চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।কিন্তু পানি সংকটেরকারনে রোপনে বিলম্ব হচ্ছে । যার কারণে মেঘনা –তেতুলিয়া নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি জোয়ার না থাকলে ওই নদীর সাথে সংযোগকৃত এ সমস্ত খালে পানি প্রবাহ সম্ভব হয়না।তাছাড়া খালসমুহে নাব্যতা সংকটের কারনে বেশী পানি সরবরাহ করা সম্ভব নয়।নদীতে পানি কম থাকলে বিষয়টি আরো সংকটাপন্ন হয়। উল্লেখিতদের মতে পানির সমস্যা সমাধান হলে এ উপজেলার বোরো আবাদের পরিমান ২৫-৩০ ভাগ অনায়াসে বৃদ্বি পেত।


গংগাপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া রিভার ইকোপার্ক এলাকায় ইরি -৪৪ ধান রোপন কালে কথা হয় চাষী নাছির এর সাথে।তিনি জানান এ বছর তিনি২৫৬ শতাংশ জমিতে ইরি ধান রোপন করছেন। আমন আবাদের পর কৃষকরা বীজতলা ও জমি প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।কিন্তু নদীর পানির প্রবাহ অত্যন্ত ক্ষীণ থাকার কারনে ব্যাঘাত ঘটে ও কার্যে।যার জন্য কৃষকদের ভরা জোয়ারের অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়।অধিকাংশ খাল-বিলের অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে অনেক আগেই। শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো থেকে মৃতপ্রায় খালগুলোর পানিশূন্যতা এবং কৃষি সেচের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক
নদী ও পানির অভাবে আমাদের ফসলচক্র ভেঙ্গে গেছে, কৃষক হারিয়েছে প্রাকৃতিক জৈবসারের উৎস। আবাদি কৃষি জমি হারিয়েছে প্রকৃতি থেকে প্রাপ্য উর্বরতা। ক্রমবর্দ্ধমান এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটানোর একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমিত জমিতে অধিক ফসল ফলানো
ভোলা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (সেচ) সিরাজুল ইসলাম জানান,বোরহানউদ্দিনে অনেক খাল খননের প্রয়োজন।খালের দু পাশে গাছ থাকার ভেকু দিয়ে খনন করা যায় না।গাছ কাটতে গেলে জনগনের বাধার সস্মুখিন হতে হয়।অনেকে আবার মামলা করে।তবে নাব্যতা সংকটে কি পরিমান খাল আছে তার পরিসংখান তাদের কাছে নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ওমর ফারুক জানান, মুল খালের গোড়া থেকে শাখা খাল সমূহে পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য সাময়িকভাবে বাধ দিয়ে সেচ দেওয়া কিংবা রাবার ড্রেম দেওয়া যেতে পারে।তবে শাখা খাল সমূহের মধ্যে অবস্তিত স্কিম ম্যানেজারগন সুবিদামতো সময়ে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পারবে।এতে করে ২০-২৫ভাগ আবাদের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

Facebook Comments


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়

লালমোহন, ভোলা

মোবাইলঃ 01712740138

মেইলঃ jasimjany@gmail.com

সম্পাদক মন্ডলি